শনিবার, ১১ এপ্রিল, ২০২৬

মার্চে দেশে আসছে ৩.৩৬ লাখ টন ডিজেল, জ্বালানি সরবরাহে স্বস্তির আশা


চলতি মার্চ মাসে দেশে মোট তিন লাখ ৩৬ হাজার ৩৭৯ মেট্রিক টন ডিজেল যুক্ত হতে যাচ্ছে। বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশন (বিপিসি) বিভিন্ন দেশ থেকে আমদানির পাশাপাশি দেশীয় শোধনাগার ও পেট্রোলিয়াম প্ল্যান্ট থেকে এই জ্বালানি সরবরাহ করবে। মধ্যপ্রাচ্যের চলমান উত্তেজনার মধ্যেও জ্বালানি সরবরাহ স্বাভাবিক রাখতে এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

১১ মার্চ ২০২৬, ১০:৩৫ পূর্বাহ্ণ 

মার্চে দেশে আসছে ৩.৩৬ লাখ টন ডিজেল, জ্বালানি সরবরাহে স্বস্তির আশা
  গুগল নিউজে ফলো করে আজকের প্রসঙ্গ এর সাথে থাকুন

চলতি মার্চ মাসে দেশে মোট তিন লাখ ৩৬ হাজার ৩৭৯ মেট্রিক টন ডিজেল যুক্ত হতে যাচ্ছে। বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশন (বিপিসি) বিভিন্ন দেশ থেকে আমদানির পাশাপাশি দেশীয় শোধনাগার ও পেট্রোলিয়াম প্ল্যান্ট থেকে এই জ্বালানি সরবরাহ করবে। এতে দেশের জ্বালানি সরবরাহ পরিস্থিতিতে কিছুটা স্বস্তি আসতে পারে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন।

বিপিসি সূত্র জানায়, মার্চ মাসে ১১টি চালানে বিদেশ থেকে মোট দুই লাখ ৮১ হাজার ৩৭৯ মেট্রিক টন ডিজেল আমদানি করা হবে। পাশাপাশি দেশের একমাত্র রাষ্ট্রীয় তেল শোধনাগার ইস্টার্ন রিফাইনারি লিমিটেড এবং দেশের বিভিন্ন পেট্রোলিয়াম প্ল্যান্ট থেকে আরও প্রায় ৫৫ হাজার মেট্রিক টন ডিজেল পাওয়া যাবে।

তবে বর্তমানে এক লাখ টন অপরিশোধিত তেল (ক্রুড অয়েল) নিয়ে দেশের একমাত্র রাষ্ট্রীয় তেল শোধনাগার ইস্টার্ন রিফাইনারি লিমিটেডের জন্য নির্ধারিত একটি মাদার ভেসেল সৌদি আরবের রাস তানুরা বন্দরে আটকা পড়ে আছে। এমটি নর্ডিক পলাঙ নামের জাহাজটি গত ২ মার্চ সকালে চট্টগ্রামের উদ্দেশে রওনা হওয়ার কথা ছিল। নির্ধারিত সময়ের আগেই জাহাজটিতে ক্রুড অয়েল লোড করা হলেও মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে সেটি এখনও বন্দরে নোঙর করে রয়েছে।

এদিকে ইতোমধ্যে গত ৩ মার্চ ৩২ হাজার ১৬৯ দশমিক ০৭ টন ডিজেল নিয়ে একটি জাহাজ চট্টগ্রাম বন্দরে পৌঁছেছে এবং তা খালাস সম্পন্ন হয়েছে। এছাড়া সোমবার (৯ মার্চ) ২৭ হাজার ২০৪ দশমিক ৬৬ টন ডিজেল নিয়ে ‘শিউ চি’ নামের একটি ট্যাংকার জাহাজ বন্দরের জলসীমায় প্রবেশ করেছে। সিঙ্গাপুর থেকে এসব ডিজেল আমদানি করা হয়েছে।

শিপিং এজেন্টদের তথ্য অনুযায়ী, মঙ্গলবার (১০ মার্চ) রাতেই ‘লিয়ান হুয়ান হু’ নামের একটি ট্যাংকার প্রায় ২৭ হাজার টন ডিজেল নিয়ে চট্টগ্রাম বন্দরে পৌঁছাতে পারে। এছাড়া ১২ মার্চ ‘এসপিটি থেমিস’ নামের আরেকটি জাহাজ ৩০ হাজার টন ডিজেল নিয়ে বন্দরে আসার সম্ভাবনা রয়েছে।

এর পাশাপাশি ‘র‍্যাফেলস সামুরাই’ ও ‘চাং হাং হং তু’ নামের আরও দুটি ট্যাংকার ১৩ মার্চ বন্দরে পৌঁছাতে পারে। প্রতিটি জাহাজেই প্রায় ৩০ হাজার টন করে ডিজেল রয়েছে বলে জানা গেছে।

বিপিসি সূত্র আরও জানায়, মার্চ মাসের মধ্যে ২৪ মার্চ ৩০ হাজার মেট্রিক টন, ২৫ মার্চ ৩০ হাজার মেট্রিক টন ও ১০ হাজার মেট্রিক টন এবং ২৭ মার্চ আরও ৩০ হাজার মেট্রিক টন ডিজেল নিয়ে কয়েকটি জাহাজ চট্টগ্রাম বন্দরে পৌঁছানোর কথা রয়েছে।

বিপিসির কর্মকর্তারা জানান, মার্চ মাসে দেশের একমাত্র তেল শোধনাগার ইস্টার্ন রিফাইনারি লিমিটেড এবং দেশে স্থাপিত অন্যান্য পেট্রোলিয়াম প্ল্যান্ট থেকে প্রায় ৫৫ হাজার মেট্রিক টন ডিজেল সরবরাহ করা হবে। চারটি ট্যাংকারের স্থানীয় এজেন্ট প্রতিষ্ঠান প্রাইড শিপিং লাইন্সের ব্যবস্থাপনা পরিচালক নজরুল ইসলাম বলেন, পরিকল্পনা অনুযায়ী এক সপ্তাহের মধ্যেই সব জাহাজ বন্দরে পৌঁছানোর কথা রয়েছে। এরপর ধাপে ধাপে জ্বালানি খালাসের কাজ শুরু হবে।

বিপিসির তথ্য অনুযায়ী, দেশে ব্যবহৃত মোট জ্বালানির প্রায় ৭০ শতাংশই ডিজেল। প্রতিদিন গড়ে প্রায় ১২ হাজার টন ডিজেলের চাহিদা রয়েছে, যার বড় অংশই আমদানির ওপর নির্ভরশীল।

চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান রিয়ার অ্যাডমিরাল এস এম মনিরুজ্জামান বলেন, জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থা আরও গতিশীল করতে সরকারি ও বেসরকারি পর্যায়ের সব চাহিদা সমন্বিতভাবে নিরূপণ করা হচ্ছে। পাশাপাশি জ্বালানিবাহী জাহাজকে চট্টগ্রাম বন্দরে বিশেষ অগ্রাধিকার ভিত্তিতে বার্থিং সুবিধা দেওয়া হচ্ছে। তিনি আরও বলেন, বন্দরের জ্বালানি তেলের নিরবচ্ছিন্ন সাপ্লাই চেইন নিশ্চিত করা এবং দেশের জ্বালানি নিরাপত্তা রক্ষায় চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ সবসময় সজাগ রয়েছে। এছাড়া চট্টগ্রাম বন্দরে আসা অধিকাংশ জাহাজের জ্বালানি সরবরাহের প্রধান উৎস সিঙ্গাপুর ও মালয়েশিয়া হওয়ায় বৈশ্বিক ভূরাজনৈতিক অস্থিরতার প্রভাব এখানে তুলনামূলক কম পড়ছে।