প্রধানমন্ত্রী বেরিয়ে দেখলেন রাস্তায় কুরবানির বর্জ্য, দুই কর্মকর্তা বরখাস্ত
৩১ মে ২০২৬, ১০:০৯ পূর্বাহ্ণ
বর্তমান সময়ে বিশ্বজুড়ে ফুসফুসের ক্যানসার এক ভয়াবহ আকার ধারণ করছে। কেবল ধূমপান বা পরিবেশ দূষণই নয়, ফুসফুসের ক্যানসারের অন্যতম প্রধান কারণ হলো জিনের রাসায়নিক বদল। দুঃখজনক বিষয় হলো, ফুসফুসে একবার ক্যানসার বাসা বাঁধলে তা প্রচলিত কেমোথেরাপি বা রেডিওথেরাপিতেও সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণে আনা যাচ্ছে না, বরং দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে রোগীর প্রাণসংশয় ঘটাচ্ছে। এই জটিল পরিস্থিতি থেকে রোগীকে মুক্তি দিতে কেমো বা রেডিওথেরাপির বিকল্প হিসেবে এসেছে নতুন এই ইমিউনোথেরাপি পদ্ধতি, যা ইতিমধ্যেই অনুমোদন লাভ করেছে।
গবেষকদের দাবি, এই পদ্ধতিতে রোগীকে ক্যানসারের যন্ত্রণাদায়ক চিকিৎসার জন্য দিনের পর দিন হাসপাতালে কাটাতে হবে না। সুইস সংস্থা 'রশ' যে বিশেষ ওষুধটি এনেছে, তার নাম ‘অ্যাটেজোলিজুমাব’ (Atezolizumab)। এটি একটি নির্দিষ্ট ডোজে ইনজেকশনের মাধ্যমে রোগীর শরীরে পুশ করা হবে। এই ওষুধের মূল কাজ হলো ক্যানসার সৃষ্টিকারী প্রোটিনকে বেঁধে ফেলা, যাতে সেটি শরীরে দ্রুত বিস্তার লাভ করতে না পারে।
শরীরের নিজস্ব রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতাই হবে হাতিয়ার
কেমোথেরাপির মতো এই পদ্ধতিতে রোগীর কোনো শারীরিক যন্ত্রণা হবে না। ইমিউনোথেরাপির মূল মেকানিজম হলো শরীরের নিজস্ব রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতা বা ইমিউনিটিকে বহুগুণ বাড়িয়ে দেওয়া। এর ফলে শরীরের ভেতরে ঝিমিয়ে পড়া প্রতিরোধী কোষগুলো আবার জেগে ওঠে এবং ক্যানসার কোষগুলোর বিরুদ্ধে লড়াই করে সেগুলোকে পাকাপাকিভাবে নির্মূল করে।
জিনের রাসায়নিক বদল ঠেকাবে এই প্রযুক্তি
গবেষণায় দেখা গেছে, ফুসফুসের ক্যানসারে আক্রান্ত রোগীদের শরীরে ‘ইজিএফআর’ (EGFR) ও ‘টিএসজি’ (TSG) নামে দুটি জিনে দ্রুত রাসায়নিক বদল আসে। এই বদল যত দ্রুত ঘটে, রোগীর বেঁচে থাকার মেয়াদ তত কমে যায়। গবেষকরা আশা প্রকাশ করছেন, নতুন এই ইমিউনোথেরাপির পদ্ধতিটি এই দুটি জিনের ক্ষতিকর রাসায়নিক বদল ঠেকাতেও অত্যন্ত কার্যকর ভূমিকা পালন করবে।
অদূর ভবিষ্যতে ক্যানসার চিকিৎসায় এই ৭ মিনিটের ইনজেকশন এক নতুন দিগন্তের উন্মোচন করতে যাচ্ছে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন চিকিৎসা বিজ্ঞানীরা।
তথ্যসূত্র: দি নিউ ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস