বৃহস্পতিবার, ১১ জুন, ২০২৬

আদ্-দ্বীন হাসপাতালের লাইসেন্স বাতিল


রাজধানীর মগবাজারের আদ্-দ্বীন হাসপাতালে ছয় নবজাতকের অস্বাভাবিক ও মর্মান্তিক মৃত্যুর ঘটনায় হাসপাতালটির লাইসেন্স বাতিল ঘোষণা করেছে সরকার। স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় গঠিত উচ্চপর্যায়ের তদন্ত কমিটির প্রতিবেদনে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের চরম ‘অবহেলা ও গাফিলতির’ প্রমাণ পাওয়ার পর এই শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হলো। বৃহস্পতিবার বিকেলে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক ডা. প্রভাত চন্দ্র বিশ্বাস আনুষ্ঠানিকভাবে এই লাইসেন্স বাতিলের ঘোষণা দেন।

১১ জুন ২০২৬, ৪:৩৩ অপরাহ্ণ 

আদ্-দ্বীন হাসপাতালের লাইসেন্স বাতিল
  গুগল নিউজে ফলো করে আজকের প্রসঙ্গ এর সাথে থাকুন

গত ২৭ মে ভোরে আদ্-দ্বীন হাসপাতালের পোস্ট-অপারেটিভ বা পোস্ট-ডেলিভারি ওয়ার্ডে ভর্তি থাকা ছয়টি নবজাতক মাত্র কয়েক ঘণ্টার ব্যবধানে ছটফট করতে করতে মারা যায়। ঈদের আগের দিন বুধবার সকালের এই মর্মান্তিক ঘটনার পর দেশজুড়ে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়। ঘটনাটির তদন্তে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর তাৎক্ষণিকভাবে একটি উচ্চপর্যায়ের তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করে।

সম্প্রতি তদন্ত কমিটি তাদের চূড়ান্ত প্রতিবেদন জমা দেয়, যেখানে হাসপাতালের চরম অব্যবস্থাপনার চিত্র উঠে এসেছে। প্রতিবেদনে বলা হয়, যে ওয়ার্ডটিতে নবজাতকদের রাখা হয়েছিল, সেটি মূলত সদ্য প্রসব হওয়া শিশু এবং অস্ত্রোপচার-পরবর্তী রোগীদের রাখার জন্য কোনোভাবেই উপযুক্ত ছিল না। সেখানে পর্যাপ্ত আলো-বাতাসের তীব্র সংকট ছিল। এমনকি ওয়ার্ডের শীতাতপ নিয়ন্ত্রণ (এসি) ব্যবস্থাও ছিল অত্যন্ত অপ্রতুল এবং তা নিয়মিত চালানো হতো না।

তদন্তে আরও এক চাঞ্চল্যকর তথ্য বেরিয়ে এসেছে। ঘটনাটি যখন ঘটে, তখন ওই গুরুত্বপূর্ণ ওয়ার্ডে দায়িত্বপ্রাপ্ত কোনো চিকিৎসক উপস্থিত ছিলেন না। শিশুদের শারীরিক অবস্থার অবনতি হতে থাকলেও সময়মতো তাদের কোনো জরুরি চিকিৎসাসেবা দেওয়া হয়নি। নার্স এবং উপস্থিত স্টাফদের চরম দায়িত্বজ্ঞানহীনতা ও গাফিলতির প্রমাণ পেয়েছে কমিটি।

অথচ, তদন্ত প্রতিবেদনে স্পষ্ট করে উল্লেখ করা হয়েছে যে, জন্মের পর প্রতিটি নবজাতকের শারীরিক অবস্থা সম্পূর্ণ স্বাভাবিক ও সুস্থ ছিল। প্রসব-পরবর্তী কোনো জটিলতা না থাকায় তাদের জন্য বিশেষ কোনো চিকিৎসা কিংবা ইনকিউবেটরের প্রয়োজন ছিল না। কেবল হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের প্রশাসনিক ত্রুটি, কাঠামোগত সীমাবদ্ধতা, তদারকির অভাব এবং হঠাৎ তৈরি হওয়া জরুরি পরিস্থিতিতে সঠিক ব্যবস্থা না নেওয়ার কারণেই এই প্রাণহানির ঘটনা ঘটেছে।

তদন্ত কমিটির সুপারিশ এবং স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের কঠোর নির্দেশনার প্রেক্ষিতে আজ হাসপাতালটির লাইসেন্স চূড়ান্তভাবে বাতিল করা হলো।