প্রধানমন্ত্রী বেরিয়ে দেখলেন রাস্তায় কুরবানির বর্জ্য, দুই কর্মকর্তা বরখাস্ত
৩১ মে ২০২৬, ৭:২৩ অপরাহ্ণ
ঈদ-পরবর্তী সময়ে রাজধানী ঢাকা ও এর আশেপাশের জেলাগুলোতে কর্মমুখী মানুষের চাপ সবচেয়ে বেশি থাকে। এই বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে বিআরটিএ-এর চেয়ারম্যান এবং বিভাগীয় পরিচালক (ঢাকা বিভাগ)-এর পক্ষ থেকে ঢাকা ও আশেপাশের এলাকার জন্য বিশেষ নির্দেশনা ও তদারকি ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। সাধারণ মানুষের কর্মস্থলে নিরাপদে ও নির্বিঘ্নে ফিরে আসা নিশ্চিত করতে দেশব্যাপী কঠোর নজরদারি ও নানামুখী কার্যক্রম জোরদার করেছে বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআরটিএ)।
বিআরটিএ-এর চেয়ারম্যান মহোদয় মাঠ পর্যায়ের সকল কর্মকর্তা ও মোবাইল কোর্টকে নির্দেশ দিয়েছেন যেন রাজধানীমুখী কোনো পরিবহনে অতিরিক্ত যাত্রী বহন বা অতিরিক্ত ভাড়া আদায় করা না হয়। বিশেষ করে গাবতলী, মহাখালী, সায়েদাবাদ ও ফুলবাড়িয়া টার্মিনালসহ ঢাকা ঢোকার প্রবেশমুখগুলোতে (যেমন: সাভার, আশুলিয়া, গাজীপুর, নারায়ণগঞ্জ ও কেরানীগঞ্জ) নজরদারি দ্বিগুণ করার নির্দেশ দিয়েছেন তিনি। ফিটনেসবিহীন ও রুট পারমিটহীন কোনো গাড়ি যেন রাজধানীতে প্রবেশ করতে না পারে, সে বিষয়ে শূন্য সহনশীলতা (জিরো টলারেন্স) নীতি অনুসরণের আদেশ দেওয়া হয়েছে।
ঈদ-পরবর্তী সময়ে সড়ক দুর্ঘটনা প্রতিরোধে বিআরটিএ কর্তৃক গৃহীত বিশেষ পদক্ষেপসমূহের মধ্যে রয়েছে:
কেন্দ্রীয় কন্ট্রোল রুম: দেশের সামগ্রিক পরিবহন পরিস্থিতি সার্বক্ষণিক পর্যবেক্ষণ ও সমন্বয়ের জন্য বিআরটিএ-এর কেন্দ্রীয় কন্ট্রোল রুম সক্রিয়ভাবে কাজ করছে।
দেশজুড়ে মোবাইল কোর্ট পরিচালনা: সড়ক পরিবহন আইন অমান্যকারী এবং ফিটনেসবিহীন যানবাহনের বিরুদ্ধে তাৎক্ষণিক আইনগত ব্যবস্থা নিতে দেশজুড়ে বিআরটিএ-এর ৬১টি মোবাইল কোর্ট একযোগে মাঠে নিয়োজিত রয়েছে।
ভিজিলেন্স টিমের তৎপরতা: ঢাকা মেট্রোপলিটন এলাকার ৪টি প্রধান টার্মিনালসহ দেশের প্রতিটি জেলার বাস টার্মিনালগুলোতে বিআরটিএ, জেলা প্রশাসন, পুলিশ বিভাগ এবং সড়ক পরিবহন মালিক-শ্রমিক নেতৃবৃন্দের সমন্বয়ে গঠিত ভিজিলেন্স টিম সার্বক্ষণিক দায়িত্ব পালন করছে।
চালক ও হেলপারদের সচেতনতামূলক ব্রিফিং: টার্মিনালগুলো থেকে গাড়ি ছাড়ার প্রাক্কালে চালক ও সহকারীদের (কন্ডাক্টর) নিরাপদে যানবাহন চালনা ও ট্রাফিক আইন মেনে চলার বিষয়ে বিশেষ সচেতনতামূলক ব্রিফিং দেওয়া হচ্ছে। এরই অংশ হিসেবে, বিআরটিএ সার্কেল কর্তৃক বিভিন্ন রুটে বাস ছাড়ার আগে চালকদের নির্ধারিত গতিসীমা অনুসরণ, বেপরোয়া ওভারটেকিং পরিহার এবং ট্রাফিক আইন মেনে চলার বিষয়ে কঠোর নির্দেশনা ও সতর্কতামূলক বক্তব্য প্রদান কার্যক্রম চলমান রয়েছে।
মাইকিং ও জনসচেতনতা বৃদ্ধি: অতিরিক্ত গতি ও বেপরোয়া ওভারটেকিং নিয়ন্ত্রণের লক্ষ্যে বিআরটিএ-এর প্রতিটি সার্কেল থেকে বিভিন্ন টার্মিনাল ও গুরুত্বপূর্ণ মোড়গুলোতে মাইকিং করা হচ্ছে। এছাড়াও নিজ নিজ জেলার গুরুত্বপূর্ণ স্থানগুলোতে মাইকিংয়ের মাধ্যমে সড়ক নিরাপত্তা বিষয়ক বিভিন্ন নির্দেশনা প্রচার করছে।
ফিটনেস ও লাইসেন্স পরীক্ষা: দূরপাল্লার বাসগুলো রাজধানীতে প্রবেশের সময় চালকের ড্রাইভিং লাইসেন্স এবং গাড়ির ফিটনেস ও ট্যাক্স টোকেন পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে পরীক্ষা করা হচ্ছে।
শাস্তিমূলক ব্যবস্থা: আইন অমান্যকারী, অতিরিক্ত গতিতে গাড়ি চালানো এবং অতিরিক্ত ভাড়া আদায়ের অপরাধে ইতিমদ্ধেই বেশ কিছু পরিবহনের বিরুদ্ধে মামলা ও জরিমানা আদায় করা হয়েছে এবং এই অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
বিআরটিএ ঢাকা বিভাগের বিভাগীয় পরিচালকের সরাসরি তত্ত্বাবধানে রাজধানী ও এর আশেপাশের জেলাগুলোতে সার্বক্ষণিক মনিটরিং চলছে।
বিআরটিএ-এর পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, ঢাকা জেলাসহ দেশের সকল বিভাগে এই বিশেষ তদারকি কার্যক্রম জোরদার করা হয়েছে। যাত্রীসাধারণের নিরাপদ যাত্রা নিশ্চিত করতে এবং ঈদ-পরবর্তী সড়ক দুর্ঘটনা শূন্যের কোঠায় নামিয়ে আনতে বিআরটিএ-এর এই কঠোর অবস্থান ও বহুমুখী কার্যক্রম আগামী দিনগুলোতেও অব্যাহত থাকবে।