জুলাই গণঅভ্যুত্থান আইন ২০২৬ পাস: অংশগ্রহণকারীদের সুরক্ষা ও মামলা প্রত্যাহারের বিধান
২৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ২:০৬ অপরাহ্ণ
পিলখানা হত্যাকাণ্ড নিয়ে নতুন করে আর কোনো তদন্ত কমিশন গঠন করা হবে না বলে স্পষ্ট জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। বুধবার (২৫ ফেব্রুয়ারি) ‘শহিদ সেনা দিবস’ উপলক্ষে বনানী সামরিক কবরস্থান-এ শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা বলেন।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জানান, অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে একটি স্বাধীন জাতীয় তদন্ত কমিশন গঠন করা হয়েছিল এবং সেই কমিশনের প্রতিবেদন সরকার হাতে পেয়েছে। তিনি বলেন, “আমরা জনগণের ম্যান্ডেট নিয়ে অল্প কিছুদিন হলো সরকারে এসেছি। তার আগে ইন্টারিম গভর্নমেন্ট রিপোর্টটি হাতে পেয়েছিল। তবে রিপোর্ট বাস্তবায়নের জন্য তেমন কোনো কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি।”
তিনি আরও বলেন, “আমি কয়েকদিন আগে পুরো রিপোর্ট না দেখে কিছু মন্তব্য করেছিলাম, যা আজ সংশোধন করছি। যেহেতু একটি জাতীয় ও স্বাধীন তদন্ত কমিশন গঠিত হয়েছিল এবং দক্ষ ও উপযুক্ত ব্যক্তিদের দিয়েই তা করা হয়েছে, তাই আমরা নতুন করে কোনো তদন্ত কমিশন করবো না।”
মন্ত্রী জানান, কমিশনের প্রতিবেদনে যে সুপারিশমালা দেওয়া হয়েছে, তার অনেকগুলো ইতোমধ্যে বাস্তবায়নাধীন রয়েছে। বিচারাধীন মামলাগুলো দ্রুত নিষ্পত্তির উদ্যোগ নেওয়া হবে বলেও জানান তিনি।
সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, “অন্যান্য যে সুপারিশগুলো আছে, সেগুলো আমরা ধাপে ধাপে বাস্তবায়ন করবো ইনশাআল্লাহ। শহিদ পরিবারদের আশ্বস্ত করতে চাই- পিলখানা হত্যাকাণ্ডের যথাযথ বিচার নিশ্চিত করা হবে, যাতে ভবিষ্যতে জাতীয় জীবনে এ ধরনের ঘটনা আর না ঘটে।”
তিনি আরও বলেন, এই ঘটনা ছিল বাংলাদেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্বের প্রতি হুমকি। “বাংলাদেশ সেনাবাহিনীকে দুর্বল করা বা আন্ডারমাইন্ড করার লক্ষ্য ছিল- এমন ধারণা করা যায়। যারা দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্বে বিশ্বাস করে না কিংবা বাংলাদেশকে দুর্বল রাষ্ট্র হিসেবে দেখতে চায়, তাদেরই এমন উদ্দেশ্য থাকতে পারে,” যোগ করেন তিনি।
উল্লেখ্য, ২০০৯ সালে রাজধানীর পিলখানায় তৎকালীন বিডিআর সদর দপ্তরে সংঘটিত হত্যাকাণ্ডে বহু সেনা কর্মকর্তা প্রাণ হারান। ঘটনাটি দেশের ইতিহাসে অন্যতম আলোচিত ও মর্মান্তিক অধ্যায় হিসেবে বিবেচিত।