বৃহস্পতিবার, ৯ এপ্রিল, ২০২৬

তরুণদের মধ্যে বাড়ছে এইচআইভি সংক্রমণ, এক বছরে শনাক্ত ১,৮৯১


দেশে তরুণ ও অবিবাহিতদের মধ্যে এইচআইভি সংক্রমণের হার উদ্বেগজনকভাবে বাড়ছে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্যমতে, ২০২৪ সালের ডিসেম্বর থেকে ২০২৫ সালের নভেম্বর পর্যন্ত ১,৮৯১ জন নতুন এইচআইভি পজিটিভ শনাক্ত হয়েছেন; একই সময়ে মৃত্যু হয়েছে ২১৯ জনের। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ঝুঁকিপূর্ণ আচরণ ও সচেতনতার অভাবই এ বৃদ্ধির প্রধান কারণ।

২৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ৭:৪৪ অপরাহ্ণ 

তরুণদের মধ্যে বাড়ছে এইচআইভি সংক্রমণ, এক বছরে শনাক্ত ১,৮৯১
  গুগল নিউজে ফলো করে আজকের প্রসঙ্গ এর সাথে থাকুন

স্বাস্থ্য অধিদপ্তর–এর জাতীয় এইডস ও এসটিডি নিয়ন্ত্রণ কর্মসূচি জানিয়েছে, দেশে এইচআইভি সংক্রমণ নতুন করে উদ্বেগ তৈরি করছে, বিশেষ করে তরুণদের মধ্যে। সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, এক বছরে ১,৮৯১ জন নতুন রোগী শনাক্ত হয়েছেন এবং ২১৯ জনের মৃত্যু হয়েছে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, তরুণদের মধ্যে ঝুঁকিপূর্ণ যৌন আচরণ, ইনজেক্টেবল ড্রাগ ব্যবহার, কনডমের মতো সুরক্ষা সামগ্রী ব্যবহার না করা এবং যৌন ও প্রজনন স্বাস্থ্য বিষয়ে সঠিক ধারণার অভাব সংক্রমণ বৃদ্ধির পেছনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।

চিকিৎসাধীন এক তরুণ জানান, অন্যের ব্যবহৃত সুচ ব্যবহার যে এতটা ঝুঁকিপূর্ণ, তা তিনি আগে জানতেন না। আরেকজন বলেন, সমাজে নৈতিকতার আলোচনা বেশি হলেও নিরাপদ আচরণ নিয়ে বাস্তবভিত্তিক শিক্ষা কম।

ইউএনএইডস বাংলাদেশ–এর কান্ট্রি ডিরেক্টর সায়মা খান বলেন, তরুণদের মধ্যে অসচেতনতা ও রোমাঞ্চপ্রবণতা অনেক ক্ষেত্রে ঝুঁকিপূর্ণ সিদ্ধান্তে পরিচালিত করছে। তার মতে, সচেতনতা বৃদ্ধি এবং নিরাপদ যৌন আচরণই সংক্রমণ রোধের সবচেয়ে কার্যকর উপায়।

ভাইরাসবিদ অধ্যাপক নজরুল ইসলাম বলেন, নিয়মিত অ্যান্টিরেট্রোভাইরাল ওষুধ গ্রহণ করলে এইডস আক্রান্ত ব্যক্তি স্বাভাবিক জীবনযাপন করতে পারেন এবং সংক্রমণ ছড়ানোর ঝুঁকি অনেক কমে যায়। তবে সামাজিক লজ্জা ও ভয়ের কারণে অনেক তরুণ আক্রান্ত হওয়ার পরও পরীক্ষা ও চিকিৎসা নিতে দেরি করেন।

মনস্তত্ত্ববিদ অধ্যাপক হেলাল উদ্দিন আহমেদ বলেন, প্রযুক্তির দ্রুত প্রসার, নগরায়ণ ও সামাজিক পরিবর্তনের ফলে তরুণদের মধ্যে যৌনতার প্রতি আগ্রহ বাড়ছে। কিন্তু যৌন স্বাস্থ্য বিষয়ে সঠিক শিক্ষা ও সচেতনতার অভাব পরিস্থিতিকে আরও জটিল করছে।

বিশেষজ্ঞরা সামাজিক লজ্জা ভাঙা, স্কুল পর্যায়ে কার্যকর প্রজনন স্বাস্থ্য শিক্ষা নিশ্চিত করা এবং তরুণদের লক্ষ্য করে ব্যাপক সচেতনতা কর্মসূচি গ্রহণের আহ্বান জানিয়েছেন। সংক্রমণ রোধে বিভিন্ন সংস্থার উদ্যোগ থাকলেও সরকারের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের কার্যক্রম আরও জোরদার ও তদারকি বৃদ্ধির প্রয়োজন বলেও মত দিয়েছেন তারা।