রবিবার, ১২ এপ্রিল, ২০২৬

চলতি অর্থবছরে ৪% প্রবৃদ্ধির পূর্বাভাস এডিবির, কমবে মধ্যপ্রাচ্য সংঘাতের প্রভাব


এশীয় উন্নয়ন ব্যাংক (এডিবি) বাংলাদেশের অর্থনীতিতে ধীরে ধীরে গতি ফেরার আভাস দিয়েছে। সংস্থাটি চলতি ২০২৫-২৬ অর্থবছরে ৪ শতাংশ জিডিপি প্রবৃদ্ধি এবং আগামী অর্থবছরে ৪.৭ শতাংশ প্রবৃদ্ধির পূর্বাভাস দিয়েছে।

১১ এপ্রিল ২০২৬, ৯:৪৬ অপরাহ্ণ 

চলতি অর্থবছরে ৪% প্রবৃদ্ধির পূর্বাভাস এডিবির, কমবে মধ্যপ্রাচ্য সংঘাতের প্রভাব
  গুগল নিউজে ফলো করে আজকের প্রসঙ্গ এর সাথে থাকুন

শুক্রবার প্রকাশিত এডিবির এশিয়ান ডেভেলপমেন্ট আউটলুক (এডিও) প্রতিবেদনে এ পূর্বাভাস তুলে ধরা হয়েছে।

প্রতিবেদনে বলা হয়, ২০২৪-২৫ অর্থবছরে ৩.৫ শতাংশ প্রবৃদ্ধির পর বাংলাদেশের মোট দেশজ উৎপাদন (জিডিপি) চলতি অর্থবছরে ৪.০ শতাংশ এবং আগামী অর্থবছরে ৪.৭ শতাংশে উন্নীত হবে। এতে ভোগব্যয় ও বিনিয়োগের পুনরুদ্ধারের প্রতিফলন দেখা যাচ্ছে, যা সাধারণ নির্বাচনের পর রাজনৈতিক অনিশ্চয়তা কমে আসার ফলে সম্ভব হয়েছে।

এডিবি মনে করছে, মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাতজনিত সরবরাহ শৃঙ্খলের বিঘ্ন সাম্প্রতিক সময়ে অর্থনৈতিক কার্যক্রমে প্রভাব ফেললেও এর প্রভাব ধীরে ধীরে কমে আসবে।

বাংলাদেশে এডিবির কান্ট্রি ডিরেক্টর হো ইউন জিয়ং বলেন, বাংলাদেশ বর্তমানে বৈশ্বিক অনিশ্চয়তা, অভ্যন্তরীণ কাঠামোগত সীমাবদ্ধতা এবং বহির্বাণিজ্য ও আর্থিক খাতের চাপের কারণে একটি চ্যালেঞ্জিং অর্থনৈতিক পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। নতুন সরকারের সংস্কার কর্মসূচি সামষ্টিক অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা জোরদার, বেসরকারি খাতের আস্থা পুনরুদ্ধার এবং অর্থনৈতিক পুনরুদ্ধারে সহায়ক ভূমিকা রাখতে পারে। যথাযথ নীতি ও ধারাবাহিক সংস্কার থাকলে অর্থনীতি আরও স্থিতিশীল ও অন্তর্ভুক্তিমূলক প্রবৃদ্ধির পথে ফিরবে।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, চলতি অর্থবছরে মূল্যস্ফীতি ৯ শতাংশের কাছাকাছি উচ্চ অবস্থানে থাকবে। এর পেছনে বৈশ্বিক জ্বালানি মূল্যের ঊর্ধ্বগতি এবং সরবরাহ ব্যবস্থার বিঘ্ন দায়ী। তবে আগামী অর্থবছরে এটি কিছুটা কমে ৮.৫ শতাংশে নেমে আসতে পারে বলে আশা করা হচ্ছে।

এডিবি আরও জানায়, চলতি হিসাবে ঘাটতি জিডিপির ০.৫ শতাংশ হবে, যা আগামী অর্থবছরে সামান্য বেড়ে ০.৬ শতাংশে পৌঁছাতে পারে। আমদানি বৃদ্ধি এবং বাণিজ্য ঘাটতি প্রসারিত হওয়াই এর প্রধান কারণ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। তবে মধ্যপ্রাচ্যের উত্তেজনা সত্ত্বেও প্রবাসী আয় স্বল্পমেয়াদে স্থিতিশীল থাকবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

এডিওতে বলা হয়েছে, শক্তিশালী রেমিট্যান্স প্রবাহ ও নির্বাচন-পরবর্তী সরকারি ব্যয়ের কারণে ভোগ ও বিনিয়োগে মাঝারি প্রবৃদ্ধি দেখা যাবে। পাশাপাশি ব্যবসা সহজীকরণ এবং বিনিয়োগ বাড়াতে সরকারের নেওয়া উদ্যোগগুলোও ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে।

সরবরাহ দিক থেকে সেবা খাত পুনরুদ্ধার, সামাজিক সুরক্ষা ব্যয় বৃদ্ধি এবং আর্থিক খাতের সংস্কার অর্থনীতিকে গতিশীল করবে বলে মনে করছে সংস্থাটি। অনুকূল আবহাওয়া থাকলে কৃষি উৎপাদন স্বাভাবিক হবে এবং রপ্তানি বৃদ্ধি ও অবকাঠামো উন্নয়নের ফলে শিল্প খাতেও প্রবৃদ্ধি বাড়বে। তবে ঝুঁকি এখনও রয়ে গেছে। বিশেষ করে মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাত দীর্ঘস্থায়ী হলে বৈশ্বিক জ্বালানি বাজার ও সরবরাহ শৃঙ্খলে নতুন করে বিঘ্ন তৈরি হতে পারে, যা দেশে মূল্যস্ফীতির চাপ বাড়াবে এবং অর্থনৈতিক নীতিনির্ধারণকে জটিল করে তুলবে। এডিবির মতে, উচ্চ জ্বালানি মূল্য বাজেট ঘাটতিও বাড়াতে পারে, বিশেষ করে যদি ভর্তুকি বৃদ্ধি পায় বা মূল্য সমন্বয় যথাযথভাবে না করা হয়।