শুক্রবার, ১০ এপ্রিল, ২০২৬

হরমুজ প্রণালি পাড়ি দিতে পারেনি ‘বাংলার জয়যাত্রা’, ৪০ দিন ধরে মধ্যপ্রাচ্যে আটকে জাহাজ


যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে হরমুজ প্রণালি অতিক্রমের অনুমতি না পাওয়ায় বাংলাদেশ শিপিং করপোরেশনের জাহাজ ‘বাংলার জয়যাত্রা’কে ফেরত যেতে হচ্ছে। ৩১ নাবিকসহ জাহাজটি প্রায় ৪০ দিন ধরে মধ্যপ্রাচ্যে আটকে রয়েছে।

১০ এপ্রিল ২০২৬, ৮:২১ অপরাহ্ণ 

হরমুজ প্রণালি পাড়ি দিতে পারেনি ‘বাংলার জয়যাত্রা’, ৪০ দিন ধরে মধ্যপ্রাচ্যে আটকে জাহাজ
  গুগল নিউজে ফলো করে আজকের প্রসঙ্গ এর সাথে থাকুন

যুদ্ধ পরিস্থিতির প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশের সমুদ্রপথ বাণিজ্যেও। হরমুজ প্রণালি অতিক্রমের অনুমতি না পাওয়ায় বাংলাদেশ শিপিং করপোরেশনের (বিএসসি) মালিকানাধীন জাহাজ ‘বাংলার জয়যাত্রা’কে মাঝপথ থেকেই ফিরে যেতে হচ্ছে।

বিএসসির ব্যবস্থাপনা পরিচালক কমোডর মাহমুদুল মালেক জানিয়েছেন, গত বুধবার যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ার পর সৌদি আরবের রাস আল খায়ের বন্দর থেকে জাহাজটি রওনা দেয়। প্রায় ৪০ ঘণ্টা যাত্রার পর শুক্রবার সকালে এটি হরমুজ প্রণালির কাছাকাছি পৌঁছে ইরান সরকারের কাছে পারাপারের অনুমতি চায়। তবে তেহরান সেই অনুমতি প্রত্যাখ্যান করে। এরপর জাহাজটি ঘুরিয়ে সংযুক্ত আরব আমিরাতের শারজা বন্দরের দিকে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে। তবে কূটনৈতিক চ্যানেলের মাধ্যমে অনুমতি পাওয়ার চেষ্টা চলছে বলে জানিয়েছেন বিএসসি কর্তৃপক্ষ। অনুমতি মিললে আবারও হরমুজের দিকে রওনা দেবে জাহাজটি।

জাহাজে থাকা ৩১ জন নাবিকের নিরাপত্তা ও মনোবল নিয়ে আশ্বস্ত করেছেন সংশ্লিষ্টরা। মাহমুদুল মালেক বলেন, নাবিকদের জন্য পর্যাপ্ত খাদ্য মজুত রয়েছে এবং তাদের মনোবলও ভালো আছে। পানির ব্যবহার রেশনিং করে দৈনিক ৬ টনে নামিয়ে আনা হয়েছে, যদিও জাহাজটি প্রতিদিন ১৮ টন সামুদ্রিক পানি পরিশোধন করতে সক্ষম।

নাবিকদের সুবিধা বাড়াতে বেশ কিছু উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলেও জানান তিনি। পরিবারের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগের ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। দৈনিক খাবারের বরাদ্দ জনপ্রতি ৭ ডলার থেকে বাড়িয়ে ১২ ডলার করা হয়েছে এবং বেসিক বেতনের সমপরিমাণ ওয়ার অ্যালাউন্সও দেওয়া হচ্ছে।

এর আগে, গত ২ ফেব্রুয়ারি ভারত থেকে পণ্য বহন করে হরমুজ প্রণালি পেরিয়ে পারস্য উপসাগরে প্রবেশ করে ‘বাংলার জয়যাত্রা’। পরে কাতার থেকে স্টিল কয়েল নিয়ে ২৭ ফেব্রুয়ারি সংযুক্ত আরব আমিরাতের জেবেল আলী বন্দরে পৌঁছায় জাহাজটি। পরদিনই ইরানে হামলার ঘটনায় পরিস্থিতি জটিল হয়ে পড়ে এবং জাহাজটি আটকা পড়ে।

১১ মার্চ জেবেল আলী বন্দরে পণ্য খালাস শেষ হওয়ার পর কুয়েতে নতুন পণ্য বোঝাইয়ের পরিকল্পনা থাকলেও মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে তা বাতিল করা হয়। বর্তমানে জাহাজটিতে ৩৭ হাজার টন সার রয়েছে, যা দক্ষিণ আফ্রিকার কেপটাউনে পৌঁছানোর কথা। তবে হরমুজ প্রণালির মুখ পর্যন্ত গিয়েও অনুমতি না পাওয়ায় অনিশ্চয়তায় পড়েছে পুরো যাত্রাপথ। কূটনৈতিক তৎপরতার মাধ্যমে দ্রুত সমাধান আসবে বলে আশা করছে বিএসসি।