বাংলা কিউআরে নতুন বেশ কিছু সুবিধা চালুর নির্দেশ
২১ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৯:৪৩ পূর্বাহ্ণ
আবারও বাড়ানো হয়েছে জ্বালানি তেলের দাম। নতুন সিদ্ধান্তে ডিজেল, কেরোসিন, পেট্রল ও অকটেন—চার ধরনের জ্বালানির দামই লিটারপ্রতি ২০ টাকা করে বেড়েছে। আগামীকাল সোমবার (২১ সেপ্টেম্বর) থেকে নতুন দাম কার্যকর হবে। ফলে ডিজেলের দাম ১৩৫, কেরোসিন ১৫৫, পেট্রল ১৬০ এবং অকটেনের দাম দাঁড়াবে ১৬৫ টাকা লিটার।
রোববার জারি করা জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগের প্রজ্ঞাপনে এ তথ্য জানানো হয়েছে। প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, এতদিন ডিজেল ১১৫, কেরোসিন ১৩৫, পেট্রল ১৪০ এবং অকটেন ১৪৫ টাকা লিটারে বিক্রি হয়েছে। অর্থাৎ এক দিনেই চার ধরনের জ্বালানির দাম ২০ টাকা করে বাড়ানো হলো।
জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগের প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, মধ্যপ্রাচ্যে চলমান যুদ্ধের কারণে মার্চ থেকে আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি তেলের দাম ও ফ্রেইট চার্জ উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানির দাম দ্বিগুণের বেশি বাড়লেও জনস্বার্থে দেশে তা পুরোপুরি সমন্বয় করা হয়নি। এতে মার্চ থেকে আগস্ট পর্যন্ত বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশনের (বিপিসি) প্রায় ২২ হাজার ৮৭৫ কোটি ৬৬ লাখ টাকা লোকসান হয়েছে বলে প্রজ্ঞাপনে উল্লেখ করা হয়েছে।
প্রজ্ঞাপনের তথ্য অনুযায়ী, বর্তমান আন্তর্জাতিক বাজারদরে ডিজেলে প্রতি লিটারে বিপিসির লোকসান প্রায় ৮৯ টাকা। এতে দৈনিক লোকসানের পরিমাণ প্রায় ১০৯ কোটি টাকা। শুধু ডিজেলেই বছরে প্রায় ৪০ হাজার কোটি টাকা লোকসান হতে পারে।
লিটারপ্রতি ২০ টাকা দাম বাড়ালে বছরে বিপিসির লোকসান প্রায় ১০ হাজার কোটি টাকা কমানো সম্ভব হবে বলেও প্রজ্ঞাপনে উল্লেখ করা হয়েছে। এর আগে গত ১৯ এপ্রিল ডিজেলের দাম ১৫ টাকা বাড়িয়ে ১১৫ টাকা করা হয়। একই সময়ে কেরোসিন ১৮, পেট্রল ১৯ এবং অকটেনের দাম ২০ টাকা বাড়ানো হয়েছিল। পরে জুনে কেরোসিন, পেট্রল ও অকটেনের দাম আরও ৫ টাকা করে বাড়ানো হয়। এরপর জুলাই, আগস্ট ও সেপ্টেম্বর পর্যন্ত জ্বালানি তেলের দাম অপরিবর্তিত ছিল।
আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি তেলের দাম বেড়ে যাওয়ায় আমদানি ব্যয় কয়েক গুণ বেড়েছে। অন্যদিকে দেশে তুলনামূলক কম দামে জ্বালানি তেল বিক্রি করায় বড় ধরনের লোকসানে পড়েছে বিপিসি। এতে সংস্থাটির নিজস্ব তহবিল দ্রুত কমে এসেছে। তেল আমদানি স্বাভাবিক রাখতে সরকার বিপিসিকে ৪ থেকে ৫ হাজার কোটি টাকা সহায়তা দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্রের বরাতে জানা গেছে, বিপিসির ব্যাংক হিসাবে বর্তমানে প্রায় ১২ হাজার ৩৬৮ কোটি টাকা রয়েছে। এ অর্থ দিয়ে সেপ্টেম্বরের আমদানি ব্যয় মেটানো সম্ভব হলেও অক্টোবরে তেল আমদানি অব্যাহত রাখতে অর্থসংকট তৈরি হতে পারে।