বুধবার, ১৯ আগস্ট, ২০২৬

ভূমি অফিসে অনিয়ম ঠেকাতে ডিসিদের ১৪ নির্দেশনা


ভূমিসেবার মানোন্নয়ন, নাগরিক হয়রানি কমানো এবং দালালমুক্ত ও জবাবদিহিমূলক ভূমি প্রশাসন নিশ্চিত করতে উপজেলা ভূমি অফিস, রাজস্ব সার্কেল এবং ইউনিয়ন ও পৌর ভূমি অফিস নিয়মিত মনিটরিংয়ের নির্দেশ দিয়েছে ভূমি মন্ত্রণালয়। এ লক্ষ্যে দেশের জেলা প্রশাসকদের (ডিসি) ১৪টি নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

১৯ আগস্ট ২০২৬, ২:৪৮ অপরাহ্ণ 

ভূমি অফিসে অনিয়ম ঠেকাতে ডিসিদের ১৪ নির্দেশনা
  গুগল নিউজে ফলো করে আজকের প্রসঙ্গ এর সাথে থাকুন

ভূমি অফিসের কার্যক্রমে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে মাঠপর্যায়ের ভূমি অফিসগুলো নিয়মিত মনিটরিংয়ের আওতায় আনার নির্দেশ দিয়েছে ভূমি মন্ত্রণালয়। একই সঙ্গে নাগরিকদের হয়রানি কমানো, দালাল ও দুর্নীতি বন্ধ এবং নির্ধারিত সময়ে ভূমিসেবা নিশ্চিত করতে জেলা প্রশাসকদের (ডিসি) ১৪টি নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

ভূমি মন্ত্রণালয়ের ডিজিটাইজেশন, নলেজ ম্যানেজমেন্ট ও পারফরমেন্স (ডিকেএমপি) অনুবিভাগ থেকে সম্প্রতি দেশের সব জেলা প্রশাসকের কাছে এ সংক্রান্ত চিঠি পাঠানো হয়। গত ১২ আগস্ট জারি করা ওই চিঠিতে মাঠপর্যায়ের ভূমি অফিসগুলোর কার্যক্রম তদারকিতে এসব নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

চিঠিতে বলা হয়েছে, জেলা প্রশাসক জেলার ভূমি প্রশাসনের প্রধান হিসেবে মাঠপর্যায়ের সব ভূমি অফিসের কার্যক্রমের সার্বিক তত্ত্বাবধান ও সমন্বয়ের দায়িত্ব পালন করেন। ভূমিসেবার গুণগত মান বৃদ্ধি, নাগরিক হয়রানি হ্রাস, দাপ্তরিক শৃঙ্খলা নিশ্চিত এবং সরকারি নির্দেশনার যথাযথ বাস্তবায়নের লক্ষ্যে নিয়মিত মনিটরিং করতে হবে।

ডিসিদের ১৪ নির্দেশনা

১. ভূমি অফিসের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের নিয়মিত উপস্থিতি, দাপ্তরিক শৃঙ্খলা ও সময়ানুবর্তিতা নিশ্চিত করতে হবে।

২. নামজারি, ভূমি উন্নয়ন কর, খতিয়ান, নকশা, রেকর্ড সংশোধনসহ ভূমি-সংক্রান্ত আবেদন নির্ধারিত সময়ের মধ্যে নিষ্পত্তি হচ্ছে কি না, তা নিয়মিত পর্যবেক্ষণ করতে হবে।

৩. ভূমিসেবা নিতে আসা নাগরিকদের সঙ্গে ভালো আচরণ এবং হয়রানিমুক্ত পরিবেশ নিশ্চিত করতে হবে।

৪. অনলাইন ভূমিসেবা, ই-নামজারি, ভূমি উন্নয়ন কর ও ডিজিটাল রেকর্ড ব্যবস্থাপনাসহ আইসিটি-ভিত্তিক সেবার কার্যকারিতা নিয়মিত পর্যালোচনা করতে হবে।

৫. দালালমুক্ত ও দুর্নীতিমুক্ত সেবা নিশ্চিত করতে কার্যকর ব্যবস্থা নিতে হবে। কোনো অভিযোগ পাওয়া গেলে দ্রুত তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে হবে।

৬. সেবা প্রদানের নির্ধারিত ফি, প্রক্রিয়া ও সময়সীমা অফিসে দৃশ্যমানভাবে প্রদর্শন করা হয়েছে কি না, তা নিশ্চিত করতে হবে।

৭. অভিযোগ গ্রহণ ও নিষ্পত্তির কার্যকর ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে হবে। ‘ভূমিসেবায় অভিযোগ ব্যবস্থাপনা ও কারিগরি সহায়তা সিস্টেম’ যথাযথভাবে ব্যবহার করে নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে অভিযোগ নিষ্পত্তি করতে হবে।

৮. অফিসের পরিচ্ছন্নতা, নথি সংরক্ষণ, রেকর্ড ব্যবস্থাপনা, তথ্য বোর্ড, নাগরিক সনদ ও সেবার মানদণ্ড হালনাগাদ রয়েছে কি না, তা যাচাই করতে হবে।

৯. সরকারি সম্পদ, কম্পিউটার, নেটওয়ার্ক, সার্ভার সংযোগ ও অন্যান্য আইটি সরঞ্জামের যথাযথ ব্যবহার ও রক্ষণাবেক্ষণ নিশ্চিত করতে হবে।

১০. ভূমি অফিসে স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা, সুশাসন ও দুর্নীতি প্রতিরোধমূলক কার্যক্রম বাস্তবায়নের অগ্রগতি পর্যালোচনা করতে হবে।

১১. ভূমি আইন, বিধি, পরিপত্র এবং ভূমি মন্ত্রণালয়ের জারি করা নির্দেশনা যথাযথভাবে অনুসরণ করা হচ্ছে কি না, তা যাচাই করতে হবে।

১২. ‘ভূমিসেবা সহায়তা কেন্দ্রের’ সংখ্যা বৃদ্ধি এবং এর কার্যক্রম নিয়মিত তদারকি করতে হবে।

১৩. আকস্মিক পরিদর্শনের মাধ্যমে ভূমি অফিসের বাস্তব পরিস্থিতি মূল্যায়ন করতে হবে। পরিদর্শনে কোনো সমস্যা, অনিয়ম বা সীমাবদ্ধতা চিহ্নিত হলে এবং সংশোধনমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হলে তা লিখিতভাবে সংরক্ষণ করতে হবে। গুরুতর অনিয়ম বা দুর্নীতির অভিযোগ পাওয়া গেলে তাৎক্ষণিক তদন্ত করে প্রচলিত আইন ও বিধি অনুযায়ী ব্যবস্থা নিতে হবে।

১৪. মনিটরিং কার্যক্রমের সারসংক্ষেপ, উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি, চ্যালেঞ্জ ও গৃহীত ব্যবস্থা উল্লেখ করে মাসিক প্রতিবেদন পরবর্তী মাসের ১০ তারিখের মধ্যে ভূমি মন্ত্রণালয়ে পাঠাতে হবে।

চিঠিতে বলা হয়েছে, জেলা প্রশাসকদের প্রত্যক্ষ তদারকি, কার্যকর নেতৃত্ব ও নিয়মিত মনিটরিংয়ের মাধ্যমে মাঠপর্যায়ে ভূমিসেবার গুণগত মান আরও উন্নত করা সম্ভব হবে। একই সঙ্গে সেবাপ্রার্থীদের ভোগান্তি কমিয়ে একটি স্বচ্ছ, জবাবদিহিমূলক ও জনমুখী ভূমি প্রশাসন প্রতিষ্ঠা করাই এ উদ্যোগের মূল লক্ষ্য।