বৃহস্পতিবার, ৯ এপ্রিল, ২০২৬

মুক্তিযুদ্ধ ও জুলাই গণঅভ্যুত্থান নিয়ে গবেষণায় সর্বোচ্চ ২৫ লাখ টাকা অনুদান


মহান মুক্তিযুদ্ধ ও জুলাই গণঅভ্যুত্থান নিয়ে প্রাতিষ্ঠানিক, স্বচ্ছ ও জবাবদিহিমূলক গবেষণা কার্যক্রম উৎসাহিত করতে নতুন নির্দেশিকা জারি করেছে মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয়। ‘গবেষণা (পরিচালনা, অর্থায়ন ও ব্যবস্থাপনা) নির্দেশিকা ২০২৬’-এ গবেষণার ধরন অনুযায়ী সর্বনিম্ন ৫ লাখ থেকে সর্বোচ্চ ২৫ লাখ টাকা পর্যন্ত অনুদানের বিধান রাখা হয়েছে।

২৩ মার্চ ২০২৬, ১২:৪৯ অপরাহ্ণ 

মুক্তিযুদ্ধ ও জুলাই গণঅভ্যুত্থান নিয়ে গবেষণায় সর্বোচ্চ ২৫ লাখ টাকা অনুদান
  গুগল নিউজে ফলো করে আজকের প্রসঙ্গ এর সাথে থাকুন

মহান মুক্তিযুদ্ধ ও জুলাই গণঅভ্যুত্থান বিষয়ে গবেষণাকে প্রাতিষ্ঠানিক ও সুসংগঠিত করতে নতুন নির্দেশিকা জারি করেছে মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয়। সম্প্রতি প্রকাশিত ‘গবেষণা (পরিচালনা, অর্থায়ন ও ব্যবস্থাপনা) নির্দেশিকা ২০২৬’-এ গবেষণার অর্থায়ন, ব্যবস্থাপনা ও জবাবদিহির বিষয়গুলো বিস্তারিতভাবে নির্ধারণ করা হয়েছে।

নির্দেশিকা অনুযায়ী, গবেষণাকে তিনটি শ্রেণিতে ভাগ করা হয়েছে। ক-শ্রেণির দলীয় বা প্রাতিষ্ঠানিক গবেষণায় ১০ লাখ থেকে ২৫ লাখ টাকা পর্যন্ত অনুদান দেওয়া হবে। খ-শ্রেণির একক গবেষণার জন্য ৫ লাখ থেকে ১০ লাখ টাকা এবং গ-শ্রেণির একক গবেষণায় সর্বোচ্চ ৫ লাখ টাকা পর্যন্ত অর্থায়নের সুযোগ রাখা হয়েছে। গবেষণার গুরুত্ব ও ব্যাপ্তি বিবেচনায় প্রয়োজনে এই আর্থিক সীমা পুনর্নির্ধারণ করা যেতে পারে।

গবেষণার মেয়াদও আলাদাভাবে নির্ধারণ করা হয়েছে। ক-শ্রেণির গবেষণার জন্য সর্বোচ্চ ১২ মাস, খ-শ্রেণির জন্য ৯ মাস এবং গ-শ্রেণির গবেষণার ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ ৬ মাস সময়সীমা নির্ধারণ করা হয়েছে।

নির্দেশিকায় বলা হয়েছে, গবেষণার অনুদান ধাপে ধাপে ছাড় করা হবে। প্রারম্ভিক প্রতিবেদন বা ইনসেপশন রিপোর্ট গ্রহণের পর প্রথম কিস্তিতে ৪০ শতাংশ অর্থ প্রদান করা হবে। গবেষণার অন্তত অর্ধেক কাজ সম্পন্ন হলে মধ্যবর্তী প্রতিবেদন বা মিড-টার্ম রিপোর্ট উপস্থাপনের ভিত্তিতে আরও ৪০ শতাংশ অর্থ দেওয়া হবে। চূড়ান্ত প্রতিবেদন জমা ও অনুমোদনের পর বাকি ২০ শতাংশ অর্থ ছাড় করা হবে। তবে পূর্ববর্তী কিস্তির অর্থের হিসাব সমন্বয় না করা পর্যন্ত পরবর্তী কিস্তি দেওয়া হবে না।

অর্থ ব্যবস্থাপনা বিষয়ে কঠোর নিয়ন্ত্রণ আরোপ করা হয়েছে। নির্দেশিকা অনুযায়ী, গবেষণার মোট বাজেটের সর্বোচ্চ ৫০ শতাংশ সম্মানী হিসেবে গবেষণা পরিচালক, সহ-গবেষক ও সংশ্লিষ্টদের মধ্যে বণ্টন করা যাবে। এর মধ্যে গবেষণা পরিচালক সর্বোচ্চ ২৫ শতাংশ, সহ-গবেষকরা ১৫ শতাংশ এবং গবেষণা সহযোগী ও সহকারীরা সর্বোচ্চ ১০ শতাংশ পর্যন্ত সম্মানী পাবেন। অবশিষ্ট অর্থ তথ্য সংগ্রহ, বিশ্লেষণ, প্রতিবেদন প্রণয়ন, মুদ্রণসহ অন্যান্য প্রয়োজনীয় খাতে ব্যয় করা যাবে।

গবেষণার ক্ষেত্র হিসেবে মহান মুক্তিযুদ্ধের প্রেক্ষাপট, ইতিহাস, সংগ্রাম, প্রভাব ও ফলাফল; গণমানুষের অংশগ্রহণ; বীর মুক্তিযোদ্ধা ও শহীদ তালিকার যাচাই এবং প্রশাসনিক সংস্কার; ১৯৭১ সালের গণহত্যা, যুদ্ধাপরাধ ও মানবাধিকার লঙ্ঘনের তথ্য-উপাত্ত সংগ্রহ ও দলিলায়ন; শহীদ বুদ্ধিজীবী ও বধ্যভূমি নিয়ে গবেষণা অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। এছাড়া মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক শিক্ষা, পাঠ্যক্রম ও জনসচেতনতা, নারী, শিশু ও জাতিগত সংখ্যালঘুদের ভূমিকা ও অভিজ্ঞতা, ডিজিটাল আর্কাইভ ও জিআইএস ম্যাপিংয়ের মাধ্যমে স্মৃতি সংরক্ষণসহ নানা বিষয়কে গবেষণার আওতায় আনা হয়েছে।

পাশাপাশি জুলাই গণঅভ্যুত্থানের প্রেক্ষাপট ও কারণ, প্রত্যাশা, প্রাপ্তি ও চ্যালেঞ্জ; শহীদ পরিবার ও আহতদের পুনর্বাসন; রাষ্ট্র সংস্কারে এর চেতনার বাস্তবায়ন; গণঅভ্যুত্থানের স্মৃতি সংরক্ষণ এবং শহীদ ও জুলাই যোদ্ধাদের বীরত্বগাঁথা নিয়েও গবেষণা পরিচালনা করা যাবে। এছাড়া মন্ত্রণালয় নির্ধারিত সংশ্লিষ্ট অন্যান্য বিষয়েও গবেষণার সুযোগ থাকবে।

নির্দেশিকায় আরও বলা হয়েছে, নির্ধারিত সময়ের মধ্যে গবেষণা শেষ না হলে বা প্রতিবেদন বাতিল হলে গৃহীত অনুদানের অর্থ ফেরত দিতে হবে। একইভাবে ব্যয় শেষে কোনো অর্থ উদ্বৃত্ত থাকলে তা মন্ত্রণালয়ে জমা দিতে হবে। সব ধরনের ব্যয়ের ক্ষেত্রে ভাউচার, রশিদ ও ব্যয় বিবরণী জমা দিয়ে হিসাব সমন্বয় বাধ্যতামূলক করা হয়েছে।

গবেষণার অর্থ মন্ত্রণালয়ের পরিচালন ও উন্নয়ন বাজেট, বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচি (এডিপি) অথবা উন্নয়ন সহযোগী সংস্থার মাধ্যমে আসবে। ব্যয় নির্বাহে সরকারি আর্থিক বিধি-বিধান ও অডিট ব্যবস্থার অনুসরণ নিশ্চিত করা হবে।

নির্দেশিকা অনুযায়ী, গবেষণা কার্যক্রম বাংলা ও ইংরেজি- উভয় ভাষায় সম্পাদন করা যাবে। পাশাপাশি গবেষণায় গুণগত মান, নিরপেক্ষতা ও নৈতিকতা বজায় রাখা বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। কোনো ধরনের চৌর্যবৃত্তি প্রমাণিত হলে গবেষণা বাতিলসহ আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার কথাও উল্লেখ করা হয়েছে। গবেষণার ফলাফল ভবিষ্যতে নীতিনির্ধারণ, আইন সংস্কার, পাঠ্যক্রম উন্নয়ন এবং আন্তর্জাতিক ফোরামে ব্যবহারের পরিকল্পনার কথাও নির্দেশিকায় উল্লেখ রয়েছে।