শুক্রবার, ১ মে, ২০২৬

মহান মে দিবস আজ


আজ মহান মে দিবস। শ্রমজীবী মানুষের অধিকার আদায়ের দিন হিসেবে বাংলাদেশসহ বিশ্বজুড়ে যথাযোগ্য মর্যাদায় পালিত হচ্ছে দিবসটি। দিবসটি উপলক্ষ্যে রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান পৃথক বাণী দিয়েছেন।

১ মে ২০২৬, ৮:৪৩ পূর্বাহ্ণ 

মহান মে দিবস আজ
  গুগল নিউজে ফলো করে আজকের প্রসঙ্গ এর সাথে থাকুন

আজ মহান মে দিবস। শ্রমজীবী মানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠার সংগ্রামের স্মারক এ দিনটি প্রতি বছরের মতো এবারও বাংলাদেশসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশে যথাযোগ্য মর্যাদায় পালিত হচ্ছে। এ বছরের প্রতিপাদ্য নির্ধারণ করা হয়েছে-‘সুস্থ শ্রমিক, কর্মঠ হাত, আসবে এবার নব প্রভাত’।

দিবসটি উপলক্ষ্যে দেওয়া বাণীতে রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন শ্রমজীবী মানুষকে আন্তরিক শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানিয়ে বলেন, দেশের উন্নয়ন অগ্রযাত্রায় শ্রমিকদের অবদান অপরিসীম। শিল্প, কৃষি, নির্মাণসহ প্রতিটি খাতে তাদের নিরলস পরিশ্রম দেশের অর্থনীতিকে এগিয়ে নিচ্ছে। তিনি শ্রমিকদের ন্যায্য অধিকার, নিরাপদ কর্মপরিবেশ ও সামাজিক সুরক্ষা নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

রাষ্ট্রপতি আরও বলেন, মালিক-শ্রমিক সুসম্পর্ক ও পেশাগত স্বাস্থ্য সুরক্ষা নিশ্চিত করা গেলে বাংলাদেশ একটি মানবিক ও শ্রমিকবান্ধব রাষ্ট্র হিসেবে বিশ্বে অনন্য উচ্চতায় পৌঁছাবে।

অন্যদিকে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান তার বাণীতে শ্রমিকদের জীবনমান উন্নয়নে সরকারের প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করেন। তিনি বলেন, নিয়মিত মজুরি পর্যালোচনার মাধ্যমে ন্যায্য মজুরি এবং নারী-পুরুষের সমান মজুরি নিশ্চিত করতে সরকার বদ্ধপরিকর। পাশাপাশি প্রবাসী শ্রমিকদের সুরক্ষায় ‘প্রবাসী কার্ড’ চালুর উদ্যোগের কথাও উল্লেখ করেন তিনি।

মে দিবস উপলক্ষ্যে রাজধানী ঢাকাসহ সারা দেশে বিভিন্ন শ্রমিক সংগঠন র‌্যালি, সমাবেশ ও আলোচনা সভার আয়োজন করেছে। ঢাকায় জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের উদ্যোগে বড় সমাবেশ অনুষ্ঠিত হচ্ছে, যেখানে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বক্তব্য দেওয়ার কথা রয়েছে। বিভিন্ন রাজনৈতিক দল ও শ্রমিক সংগঠনও পৃথক কর্মসূচি পালন করছে।

মে দিবসের ইতিহাস ১৮৮৬ সালের ১ মে যুক্তরাষ্ট্রের শিকাগো শহরের হে মার্কেট আন্দোলনের সঙ্গে জড়িত। সেদিন শ্রমিকরা দৈনিক আট ঘণ্টা কাজের দাবিতে ধর্মঘট ও বিক্ষোভে অংশ নেন। পুলিশের গুলিতে বহু শ্রমিক নিহত হন। তাদের আত্মত্যাগের স্বীকৃতিস্বরূপ ১৮৯০ সাল থেকে বিশ্বব্যাপী মে দিবস পালন শুরু হয়। বাংলাদেশে ১৯৭২ সাল থেকে দিনটি রাষ্ট্রীয়ভাবে পালিত হয়ে আসছে।

তবে শ্রমিকদের জীবনযাত্রা এখনও নানা চ্যালেঞ্জে ঘেরা। উচ্চ মূল্যস্ফীতির কারণে নিম্ন আয়ের মানুষ সবচেয়ে বেশি সংকটে পড়ছেন। সাম্প্রতিক তথ্য অনুযায়ী, মজুরি বৃদ্ধির হার মূল্যস্ফীতির তুলনায় কম হওয়ায় শ্রমিকদের আয়-ব্যয়ের ভারসাম্য নষ্ট হচ্ছে।

রাজধানীর কারওয়ান বাজারের কুলি মশিউরের মতো অনেক শ্রমিকই জীবিকার তাগিদে কঠিন বাস্তবতার সঙ্গে লড়াই করছেন। বিদেশ থেকে ফিরে ঋণের বোঝা মাথায় নিয়ে এখন দিনমজুরির কাজ করে সংসার চালাতে হচ্ছে তাকে। একইভাবে বৃদ্ধ রিকশাচালক মজনু মিয়াও বাড়তি দামের বাজারে টিকে থাকতে হিমশিম খাচ্ছেন।

বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর তথ্যমতে, দেশের প্রায় ৮৪ শতাংশ শ্রমিক অপ্রাতিষ্ঠানিক খাতে কাজ করেন, যাদের বেশিরভাগই রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি ও সামাজিক সুরক্ষার বাইরে। শ্রম আইন সংশোধন হলেও এই বিশাল অংশ এখনো কাঙ্ক্ষিত অধিকার থেকে বঞ্চিত।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অপ্রাতিষ্ঠানিক খাতের শ্রমিকদের আইনি স্বীকৃতি ও সামাজিক নিরাপত্তার আওতায় আনা এখন সময়ের দাবি। একই সঙ্গে ন্যূনতম মজুরি কাঠামোর সম্প্রসারণ এবং শ্রমিকদের অভিযোগ জানানোর কার্যকর ব্যবস্থাও জরুরি।

মহান মে দিবস তাই শুধু উদযাপনের দিন নয়-এটি শ্রমিকদের অধিকার প্রতিষ্ঠা, ন্যায্য মজুরি নিশ্চিতকরণ এবং মানবিক কর্মপরিবেশ গড়ে তোলার নতুন অঙ্গীকারের দিন।