খাল-নদী খননের মাধ্যমে ভূমিকম্প মোকাবেলার প্রস্তুতি নিতে হবে: প্রধানমন্ত্রী
২১ মে ২০২৬, ৩:২৯ অপরাহ্ণ
রাজধানীর মিরপুরের পল্লবীতে ৭ বছর বয়সী শিশু রামিসাকে ধর্ষণের পর গলা কেটে নৃশংসভাবে হত্যার ঘটনায় দেশজুড়ে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। এই পরিস্থিতিতে আজ বৃহস্পতিবার আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান ডিএমপি কমিশনারকে আগামী ৭ দিনের মধ্যে মামলার তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশ দেন। তিনি আশ্বস্ত করেন যে, দ্রুততম সময়ের মধ্যে এই হত্যাকাণ্ডের বিচার প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা হবে।
যেভাবে ঘটেছিল এই নৃশংসতা: মামলার এজাহার ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, গত মঙ্গলবার (১৯ মে) সকাল সাড়ে ৯টার দিকে পপুলার মডেল হাইস্কুলের দ্বিতীয় শ্রেণির শিক্ষার্থী রামিসা আক্তার বাসা থেকে বের হলে প্রতিবেশী সোহেল রানার স্ত্রী স্বপ্না আক্তার তাকে কৌশলে তাদের ফ্ল্যাটের ভেতর নিয়ে যান। সকাল সাড়ে ১০টার দিকে রামিসাকে স্কুলে নিয়ে যাওয়ার জন্য তার মা খোঁজাখুঁজি শুরু করেন। একপর্যায়ে পাশের ফ্ল্যাটের দরজার সামনে শিশুটির এক পাটি জুতা পড়ে থাকতে দেখেন তিনি।
সন্দেহ হওয়ায় রামিসার মা-বাবা এবং ভবনের অন্যান্য বাসিন্দারা ওই ফ্ল্যাটের দরজায় ধাক্কাধাক্কি ও ডাকাডাকি করেন। ভেতর থেকে কোনো সাড়া না পেয়ে তারা দরজা ভেঙে শয়নকক্ষে প্রবেশ করেন। সেখানে খাটের নিচে রামিসার মস্তকবিহীন রক্তাক্ত মরদেহ এবং বাথরুমের ভেতরের একটি বড় বালতিতে তার কাটা মাথা উদ্ধার করা হয়।
আসামিদের জবানবন্দি ও গ্রেপ্তার: ঘটনার পরপরই ফ্ল্যাটের ভেতর থেকে সোহেল রানার স্ত্রী স্বপ্না আক্তারকে আটক করে পুলিশ। আটকের পর স্বপ্না স্বীকার করেন যে, তার স্বামী সোহেল রানা রামিসাকে বাথরুমে আটকে রেখে ধর্ষণ ও গলা কেটে হত্যা করেছে। মরদেহ গুম করার উদ্দেশ্যে মাথা কেটে বিচ্ছিন্ন করা হয় এবং যৌনাঙ্গ ক্ষতবিক্ষত করাসহ দুই হাত কাঁধ থেকে আংশিক বিচ্ছিন্ন করে খাটের নিচে লুকিয়ে রাখা হয়। রামিসার মা দরজায় কড়া নাড়লে অবস্থা বেগতিক দেখে জানালার গ্রিল কেটে পালিয়ে যান মূল অভিযুক্ত সোহেল রানা।
পালিয়ে যাওয়ার পর ওই দিন সন্ধ্যায়ই নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লা থানা এলাকা থেকে প্রধান আসামি সোহেল রানাকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ।
গ্রেপ্তারের পর বুধবার (২০ মে) দুই আসামিকে ঢাকার মুখ্য মহানগর হাকিম আদালতে হাজির করা হয়। আদালত সূত্রে জানা গেছে, প্রধান আসামি সোহেল রানা মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আমিনুল ইসলাম জুনাইদের আদালতে ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় নিজের অপরাধ স্বীকার করে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন। জবানবন্দি শেষে আদালত সোহেল রানা ও তার স্ত্রী স্বপ্নাকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন। তবে মামলায় অভিযুক্ত অজ্ঞাতনামা আরও একজন আসামি এখনো পলাতক রয়েছেন।
এদিকে, সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে শিশু রামিসার মরদেহের ময়নাতদন্ত সম্পন্ন হওয়ার পর বুধবার রাতে লাশ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়। ওই দিন রাত ৯টার দিকে মুন্সীগঞ্জের সিরাজদিখানের ইছাপুরের মধ্যম শিয়ালদী গ্রামে জানাজা শেষে রামিসাকে দাফন করা হয়েছে। এই নৃশংস ঘটনায় শিশুটির বাবা আবদুল্নান মোল্লা বাদী হয়ে পল্লবী থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে মামলা দায়ের করেছেন।