সৌদি আরবে কর্মরতদের আকামা নবায়নে নতুন নিয়ম
২১ জুলাই ২০২৬, ৯:২৬ অপরাহ্ণ
কুমিল্লার আলোচিত কলেজছাত্রী সোহাগী জাহান তনু হত্যা মামলার তদন্তে নতুন অগ্রগতি এসেছে। মামলায় আরও দুই সন্দেহভাজনের ডিএনএ পরীক্ষা করার নির্দেশ দিয়েছেন আদালত। তাদের মধ্যে একজন সাবেক সেনাসদস্য এবং অন্যজন বেসামরিক ব্যক্তি।
মঙ্গলবার (২১ জুলাই) বিকেলে মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা, পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনের (পিবিআই) পরিদর্শক মো. তারিকুল ইসলাম বিষয়টি নিশ্চিত করেন।
পিবিআই ও আদালত সূত্রে জানা গেছে, তনুর পরনের জব্দ করা পোশাকের ডিএনএ বিশ্লেষণে একাধিক পুরুষের পূর্ণাঙ্গ ডিএনএ প্রোফাইল পাওয়া যায়। সেই প্রোফাইলের সঙ্গে মিলিয়ে দেখতে দুই সন্দেহভাজনের রক্তের নমুনা সংগ্রহ করে ডিএনএ পরীক্ষা করার আবেদন করে পিবিআই। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ জুলাই কুমিল্লার সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মমিনুল হক আবেদনটি মঞ্জুর করেন। মঙ্গলবার বিষয়টি গণমাধ্যমকে জানানো হয়।
ডিএনএ পরীক্ষার অনুমতি পাওয়া দুই ব্যক্তি হলেন কুমিল্লা সেনানিবাসের সাবেক সৈনিক মো. জাহিদুল ইসলাম (৪১) এবং কুমিল্লার সদর দক্ষিণ উপজেলার বাসিন্দা ফয়সাল আহমেদ ওরফে রাব্বী (৩২)। তবে বেসামরিক ব্যক্তি রাব্বীকে কী কারণে সন্দেহভাজন হিসেবে বিবেচনা করা হয়েছে, সে বিষয়ে তদন্তের স্বার্থে বিস্তারিত জানাতে অপারগতা প্রকাশ করেছে পিবিআই।
আদালতের পরিদর্শক সাদেকুর রহমান বলেন, তনুর পোশাক থেকে পাওয়া ডিএনএ প্রোফাইলের সঙ্গে সন্দেহভাজনদের নমুনা মিলিয়ে দেখা গেলে হত্যাকাণ্ডে জড়িত ব্যক্তিদের শনাক্ত করার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি হতে পারে। এ কারণেই আদালত ডিএনএ পরীক্ষার অনুমতি দিয়েছেন।
এর আগে গত ২২ এপ্রিল আদালতের নির্দেশে কেরানীগঞ্জ থেকে সেনাবাহিনীর সাবেক সিনিয়র ওয়ারেন্ট কর্মকর্তা হাফিজুর রহমানকে গ্রেপ্তার করে পিবিআই। একই দিন সিআইডির ডিএনএ ল্যাবরেটরিতে তার নমুনা সংগ্রহ করা হয়। পরে আদালত তাকে তিন দিনের রিমান্ডে পাঠান। বর্তমানে তিনি কারাগারে রয়েছেন।
এ ছাড়া গত ৮ জুন তনু হত্যাকাণ্ডের সময় কুমিল্লা সেনানিবাসে কর্মরত সন্দেহভাজন সার্জেন্ট জাহিদুজ্জামান ওরফে জাহিদ এবং সৈনিক শাহীন আলমের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেন আদালত। একই সঙ্গে তাদের গ্রেপ্তারে ইন্টারপোলের মাধ্যমে রেড নোটিশ জারির নির্দেশ দেওয়া হয়। পিবিআই জানিয়েছে, তারা দুজনই বর্তমানে পলাতক।
তদন্ত কর্মকর্তা মো. তারিকুল ইসলাম বলেন, আদালতের নির্দেশ অনুযায়ী দুই সন্দেহভাজনের রক্তের নমুনা সংগ্রহ করে ডিএনএ প্রোফাইল প্রস্তুত করা হবে এবং তা তনুর পোশাক থেকে পাওয়া ডিএনএ নমুনার সঙ্গে তুলনা করা হবে। তবে বর্তমানে ওই দুই ব্যক্তির অবস্থান নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
উল্লেখ্য, ২০১৬ সালের ২০ মার্চ কুমিল্লা সেনানিবাস এলাকায় টিউশনি করতে গিয়ে নিখোঁজ হন কুমিল্লা ভিক্টোরিয়া সরকারি কলেজের ইতিহাস বিভাগের শিক্ষার্থী ও নাট্যকর্মী সোহাগী জাহান তনু। পরদিন সেনানিবাস এলাকার একটি জঙ্গল থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়। এ ঘটনায় অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিদের আসামি করে হত্যা মামলা দায়ের করেন তার বাবা ইয়ার হোসেন। মামলাটি দীর্ঘদিন ধরে তদন্তাধীন রয়েছে।