প্রাথমিক শিক্ষা অষ্টম শ্রেণি পর্যন্ত: ববি হাজ্জাজ
২৩ এপ্রিল ২০২৬, ৮:৩৫ পূর্বাহ্ণ
দেশজুড়ে বাড়ছে তাপমাত্রা, অসহনীয় গরমে নাজেহাল জনজীবন। তবে সবার পক্ষে এয়ার কন্ডিশনার (এসি) ব্যবহার করা সম্ভব হয় না।তবে চিন্তার কিছু নেই; জীবনযাত্রায় সামান্য পরিবর্তন এবং কিছু প্রাকৃতিক কৌশল অবলম্বন করলেই এসি ছাড়াই আপনার ঘরকে রাখা সম্ভব বেশ শীতল।ঘর ঠান্ডা রাখার কিছু উপায়:
ঘরের তাপমাত্রা বাড়ার প্রধান কারণ হলো সূর্যের সরাসরি আলো। সকাল ১০টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত ঘরের জানালা এবং পর্দা বন্ধ রাখুন। বিশেষ করে দক্ষিণ ও পশ্চিমমুখী জানালাগুলো দিয়ে সবচেয়ে বেশি গরম বাতাস ও রোদ আসে। জানালার বাইরের দিকে হালকা রঙের পর্দা ব্যবহার করলে তা তাপ প্রতিফলিত করে ঘরকে শীতল রাখে।
আপনার টেবিল বা স্ট্যান্ড ফ্যানটির সামনে একটি গামলায় বেশ কিছু বরফ বা খুব ঠান্ডা পানি রাখুন। ফ্যানের বাতাস যখন বরফের ওপর দিয়ে যাবে, তখন পুরো ঘরে এসির মতো ঠান্ডা হাওয়া ছড়িয়ে পড়বে। এটি ঘরকে দ্রুত ঠান্ডা করার একটি পরীক্ষিত কৌশল।
ঘর মোছার সময় পানির সঙ্গে খানিকটা লবণ মিশিয়ে দিন। লবণাক্ত পানি দিয়ে ঘর মুছলে মেঝে অনেকক্ষণ ঠান্ডা থাকে। এছাড়া দিনে অন্তত দুই থেকে তিনবার ঘর মুছলে ঘরের অভ্যন্তরীণ তাপমাত্রা অনেকটা কমে আসে।
ঘরে প্রাকৃতিক আর্দ্রতা বজায় রাখতে গাছ দারুণ কার্যকর। মানিপ্ল্যান্ট, অ্যালোভেরা, অ্যারিকা পাম বা স্নেক প্ল্যান্টের মতো গাছ ঘরের কার্বন ডাই-অক্সাইড শুষে নিয়ে বাতাসকে শীতল ও নির্মল রাখে।
সাধারণ টিউবলাইট বা বাল্ব প্রচুর তাপ উৎপন্ন করে। তাই দিনের বেলা অপ্রয়োজনে লাইট জ্বালিয়ে রাখবেন না। সম্ভব হলে সাধারণ বাল্বের পরিবর্তে এলইডি (LED) বাল্ব ব্যবহার করুন, যা খুব কম তাপ ছড়ায়। এছাড়া ল্যাপটপ, টিভি বা কম্পিউটারের মতো ইলেকট্রনিক যন্ত্রগুলো কাজ শেষে বন্ধ রাখুন।
বিছানায় গাঢ় রঙের বা সিনথেটিক চাদর ব্যবহার না করে হালকা রঙের পাতলা সুতির চাদর ব্যবহার করুন। সুতি কাপড় তাপ ধরে রাখে না। এছাড়া সোফার কুশন বা জানালার পর্দাও সুতির হলে ঘরে গুমোট ভাব কম হয়।
সূর্যাস্তের পর যখন বাইরের তাপমাত্রা কমে আসে, তখন ঘরের সব জানালা-দরজা খুলে দিন। এতে ঘরের ভেতর জমে থাকা গরম বাতাস বেরিয়ে যাবে এবং শীতল বাতাস প্রবেশ করবে। ঘরে বাতাস চলাচলের সঠিক ব্যবস্থা থাকলে গরমে আরাম পাওয়া সহজ হয়।