সৌদি আরবে কর্মরতদের আকামা নবায়নে নতুন নিয়ম
২১ জুলাই ২০২৬, ৯:১০ অপরাহ্ণ
পটুয়াখালীর কলাপাড়ায় আলোচিত কনটেন্ট ক্রিয়েটর ও জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) নেতা নুরুজ্জামান কাফি, তার বাবা এ বি এম হাবিবুর রহমান এবং বড় ভাই মামুনের বিরুদ্ধে জমি দখল, চাঁদাবাজি ও ভয়ভীতি প্রদর্শনের অভিযোগে আদালতে মামলা করা হয়েছে।
রোববার (১৯ জুলাই) খেপুপাড়া সরকারি মডেল মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক আব্দুর রহিম কলাপাড়া সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে মামলাটি দায়ের করেন। অভিযোগটি আমলে নিয়ে আদালত কলাপাড়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে (ওসি) তদন্ত করে প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশ দিয়েছেন।
মামলার এজাহারে বলা হয়েছে, গত ১১ জুলাই সকাল সাড়ে ১০টার দিকে অভিযুক্তরা একটি এক্সকাভেটর (ভেকু), ভ্যান ও খোয়া নিয়ে বিদ্যালয়ের রজপাড়া মৌজার বিএস খতিয়ান নম্বর-১২-এর ৫৯ নম্বর দাগভুক্ত জমিতে প্রবেশ করেন। সেখানে মাটি কেটে রাস্তা নির্মাণের চেষ্টা করা হলে বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক আব্দুর রহিম অন্যান্য শিক্ষকদের নিয়ে বাধা দেন।
অভিযোগ অনুযায়ী, বাধা দেওয়ার পর অভিযুক্তরা শিক্ষকদের কাছে ১০ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করেন। চাঁদা দিতে অস্বীকৃতি জানালে তাদের সঙ্গে দুর্ব্যবহার করা হয় এবং প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হয়। এজাহারে আরও উল্লেখ করা হয়েছে, অভিযুক্তরা বিদ্যালয়ের প্রায় ৬ শতাংশ জমি থেকে আনুমানিক ১ লাখ টাকার মাটি কেটে সরিয়ে নেন এবং সেখানে খোয়া ফেলে রাস্তা নির্মাণ করেন। এতে বিদ্যালয়ের প্রায় ৫ লাখ টাকার ক্ষতি হয়েছে বলে দাবি করা হয়েছে।
মামলার বাদী আব্দুর রহিম বলেন, রজপাড়া মৌজার একাধিক বিএস দাগে মোট ২১ দশমিক ৭৬ একর জমির মালিক খেপুপাড়া সরকারি মডেল মাধ্যমিক বিদ্যালয়। দীর্ঘদিন ধরে বিদ্যালয়টি সরকারি খাসজমিসহ নির্ধারিত সীমানার জমি ভোগদখল করে আসছে। ঘটনার পর স্থানীয়ভাবে বিষয়টি মীমাংসার চেষ্টা করা হলেও অভিযুক্তরা তাতে সম্মত হননি। পরে কলাপাড়া থানায় গেলে আদালতে মামলা করার পরামর্শ দেওয়া হয়। এরপর তিনি আদালতে মামলা দায়ের করেন এবং বিদ্যালয়ের জমি রক্ষায় ন্যায়বিচার দাবি করেন।
তবে অভিযোগ সম্পূর্ণ অস্বীকার করেছেন নুরুজ্জামান কাফি। গণমাধ্যমকে তিনি বলেন, সংশ্লিষ্ট জমির প্রকৃত উত্তরাধিকারীরা সুপ্রিম কোর্টের রায় পাওয়ার পর তাদের কাছ থেকে তিনি বায়নামূলে জমি ক্রয় করেছেন। জমির মালিকরা তাকে জমি বুঝিয়ে দেওয়ার পর সেখানে রাস্তা নির্মাণ করা হয়েছে।
কাফির দাবি, বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষকের সঙ্গে তার কখনও সামনাসামনি সাক্ষাৎ হয়নি। তার বিরুদ্ধে আনা সব অভিযোগই মিথ্যা, ভিত্তিহীন ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত। সুষ্ঠু তদন্ত হলে প্রকৃত সত্য উদঘাটিত হবে বলেও তিনি মন্তব্য করেন।