আগামীকাল ব্যাংক হলিডে: বন্ধ থাকবে ব্যাংক ও শেয়ারবাজারের লেনদেন
২৪ মে ২০২৬, ৯:৪৬ পূর্বাহ্ণ
ব্যাংক খাতের মূলধন ভিত্তি শক্তিশালী করা এবং ভবিষ্যৎ ঝুঁকি মোকাবিলায় সক্ষমতা বাড়ানোর লক্ষ্য নিয়ে লভ্যাংশ ঘোষণার নীতিমালা আরও কঠোর করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। গতকাল শনিবার এ-সংক্রান্ত নতুন নির্দেশনা দেশের সব ব্যাংকে পাঠানো হয়েছে।
নতুন সার্কুলারে বলা হয়েছে, কোনো ব্যাংকের পরিশোধিত মূলধন ২ হাজার কোটি টাকার কম হলে তারা ২০২৬ সাল থেকে কোনো ধরনের নগদ লভ্যাংশ ঘোষণা করতে পারবে না। এছাড়া যেসব ব্যাংক সব ধরনের আর্থিক সূচক ও নিয়ন্ত্রক শর্ত পূরণ করবে, তারাও মোট ঘোষিত লভ্যাংশের সর্বোচ্চ ৫০ শতাংশ নগদ আকারে দিতে পারবে। বাকি অংশ স্টক লভ্যাংশ বা অন্য উপায়ে সমন্বয় করতে হবে।
এর আগে ২০২৫ সালের জন্য জারি করা নির্দেশনায় বলা হয়েছিল, কোনো ব্যাংকের খেলাপি ঋণের হার ১০ শতাংশ বা তার বেশি হলে তারা লভ্যাংশ দিতে পারবে না। একই সঙ্গে মূলধন ঘাটতি বা প্রভিশন ঘাটতিতে থাকা ব্যাংকগুলোকেও লভ্যাংশ ঘোষণা থেকে বিরত রাখা হয়। ওই নিয়মের কারণে পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত ৩৬টি ব্যাংকের মধ্যে এবার মাত্র ১৬টি ব্যাংক লভ্যাংশ ঘোষণা করতে সক্ষম হয়েছে।
বর্তমানে তালিকাভুক্ত ব্যাংকগুলোর মধ্যে কেবল দুটি ব্যাংকের পরিশোধিত মূলধন ২ হাজার কোটি টাকার বেশি। এর মধ্যে ন্যাশনাল ব্যাংকের পরিশোধিত মূলধন ৩ হাজার ২২০ কোটি টাকা এবং ব্র্যাক ব্যাংক-এর ২ হাজার ২৮৯ কোটি টাকা। তবে উচ্চ খেলাপি ঋণ, মূলধন ঘাটতি এবং আর্থিক দুরবস্থার কারণে ন্যাশনাল ব্যাংকে বর্তমানে লভ্যাংশ দেওয়ার অবস্থায় নেই। ফলে নতুন নীতিমালার আলোকে কার্যত একমাত্র নগদ লভ্যাংশ দেওয়ার যোগ্য ব্যাংক হিসেবে থাকছে ব্র্যাক ব্যাংক।
এদিকে দেড় হাজার কোটি টাকার বেশি পরিশোধিত মূলধন রয়েছে এমন ব্যাংকের মধ্যে রয়েছে আইএফআইসি ব্যাংক, সিটি ব্যাংক, ইস্টার্ন ব্যাংক , ইসলামী ব্যাংক এবং ইউসিবি। তবে বর্তমান পরিস্থিতিতে সিটি ব্যাংক ও ইস্টার্ন ব্যাংক ছাড়া অন্য ব্যাংকগুলোর আর্থিক অবস্থা লভ্যাংশ ঘোষণার অনুকূলে নেই বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
বিশ্লেষকদের মতে, নতুন এই নীতিমালা ব্যাংকগুলোর মধ্যে মূলধন সংরক্ষণে চাপ বাড়াবে এবং দুর্বল ব্যাংকগুলোর ওপর নিয়ন্ত্রণ আরও কঠোর করবে। একই সঙ্গে নগদ লভ্যাংশের বদলে ব্যাংকগুলোকে মূলধন শক্তিশালী করার দিকে বেশি গুরুত্ব দিতে হবে।