চার মাস পর ওয়ানডেতে ফিরছে বাংলাদেশ, প্রতিপক্ষ পাকিস্তান
১ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ৯:২৫ পূর্বাহ্ণ
আজ পহেলা ফেব্রুয়ারি। শুরু হলো বাঙালির শৌর্য, ত্যাগ আর জাগরণের মাস- ফেব্রুয়ারি। এটি কেবল একটি মাস নয়, বরং বাঙালির জাতিসত্তা, সংস্কৃতি আর অস্তিত্বের শেকড় সন্ধানের মাস। ১৯৫২ সালের এই মাসেই বুকের তাজা রক্ত ঢেলে মাতৃভাষার মর্যাদা রক্ষা করেছিল বাংলার দামাল ছেলেরা। আজ থেকে পুরো মাস জুড়ে কৃতজ্ঞ জাতি বিনম্র শ্রদ্ধায় স্মরণ করবে সেই সব বীর শহীদদের, যাঁদের ত্যাগের বিনিময়ে আজ আমরা বাংলায় কথা বলছি।
১৯৪৭ সালে দেশভাগের পর থেকেই তৎকালীন পাকিস্তান শাসকরা বাঙালির ওপর সাংস্কৃতিক নিপীড়ন শুরু করে। সংখাগরিষ্ঠের ভাষা বাংলা হওয়া সত্ত্বেও উর্দুকে একমাত্র রাষ্ট্রভাষা করার ঘোষণা দেওয়া হয়। এই অন্যায় সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে গর্জে ওঠে তপ্ত কাঞ্চন বাংলা।
১৯৫২ সালের ২১শে ফেব্রুয়ারি (৮ই ফাল্গুন, ১৩৫৮) রাষ্ট্রভাষা বাংলার দাবিতে ১৪৪ ধারা ভঙ্গ করে মিছিল বের করে ছাত্র-জনতা। সেই মিছিলে তৎকালীন পুলিশের গুলিতে শহীদ হন সালাম, বরকত, রফিক, জব্বার, শফিউরসহ আরও অনেকে। তাঁদের সেই আত্মত্যাগই পরবর্তীকালে বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধের মূল প্রেরণা হিসেবে কাজ করেছিল।
বাঙালির এই ভাষা আন্দোলন আজ আর কেবল দেশের সীমানায় সীমাবদ্ধ নেই। ১৯৯৯ সালের ১৭ নভেম্বর ইউনেস্কো ২১শে ফেব্রুয়ারিকে 'আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস' হিসেবে স্বীকৃতি দেয়। ফলে ২০০০ সাল থেকে বিশ্বের সকল দেশে দিবসটি পালিত হয়ে আসছে, যা আমাদের জাতীয় বীরত্বকে বিশ্ব দরবারে অনন্য উচ্চতায় আসীন করেছে।
“ভাষা আন্দোলনের মাস ফেব্রুয়ারি আমাদের মনে করিয়ে দেয় আমরা মাথা নত না করা এক জাতি। এই মাস আমাদের আত্মপরিচয়কে আরও সুদৃঢ় করার মাস।” ফেব্রুয়ারির প্রথম দিন থেকেই কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারসহ দেশব্যাপী স্মৃতিস্তম্ভগুলোতে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা ও সাজসজ্জার কাজ শুরু হয়েছে। পুরো মাস জুড়ে বিভিন্ন রাজনৈতিক, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠন আলোচনা সভা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের মাধ্যমে ভাষা শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করবে।