শনিবার, ১১ এপ্রিল, ২০২৬

তৃতীয় লিঙ্গের জনগোষ্ঠীর জন্য অস্থায়ী দোকান বরাদ্দ দিল ডিএনসিসি


তৃতীয় লিঙ্গের জনগোষ্ঠীকে শহরের মূলধারার অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে সম্পৃক্ত করতে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের (ডিএনসিসি) উদ্যোগে দিয়াবাড়ী এলাকায় ৩০ জনের জন্য অস্থায়ী দোকান স্থাপনের জায়গা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে, যা তাদের সম্মানজনক জীবিকা ও অন্তর্ভুক্তিমূলক নগর গঠনের পথে একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে।

২৯ ডিসেম্বর ২০২৫, ৯:৩৭ অপরাহ্ণ 

তৃতীয় লিঙ্গের জনগোষ্ঠীর জন্য অস্থায়ী দোকান বরাদ্দ দিল ডিএনসিসি
  গুগল নিউজে ফলো করে আজকের প্রসঙ্গ এর সাথে থাকুন

ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের (ডিএনসিসি) পরিকল্পনায় তৃতীয় লিঙ্গের জনগোষ্ঠীকে শহরের মূলধারার অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে সম্পৃক্ত করার লক্ষ্যে একটি গুরুত্বপূর্ণ উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে। এর অংশ হিসেবে ডিএনসিসি দিয়াবাড়ী এলাকায় তৃতীয় লিঙ্গের ৩০ জন সদস্যকে অস্থায়ী দোকান স্থাপনের জন্য জায়গা বরাদ্দ দিয়েছে। প্রতিটি দোকানের জন্য ১৫ বর্গফুট করে স্থান নির্ধারণ করা হয়েছে, যাতে তারা সম্মানজনকভাবে জীবিকা নির্বাহের সুযোগ পান।

আজ রাজধানীর নগরভবনে আয়োজিত এক আনুষ্ঠানিক অনুষ্ঠানে তৃতীয় লিঙ্গের প্রতিনিধিদের হাতে এই বরাদ্দপত্র তুলে দেন ডিএনসিসির প্রশাসক মোহাম্মদ এজাজ। অনুষ্ঠানে তিনি বলেন, একটি ন্যায়ভিত্তিক, মানবিক ও অন্তর্ভুক্তিমূলক শহর গড়ে তুলতে হলে সমাজের সকল শ্রেণি ও লিঙ্গের মানুষকে অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে যুক্ত করা অপরিহার্য। তৃতীয় লিঙ্গের জনগোষ্ঠী দীর্ঘদিন ধরে অবহেলা ও বঞ্চনার শিকার হলেও, তাদের মধ্যেও রয়েছে কাজের দক্ষতা ও সম্ভাবনা—যা রাষ্ট্র ও সমাজের উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।

তিনি আরও জানান, এই উদ্যোগকে কেবল অস্থায়ী সহায়তার মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখা হবে না। ভবিষ্যতে এসএমই ফাউন্ডেশনের সহযোগিতায় তৃতীয় লিঙ্গের জনগোষ্ঠীর জন্য প্রয়োজনীয় প্রশিক্ষণ, দক্ষতা উন্নয়ন এবং ধাপে ধাপে ফর্মাল ব্যবসায় রূপান্তরের পরিকল্পনা গ্রহণ করা হবে, যাতে তারা স্বনির্ভর উদ্যোক্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হতে পারেন।

অনুষ্ঠানে উপস্থিত তৃতীয় লিঙ্গের প্রতিনিধিরা এই উদ্যোগকে মর্যাদা, আত্মবিশ্বাস ও অর্থনৈতিক সক্ষমতা বৃদ্ধির একটি বড় সুযোগ হিসেবে দেখছেন। তারা বলেন, সুযোগ ও সহায়তা পেলে তারাও কর্মমুখী হয়ে দেশের সামগ্রিক উন্নয়নযাত্রায় সক্রিয় ভূমিকা রাখতে পারবেন।

সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, ডিএনসিসির এই উদ্যোগ সামাজিক স্বীকৃতি ও ক্ষমতায়নের একটি নতুন দিগন্ত উন্মোচন করবে এবং একটি অন্তর্ভুক্তিমূলক নগর গঠনে বাস্তব ও কার্যকর পদক্ষেপ হিসেবে দৃষ্টান্ত স্থাপন করবে।