শুক্রবার, ২৯ মে, ২০২৬

মগবাজার আদ্-দ্বীন হাসপাতালে ৬ শিশুর মৃত্যু: ভেন্টিলেশনে ত্রুটি পেয়েছে তদন্ত কমিটি


রাজধানীর মগবাজারের আদ্-দ্বীন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ছয় নবজাতকের মর্মান্তিক মৃত্যুর ঘটনায় হাসপাতালটির পোস্ট অপারেটিভ ওয়ার্ডের ভেন্টিলেশন (বাতাস চলাচল) ব্যবস্থায় ত্রুটি খুঁজে পেয়েছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তদন্ত কমিটি। ঘটনার প্রকৃত কারণ ও দায় নির্ধারণে তদন্ত কার্যক্রম প্রায় শেষ পর্যায়ে রয়েছে এবং শনিবারের মধ্যে পূর্ণাঙ্গ প্রতিবেদন জমা পড়তে পারে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর জানিয়েছে, প্রতিবেদন পাওয়ার পর দায়ীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
মগবাজার আদ্-দ্বীন হাসপাতালে ৬ শিশুর মৃত্যু: ভেন্টিলেশনে ত্রুটি পেয়েছে তদন্ত কমিটি
  গুগল নিউজে ফলো করে আজকের প্রসঙ্গ এর সাথে থাকুন

রাজধানীর মগবাজারে অবস্থিত আদ্-দ্বীন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ছয় নবজাতকের মৃত্যুর ঘটনায় হাসপাতালটির পোস্ট অপারেটিভ ওয়ার্ডের ভেন্টিলেশন বা বাতাস চলাচল ব্যবস্থায় বড় ধরনের ত্রুটি ও অসঙ্গতি খুঁজে পেয়েছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের উচ্চপর্যায়ের তদন্ত কমিটি।

আজ শুক্রবার (২৯ মে) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের কর্মকর্তারা জানান, তদন্ত কার্যক্রম প্রায় শেষ পর্যায়ে রয়েছে এবং খুব দ্রুত পূর্ণাঙ্গ প্রতিবেদন জমা দেওয়া হবে। তথ্যের সত্যতা নিশ্চিত করে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের অতিরিক্ত মহাপরিচালক (প্রশাসন) অধ্যাপক ডা. জাহিদ রায়হান জানান, শনিবারের মধ্যে এই তদন্ত প্রতিবেদন জমা পড়তে পারে বলে তারা আশা করছেন।

গত বুধবার সকালে আদ্-দ্বীন হাসপাতালের পোস্ট ডেলিভারি ওয়ার্ডে চিকিৎসাধীন অবস্থায় একে একে ছয়টি নবজাতক মারা যায়। ঘটনার সময় ওই ওয়ার্ডটিতে ১১ জন প্রসূতি মা এবং ছয়টি নবজাতক ভর্তি ছিলেন।

স্বজন ও সংশ্লিষ্ট সূত্র থেকে জানা গেছে, গত মঙ্গলবার (২৬ মে) গভীর রাতে এক প্রসূতি মায়ের অনুরোধে ওয়ার্ডের শীতাতপ নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা (এসি) কিছু সময়ের জন্য বন্ধ রাখা হয়েছিল। প্রায় এক ঘণ্টা পর এসি পুনরায় চালু করা হলেও তার কিছুক্ষণের মধ্যেই নবজাতকদের শারীরিক অবস্থার দ্রুত অবনতি হতে থাকে। স্বজনদের অভিযোগ, "রাত ১২টার পর থেকেই শ্বাসকষ্টে নিস্তেজ হতে থাকে শিশুরা, কিন্তু ডেকেও নার্সদের পাওয়া যায়নি।" পরবর্তীতে শিশুদের অবস্থা আশঙ্কাজনক হলে দ্রুত নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে (এনআইসিইউ) নেওয়া হয়, তবে শেষ রক্ষা হয়নি এবং পরদিন সকালের মধ্যে ছয়টি শিশুই মারা যায়।

ঘটনার পর থেকেই হাসপাতালের চিকিৎসা ব্যবস্থাপনা, সার্বক্ষণিক পর্যবেক্ষণ ও কর্তব্যরতদের দায়িত্ব পালনে অবহেলার তীব্র অভিযোগ ওঠে। মৃত শিশুদের পরিবার সরাসরি হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের অব্যবস্থাপনা ও গাফিলতিকে দায়ী করছে। প্রাথমিকভাবে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ধারণা, ওয়ার্ডের হঠাৎ তাপমাত্রাজনিত সমস্যার কারণে নবজাতকদের তীব্র শারীরিক জটিলতা বা শ্বাসকষ্ট তৈরি হয়ে থাকতে পারে।

ভয়াবহ এই ঘটনার পর স্বাস্থ্য অধিদপ্তর তিন সদস্যের একটি উচ্চপর্যায়ের তদন্ত কমিটি গঠন করে এবং ৭২ ঘণ্টার মধ্যে প্রতিবেদন জমা দেওয়ার নির্দেশ দেয়। তদন্ত সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, কমিটি ইতোমধ্যে হাসপাতালের ভেন্টিলেশন সিস্টেমে স্পষ্ট অসঙ্গতি ও ত্রুটি শনাক্ত করতে পেরেছে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর পুনরায় আশ্বস্ত করেছে যে, তদন্ত প্রতিবেদন হাতে পাওয়ার পরপরই এই মর্মান্তিক ঘটনার জন্য প্রকৃত দায়ীদের চিহ্নিত করে আইনানুযায়ী প্রয়োজনীয় ও দৃষ্টান্তমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।