রবিবার, ২৬ জুলাই, ২০২৬

বাংলাদেশে বিক্রি হওয়া ৩৪ টুথপেস্টের মধ্যে ২৬টিতে মাইক্রোপ্লাস্টিক


বাংলাদেশের বাজারে বিক্রি হওয়া ৩৪টি টুথপেস্টের ওপর পরিচালিত এক গবেষণায় ২৬টি ব্র্যান্ডে মানবদেহের জন্য ক্ষতিকর মাইক্রোপ্লাস্টিকের উপস্থিতি শনাক্ত হয়েছে। গবেষণায় প্রতি ১০০ গ্রাম টুথপেস্টে সর্বনিম্ন ২০টি থেকে সর্বোচ্চ ৩২০টি পর্যন্ত প্লাস্টিকের কণা পাওয়া গেছে। সবচেয়ে বেশি মাইক্রোপ্লাস্টিক পাওয়া গেছে মেডিপ্লাস ফ্লুরিড জেলে।

২৬ জুলাই ২০২৬, ৩:২৯ অপরাহ্ণ 

বাংলাদেশে বিক্রি হওয়া ৩৪ টুথপেস্টের মধ্যে ২৬টিতে মাইক্রোপ্লাস্টিক
  গুগল নিউজে ফলো করে আজকের প্রসঙ্গ এর সাথে থাকুন

বাংলাদেশের বাজারে বিক্রি হওয়া বিভিন্ন ব্র্যান্ডের টুথপেস্টে উদ্বেগজনক মাত্রায় মাইক্রোপ্লাস্টিকের উপস্থিতি পাওয়া গেছে। পরিবেশ বিষয়ক গবেষণা সংস্থা এনভায়রনমেন্ট অ্যান্ড সোশ্যাল ডেভেলপমেন্ট অর্গানাইজেশন (এসডো) পরিচালিত এক বছরের গবেষণায় দেখা গেছে, পরীক্ষা করা ৩৪টি টুথপেস্টের মধ্যে ২৬টিতেই মানবদেহের জন্য ক্ষতিকর ক্ষুদ্র প্লাস্টিক কণা বা মাইক্রোপ্লাস্টিক রয়েছে।

রোববার (২৬ জুলাই) রাজধানীর লালমাটিয়ায় এসডোর কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে গবেষণার ফলাফল প্রকাশ করা হয়। সংস্থাটি জানায়, দেশের বিভিন্ন এলাকার ২ হাজার ৭৬০ জন ভোক্তার ওপর সমীক্ষা চালানোর পাশাপাশি জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবেশবিজ্ঞান বিভাগের এনভায়রনমেন্টাল হেলথ অ্যান্ড ইকোটক্সিকোলজি ল্যাবরেটরিতে স্টেরিওমাইক্রোস্কোপি এবং ফুরিয়ার ট্রান্সফর্ম ইনফ্রারেড (FTIR) স্পেকট্রোস্কোপি প্রযুক্তি ব্যবহার করে টুথপেস্টগুলোর বৈজ্ঞানিক পরীক্ষা করা হয়েছে।

গবেষণায় প্রতি ১০০ গ্রাম টুথপেস্টে সর্বনিম্ন ২০টি থেকে সর্বোচ্চ ৩২০টি পর্যন্ত মাইক্রোপ্লাস্টিক শনাক্ত হয়। সবচেয়ে বেশি ৩২০টি কণা পাওয়া গেছে মেডিপ্লাস ফ্লুরিড জেলে। এছাড়া ক্লোজ আপ রেড হট ও ক্লোজ আপ মেন্থল ফ্রেশে ১৬০টি করে, কুডুমু আল্ট্রা শিল্ড ফর্মুলা স্ট্রবেরিতে ১৪০টি, সিগন্যাল গ্রিন টি-তে ১২০টি, পেপসোডেন্ট অ্যাডভান্স সল্ট ও হিমালয়া কমপ্লিট কেয়ারে ১০০টি করে এবং সেনসোডাইন ফ্রেশ মিন্টে ৮০টি মাইক্রোপ্লাস্টিক পাওয়া গেছে।

প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, বাংলাদেশে উৎপাদিত ২৫টি টুথপেস্টের মধ্যে ২২টিতে মাইক্রোপ্লাস্টিক মিলেছে। এছাড়া ভারতে উৎপাদিত ৫টির মধ্যে ১টি, থাইল্যান্ডে উৎপাদিত ২টির মধ্যে ১টি এবং ভিয়েতনামে উৎপাদিত ২টি ব্র্যান্ডের উভয়টিতেই এই ক্ষতিকর কণা পাওয়া গেছে।

বিশেষ উদ্বেগের বিষয় হিসেবে গবেষণায় উঠে এসেছে শিশুদের জন্য তৈরি টুথপেস্ট। পরীক্ষা করা ৬টি শিশুদের টুথপেস্টের মধ্যে ৪টিতেই মাইক্রোপ্লাস্টিক শনাক্ত হয়েছে। কুডুমু আল্ট্রা শিল্ড ফর্মুলায় পাওয়া গেছে ১৪০টি কণা, মেরিল বেবি স্ট্রবেরিতে ৬০টি, মেরিল বেবি অরেঞ্জে ৪০টি এবং পেপসোডেন্ট কিড অরেঞ্জে ২০টি কণা।

তবে সব ব্র্যান্ডেই মাইক্রোপ্লাস্টিক পাওয়া যায়নি। গবেষণায় দেখা গেছে, দেশীয় ব্র্যান্ড জেনফ্রেশ, প্যারাস্যুট জাস্ট ফর বেবি (ম্যাঙ্গো) এবং ক্লোজ আপ রেড হট জিংক ফ্রেশ টেকনোলজি টুথপেস্টে কোনো মাইক্রোপ্লাস্টিক শনাক্ত হয়নি। এছাড়া শিশুদের জন্য আমদানিকৃত কুডুমু অরেঞ্জ টুথপেস্টেও ক্ষতিকর প্লাস্টিক কণার উপস্থিতি পাওয়া যায়নি।

এসডোর মতে, টুথপেস্টে মাইক্রোপ্লাস্টিকের উপস্থিতি জনস্বাস্থ্য ও পরিবেশ-উভয়ের জন্যই উদ্বেগের বিষয়। তাই ভোক্তাদের স্বাস্থ্য সুরক্ষায় সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নিয়মিত মান যাচাই, কার্যকর নজরদারি এবং প্রয়োজনীয় নীতিগত পদক্ষেপ গ্রহণের ওপর গুরুত্বারোপ করেছে সংস্থাটি।