বৃহস্পতিবার, ৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৬

আগামী ১৫ দিনের মধ্যে বিদ্যুৎ পরিস্থিতির দৃশ্যমান উন্নতি হবে: প্রতিমন্ত্রী


দেশের চলমান বিদ্যুৎ ও গ্যাস সংকট নিরসনে সরকার সর্বোচ্চ চেষ্টা করছে বলে জানিয়েছেন বিদ্যুৎ ও জ্বালানি প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত। তিনি আশা প্রকাশ করে বলেছেন, আগামী ১৫ দিনের মধ্যে দেশের বিদ্যুৎ পরিস্থিতির দৃশ্যমান উন্নতি হবে এবং সেপ্টেম্বর মাসে আগস্টের মতো দুর্ভোগ এড়াতে সর্বাত্মক উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।

২ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৯:২৮ অপরাহ্ণ 

আগামী ১৫ দিনের মধ্যে বিদ্যুৎ পরিস্থিতির দৃশ্যমান উন্নতি হবে: প্রতিমন্ত্রী
  গুগল নিউজে ফলো করে আজকের প্রসঙ্গ এর সাথে থাকুন

দেশের চলমান বিদ্যুৎ ও গ্যাস সংকট নিরসনে সরকার সর্বোচ্চ চেষ্টা করছে বলে জানিয়েছেন বিদ্যুৎ ও জ্বালানি প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত। তিনি আশা প্রকাশ করে বলেছেন, আগামী ১৫ দিনের মধ্যে দেশের বিদ্যুৎ পরিস্থিতির দৃশ্যমান উন্নতি হবে এবং সেপ্টেম্বর মাসে আগস্টের মতো দুর্ভোগ এড়াতে সর্বাত্মক উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।

বুধবার সংসদে দেশের চলমান বিদ্যুৎ সংকট নিয়ে বিরোধী দলের সদস্য নূরুল ইসলাম বুলবুলের এক সম্পূরক প্রশ্নের জবাবে প্রতিমন্ত্রী এসব কথা বলেন। বিকেল সাড়ে ৩টায় স্পিকার হাফিজউদ্দিন আহমদের সভাপতিত্বে সংসদের বৈঠক শুরু হয়।

বিদ্যুৎ ও গ্যাস সংকটের কারণে মানুষের দুর্ভোগের জন্য দুঃখ প্রকাশ করে অনিন্দ্য ইসলাম অমিত বলেন, সাম্প্রতিক সময়ে দেশের মানুষ বিদ্যুৎ ও গ্যাস সরবরাহ নিয়ে কষ্টে রয়েছে। তিনি বলেন, নিছক কথামালার আড়ালে প্রকৃত সত্যকে লুকাতে চান না।

বর্তমান সংকটকে বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতে দীর্ঘদিনের ভুল নীতির অনিবার্য পরিণতি হিসেবে উল্লেখ করেন প্রতিমন্ত্রী। একই সঙ্গে সাম্প্রতিক মধ্যপ্রাচ্য সংকটও জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থায় নতুন করে চাপ তৈরি করেছে বলে জানান তিনি।

গ্যাসভিত্তিক বিদ্যুৎ উৎপাদনে অতিরিক্ত নির্ভরতার সীমাবদ্ধতার কথা তুলে ধরে প্রতিমন্ত্রী বলেন, দেশে গ্যাসভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলোর মোট উৎপাদন সক্ষমতা প্রায় ১২ হাজার মেগাওয়াট। এসব কেন্দ্রের সক্ষমতা পুরোপুরি কাজে লাগাতে প্রতিদিন প্রায় ১ হাজার ৯০০ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস প্রয়োজন।

তবে দেশীয় উৎপাদন ও আমদানি করা এলএনজি মিলিয়ে বর্তমানে প্রতিদিন ২ হাজার ৩০০ থেকে ২ হাজার ৭০০ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস সরবরাহ করা সম্ভব হচ্ছে। ফলে বিদ্যুৎ উৎপাদন বাড়াতে গেলে শিল্প ও আবাসিক খাতে গ্যাস সরবরাহে সংকট দেখা দেওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। এ কারণে বিদ্যুৎ, শিল্প ও গৃহস্থালি- এই তিন খাতে ভারসাম্য রেখে গ্যাস সরবরাহ করতে হচ্ছে বলে জানান তিনি।

বিদ্যুৎ সংকটের পেছনে কয়েকটি বড় বিদ্যুৎকেন্দ্রের ইউনিট বন্ধ থাকাকেও গুরুত্বপূর্ণ কারণ হিসেবে উল্লেখ করেন প্রতিমন্ত্রী। তিনি জানান, পায়রা বিদ্যুৎকেন্দ্রের ৬১৬ মেগাওয়াট ক্ষমতার একটি ইউনিট কারিগরি ত্রুটির কারণে বন্ধ রয়েছে। একই ক্ষমতার মাতারবাড়ী বিদ্যুৎকেন্দ্রের একটি ইউনিটও রক্ষণাবেক্ষণ কাজের জন্য বন্ধ রয়েছে।

এ ছাড়া ভারতের আদানি গ্রুপের কাছ থেকেও চুক্তি অনুযায়ী বিদ্যুৎ পাওয়া যাচ্ছে না বলে জানান তিনি। চুক্তি অনুযায়ী ১ হাজার ৬০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ পাওয়ার কথা থাকলেও বর্তমানে দিনে প্রায় ৯০০ মেগাওয়াট এবং সন্ধ্যায় প্রায় ১ হাজার ১০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ পাওয়া যাচ্ছে।

আমদানি করা এলএনজি সরবরাহে ব্যবহৃত দুটি ভাসমান টার্মিনাল বা এফএসআরইউতে ত্রুটি দেখা দেওয়ায় জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থায় বড় ধরনের চাপ তৈরি হয়েছিল বলেও জানান প্রতিমন্ত্রী। গত ২১ জুলাই একটি এফএসআরইউতে ত্রুটি দেখা দেয় এবং তা মেরামতে প্রায় ২১ থেকে ২২ দিন সময় লাগে। এর সরাসরি প্রভাব পড়ে বিদ্যুৎ উৎপাদনেও।

তবে বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সংকটের প্রায় ৮৮ শতাংশ সমাধান করা সম্ভব হয়েছে বলে দাবি করেন অনিন্দ্য ইসলাম অমিত। পরিস্থিতি স্বাভাবিক করতে দ্রুত পায়রা ও মাতারবাড়ী বিদ্যুৎকেন্দ্রের বন্ধ ইউনিটগুলো চালুর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলেও জানান তিনি।

প্রতিমন্ত্রী বলেন, আগামী ১৫ দিনের মধ্যে দেশের বিদ্যুৎ পরিস্থিতির দৃশ্যমান উন্নতি হবে বলে তিনি আশাবাদী। তিনি বলেন, ‘আগস্ট মাসে বাংলাদেশের মানুষকে যে কষ্ট পোহাতে হয়েছে, অন্তত সেপ্টেম্বর মাসে এই কষ্ট যেন না পোহাতে হয়, সে ব্যাপারে আমরা সর্বাত্মক চেষ্টা করছি।’

আগামী গ্রীষ্মে বিদ্যুৎ সংকট মোকাবিলায় রুফটপ সোলারসহ বেশ কিছু দীর্ঘমেয়াদি উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে বলেও জানান প্রতিমন্ত্রী। সরকারের নতুন রুফটপ সোলার নীতির ফলে আগামী গ্রীষ্মে চলতি সময়ের মতো বিদ্যুৎ নিয়ে মানুষকে দুর্ভোগে পড়তে হবে না বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।

সংসদ সদস্যদের বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাত নিয়ে উদ্বেগকে স্বাভাবিক উল্লেখ করে অনিন্দ্য ইসলাম অমিত বলেন, জনগণের প্রতিনিধিদের কাছে প্রকৃত তথ্য তুলে ধরা এবং এ খাত নিয়ে থাকা ভুল বোঝাবুঝি দূর করতে সরকার কাজ করবে।