মঙ্গলবার, ২৮ জুলাই, ২০২৬

বিশ্ববাজারে তেলের দামে বড় পতন


যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে কূটনৈতিক সমাধানের সম্ভাবনা জোরালো হওয়ায় আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের দামে বড় ধস নেমেছে। একদিনেই ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ১০ শতাংশের বেশি কমেছে, যা মধ্যপ্রাচ্য পরিস্থিতি নিয়ে বিনিয়োগকারীদের উদ্বেগ অনেকটাই কমিয়ে দিয়েছে।

২৮ জুলাই ২০২৬, ৯:৫৭ পূর্বাহ্ণ 

বিশ্ববাজারে তেলের দামে বড় পতন
  গুগল নিউজে ফলো করে আজকের প্রসঙ্গ এর সাথে থাকুন

যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে কূটনৈতিক সমাধানের সম্ভাবনা জোরালো হওয়ায় আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের দামে বড় পতন ঘটেছে। মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা প্রশমনের ইঙ্গিত এবং তেল সরবরাহ পরিস্থিতির উন্নতির কারণে সোমবার (২৭ জুলাই) বিশ্ববাজারে ব্রেন্ট ও ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েট (ডব্লিউটিআই) উভয় ধরনের অপরিশোধিত তেলের দাম উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে।

সংবাদমাধ্যম আনাদোলুর তথ্য অনুযায়ী, বাংলাদেশ সময় সোমবার রাত ১২টা ৪৫ মিনিট পর্যন্ত আন্তর্জাতিক মানদণ্ড ব্রেন্ট ক্রুড প্রতি ব্যারেল বিক্রি হয়েছে প্রায় ৮৮ দশমিক ৬০ মার্কিন ডলারে। আগের দিনের ৯১ দশমিক ৬৮ ডলার থেকে এর দাম ১০ দশমিক ৪ শতাংশ কমেছে। একই সময়ে যুক্তরাষ্ট্রের মানদণ্ড ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েট (ডব্লিউটিআই) অপরিশোধিত তেলের দাম ৮ শতাংশ কমে প্রতি ব্যারেল ৮২ দশমিক ৩৫ ডলারে নেমে আসে।

এর আগে হরমুজ প্রণালি ও বাব আল-মান্দেব প্রণালি দিয়ে জাহাজ চলাচল ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কায় মধ্যপ্রাচ্য থেকে তেল সরবরাহ কমে যেতে পারে-এমন উদ্বেগে গত সপ্তাহে ব্রেন্ট ক্রুডের দাম সাময়িকভাবে প্রতি ব্যারেল ১০০ ডলারে পৌঁছেছিল। তবে প্রায় দুই সপ্তাহ ধরে চলা উত্তেজনার পর গত শুক্রবার যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের বিরুদ্ধে সম্ভাব্য সামরিক হামলা স্থগিত করার ঘোষণা দিলে বাজারে স্বস্তি ফিরে আসে। এরপর থেকেই তেলের দাম নিম্নমুখী হতে শুরু করে।

সোমবার ট্রাম্প জানান, ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে ‘ভালো আলোচনা’ চলছে এবং একটি সমঝোতায় পৌঁছানোর সম্ভাবনা রয়েছে। তবে আলোচনা ব্যর্থ হলে আবারও সামরিক পদক্ষেপ নেওয়া হতে পারে বলেও তিনি সতর্ক করেন। অন্যদিকে, ইরানও জানিয়েছে তারা পাল্টা সামরিক অভিযান স্থগিত করেছে এবং হরমুজ প্রণালিতে নৌ চলাচল স্বাভাবিক রাখতে ওমানের সঙ্গে আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছে।

এদিকে, কাজাখস্তানের তেল রপ্তানির অন্যতম প্রধান রুট রাশিয়ার কৃষ্ণ সাগর উপকূলে অবস্থিত ক্যাস্পিয়ান পাইপলাইন কনসোর্টিয়াম (সিপিসি) টার্মিনাল থেকে আবারও অপরিশোধিত তেল পরিবহন শুরু হয়েছে। এতে বৈশ্বিক বাজারে সরবরাহ পরিস্থিতির উন্নতি হওয়ায় দামের ওপর আরও চাপ তৈরি হয়েছে। তবে বাজারে পুরোপুরি স্বস্তি এখনো ফিরেনি। ইয়েমেনের হুথি গোষ্ঠী সৌদি আরবের রাষ্ট্রীয় তেল কোম্পানি সৌদি আরামকোর জিজান ও ইয়ানবু সংশ্লিষ্ট স্থাপনায় হামলার দাবি করেছে। ফলে মধ্যপ্রাচ্যের নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ে বিনিয়োগকারীদের মধ্যে কিছুটা সতর্কতা এখনো বজায় রয়েছে।