ট্রাম্পের ‘বোর্ড অব পিস’ পরিকল্পনায় নিরস্ত্রীকরণে রাজি হামাস
১ আগস্ট ২০২৬, ৯:০১ অপরাহ্ণ
সরকার ও ব্যবসায়ীদের পারস্পরিক সহযোগিতা জোরদার করা গেলে আগামী চার থেকে পাঁচ বছরের মধ্যে দেশের অর্থনীতিতে ইতিবাচক পরিবর্তন আনা সম্ভব বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
শনিবার (১ আগস্ট) প্রধানমন্ত্রীর তেজগাঁও কার্যালয়ে বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (বিডা) আয়োজিত বেসরকারি উদ্যোক্তাদের সঙ্গে প্রায় চার ঘণ্টাব্যাপী মতবিনিময় সভায় তিনি এ মন্তব্য করেন।
প্রধানমন্ত্রীর উপ-প্রেস সচিব হাসান শিপলু জানান, বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী বলেন, দেশের উন্নয়ন ও মানুষের কল্যাণই সরকারের মূল লক্ষ্য। বিভিন্ন ক্ষেত্রে কিছু সমস্যা থাকলেও সরকার ও ব্যবসায়ীরা একসঙ্গে কাজ করলে সেগুলো কাটিয়ে ওঠা সম্ভব। দেশের অর্থনীতির বিদ্যমান চ্যালেঞ্জগুলো সরকার যেমন উপলব্ধি করছে, তেমনি ব্যবসায়ীরাও তা অনুধাবন করছেন। এসব সমস্যা সমাধানে সরকার আন্তরিকভাবে কাজ করছে এবং এ বিষয়ে সরকার ও ব্যবসায়ী মহলের মধ্যে আলোচনা ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, সরকারের দায়িত্ব গ্রহণের ছয় মাসও পূর্ণ হয়নি। এর মধ্যেই ব্যবসায়ীদের সঙ্গে একাধিক দফায় বৈঠক হয়েছে। প্রথমে উদ্যোক্তাদের সঙ্গে এবং পরে বিভিন্ন ফোরামের সঙ্গে আলোচনা করা হয়েছে। পাশাপাশি সেক্টরভিত্তিক সমস্যাগুলো চিহ্নিত করে সমাধানের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। আগের বৈঠকের প্রসঙ্গ উল্লেখ করে তিনি বলেন, ব্যবসায়ীরা যেসব সমস্যার কথা তুলে ধরেছিলেন, তার অনেকগুলোরই সমাধান করা হয়েছে। আজকের বৈঠকেও নতুন কিছু বিষয় উঠে এসেছে, সেগুলো নিয়েও সরকার প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেবে।তিনি আরও জানান, আগামী দুই থেকে তিন মাসের মধ্যে আবারও ব্যবসায়ীদের সঙ্গে বৈঠকে বসবে সরকার।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, যত বেশি আলোচনা হবে, তত বেশি সমস্যার প্রকৃত চিত্র উঠে আসবে এবং কার্যকর সমাধান বের করা সহজ হবে। এ ধরনের সংলাপ ধারাবাহিকভাবে চলতে থাকলে আগামী চার থেকে পাঁচ বছরের মধ্যে দেশের অর্থনীতিতে ইতিবাচক পরিবর্তন আনা সম্ভব হবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
বৈঠকে ব্যবসা সম্প্রসারণ, বিদেশি বিনিয়োগ বৃদ্ধি এবং নতুন শিল্পায়নের অনুকূল পরিবেশ তৈরির বিভিন্ন বিষয় নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়। উদ্যোক্তারা সহজ শর্তে ঋণপ্রাপ্তি, নীতিগত সহায়তা এবং আরও ব্যবসাবান্ধব পরিবেশ নিশ্চিত করার দাবি জানান। একই সঙ্গে সরকারের বিভিন্ন অর্থনৈতিক উদ্যোগের প্রশংসা করে চলমান কার্যক্রমের অগ্রগতিতেও সন্তোষ প্রকাশ করেন ব্যবসায়ীরা।
সভায় জানানো হয়, আগের বৈঠকে আলোচিত ২৮টি সমস্যার মধ্যে ২১টির বিষয়ে ইতোমধ্যে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। বাকি সাতটি বিষয় প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। এ সময় ব্যবসায়ীরা ২০৩০ সালের মধ্যে দেশের রপ্তানি আয় ১০০ বিলিয়ন মার্কিন ডলারে উন্নীত করার একটি রূপরেখা তুলে ধরেন। রপ্তানি বাড়াতে কূটনৈতিক পর্যায়ে প্রয়োজনীয় সহযোগিতা দেওয়ার আশ্বাস দেয় সরকার।
বৈঠকে অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ, বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদমন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু, বাণিজ্য, শিল্প, বস্ত্র ও পাটমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির, সড়ক, সেতু, রেলপথ ও নৌপরিবহনমন্ত্রী শেখ রবিউল আলম, প্রধানমন্ত্রীর অর্থ ও পরিকল্পনা উপদেষ্টা রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর, বিডার নির্বাহী চেয়ারম্যান আশিক চৌধুরী, বাংলাদেশ ব্যাংক-এর গভর্নর মোস্তাকুর রহমান, সরকারের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা এবং বিভিন্ন শিল্পগোষ্ঠীর প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।