এসএসসি পরীক্ষা ২০২৬: কঠোর নীতিমালায় নতুন নিয়ম ও শাস্তির বিধান
১৬ ডিসেম্বর ২০২৫, ৭:২০ অপরাহ্ণ
ভূমি ব্যবস্থায় শৃঙ্খলা ফেরানো এবং অবৈধ দখল উচ্ছেদের লক্ষ্যে নতুন কঠোর নির্দেশনা জারি করেছে বাংলাদেশ সরকার। ভূমি মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, শুধু দলিল থাকলেই জমির বৈধ মালিকানা নিশ্চিত হয় না। অনেক ক্ষেত্রে দলিল বৈধ হলেও মালিকানা ও দখলের আইনগত ভিত্তি না থাকলে সেই দখল অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে।
সাম্প্রতিক সময়ে প্রকাশিত সরকারি পরিপত্র ও প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে- দলিল যার, ভূমি তার’ এই ধারণা সবক্ষেত্রে প্রযোজ্য নয়। আইন ও বিধি অনুযায়ী মালিকানা প্রতিষ্ঠিত না হলে দখল বজায় রাখা যাবে না। এ অবস্থায় ২০২৫ সালের মধ্যে পাঁচ ধরনের জমির দখল ছাড়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
সরকারি নির্দেশনায় উল্লেখ করা পাঁচ ধরনের জমির মধ্যে রয়েছে-
সাব-কবলা দলিলভুক্ত জমি:
যেসব সাব-কবলা দলিল উত্তরাধিকার সম্পত্তি সঠিকভাবে বণ্টন না করে করা হয়েছে এবং কোনো ওয়ারিশকে বঞ্চিত করা হয়েছে, সেসব দলিল বাতিলযোগ্য বলে বিবেচিত হবে। বঞ্চিত ওয়ারিশ আদালতে মামলা করলে দখলদারের দলিল খারিজ হওয়ার ঝুঁকি রয়েছে।
হেবা দলিল:
যেসব হেবা দলিল দাতার সম্পূর্ণ মালিকানাধীন সম্পত্তি নয় অথবা আইনগত প্রক্রিয়া অনুসরণ না করে গ্রহণ করা হয়েছে, সেগুলোও অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। শর্ত ভঙ্গ করে করা হেবা দলিল আদালতে বাতিল হতে পারে।
জাল দলিল:
ডিজিটাল ভূমি ব্যবস্থাপনার ফলে জাল দলিল শনাক্ত করা এখন সহজ হয়েছে। সাব-রেজিস্ট্রি অফিসে দুর্নীতির মাধ্যমে তৈরি দলিলও বাতিল হবে, যদি প্রকৃত মালিক প্রয়োজনীয় প্রমাণ উপস্থাপন করেন।
খাস খতিয়ানের জমি:
সরকারি খাস খতিয়ানে থাকা জমি কেউ ব্যক্তিগত নামে দলিল করে বিক্রি করলে সেই দলিল স্বয়ংক্রিয়ভাবে বাতিল হবে। এসব জমি পুনরুদ্ধারে জেলা প্রশাসককে প্রয়োজনীয় আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
অর্পিত সম্পত্তি:
মুক্তিযুদ্ধ-পরবর্তী সময়ে পরিত্যক্ত ঘোষিত অর্পিত সম্পত্তি ব্যক্তিগত দখলে রাখা যাবে না। এসব জমি এসিল্যান্ডের মাধ্যমে শনাক্ত করে সরকারকে বুঝিয়ে দেওয়ার নির্দেশ রয়েছে।
পরিপত্রে আরও বলা হয়েছে, আদালতের রায় ছাড়া এসব জমির দখল টিকিয়ে রাখা যাবে না। ফলে দীর্ঘদিন ধরে যারা এসব জমি ভোগ করে আসছেন, তাদের দ্রুত আইনি প্রস্তুতি নেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। ভূমি মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, এই উদ্যোগের মূল লক্ষ্য হলো সরকারের সম্পত্তি পুনরুদ্ধার, ভূমি ব্যবস্থায় স্বচ্ছতা আনা এবং সাধারণ মানুষের ন্যায্য অধিকার নিশ্চিত করা। এতে একদিকে বৈধ মালিকরা তাদের অধিকার ফিরে পাবেন, অন্যদিকে সরকারের রাজস্ব আয়ও বাড়বে বলে আশা করা হচ্ছে।