শুক্রবার, ১৩ মার্চ, ২০২৬

একুশে পদকপ্রাপ্ত কবি জাহানারা আরজু আর নেই


একুশে পদকপ্রাপ্ত কবি, সম্পাদক ও সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব জাহানারা আরজু ইন্তেকাল করেছেন (ইন্নালিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)। সোমবার (২ মার্চ) দুপুর দেড়টার দিকে রাজধানীর গুলশানের নিজ বাসভবনে তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিল ৯৩ বছর।

২ মার্চ ২০২৬, ৮:৩৯ অপরাহ্ণ 

একুশে পদকপ্রাপ্ত কবি জাহানারা আরজু আর নেই
  গুগল নিউজে ফলো করে আজকের প্রসঙ্গ এর সাথে থাকুন

দীর্ঘদিন বার্ধক্যজনিত নানা জটিলতায় ভোগার পর সোমবার দুপুরে না ফেরার দেশে পাড়ি জমান কবি জাহানারা আরজু। মৃত্যুকালে তিনি দুই পুত্র, এক কন্যা, নাতি-নাতনি ও অসংখ্য শুভানুধ্যায়ী রেখে গেছেন।

তিনি সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগের জ্যেষ্ঠ বিচারপতি মো. আশফাকুল ইসলামের মা। তার জীবনসঙ্গী মরহুম এ কে এম নুরুল ইসলাম ছিলেন ঢাকা হাইকোর্টের বিচারপতি, প্রধান নির্বাচন কমিশনার এবং বাংলাদেশের উপরাষ্ট্রপতি। নুরুল ইসলামের জন্ম মানিকগঞ্জের হরিরামপুর উপজেলার খলিলপুর গ্রামে। আরজুর পৈতৃক নিবাস মানিকগঞ্জ শহরের সেওতা গ্রামে। ১৯৩২ সালের ১৭ নভেম্বর মানিকগঞ্জের জাবরা গ্রামে মাতুলালয়ে তার জন্ম। পিতা আফিল উদ্দিন আহম্মদ চৌধুরী এবং মাতা খোদেজা খাতুন।

শিক্ষাজীবন শুরু নিজ জেলায়। পরে ইডেন মহিলা কলেজ এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বাংলা ভাষা ও সাহিত্যে স্নাতক ও স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেন। কৈশোরেই লেখালেখিতে হাতেখড়ি। অষ্টম শ্রেণিতে পড়ার সময় হাতে লেখা পত্রিকা প্রকাশ করে সাড়া ফেলেন। সে সময় তাকে আশীর্বাদ করেছিলেন এ কে ফজলুল হককায়কোবাদ

১৯৪৫ সালে ‘আজাদ’-এর ‘মুকুলের মাহফিল’-এ তার প্রথম কবিতা প্রকাশিত হয়। পরবর্তী সময়ে ‘সওগাত’, ‘মোহাম্মদী’, ‘বেগম’, ‘মিল্লাত’ ও ‘ইত্তেহাদ’-সহ বিভিন্ন সাময়িকীতে নিয়মিত লেখালেখি করেন। ১৯৪৯ সালে কবি সুফিয়া কামাল-এর সঙ্গে যৌথভাবে সম্পাদনা করেন তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তানের প্রথম মহিলা সাপ্তাহিক ‘সুলতানা’। নারী সম্পাদিত এই পত্রিকা সে সময় ঐতিহাসিক গুরুত্ব বহন করে। পরে ‘পরিক্রম’-এ যুগ্ম সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। টিবি অ্যাসোসিয়েশনের পাক্ষিক ‘হেলথ বুলেটিন’ ও সাহিত্যপত্র ‘সেতুবন্ধন’-এর সঙ্গেও যুক্ত ছিলেন।

তার সৃষ্টিকর্মে মানবিক বোধ, প্রেম, প্রকৃতি ও সমাজ-বাস্তবতার নিবিড় উপস্থিতি লক্ষ করা যায়। সহজ ভাষায় গভীর অনুভব প্রকাশ ছিল তার অন্যতম শক্তি। উল্লেখযোগ্য কাব্যগ্রন্থের মধ্যে রয়েছে- নীলস্বপ্ন (১৯৬২), রৌদ্র ঝরা গান (১৯৬৪), সবুজ সবুজ অবুঝ মন, আমার শব্দে আজন্ম আমি, ক্রন্দসী আত্মজা, বাদল মেঘে মাদল বাজে এবং একুশে ফেব্রুয়ারি নিয়ে স্বনির্বাচিত কবিতার সংকলন শোণিতাক্ত আখর (১৯৭১)। তার কবিতা অবলম্বনে নির্মিত হয় চলচ্চিত্র মেহেরজান

বাংলা সাহিত্যে অসামান্য অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ ১৯৮৭ সালে তিনি একুশে পদকে ভূষিত হন। জীবদ্দশায় অর্জন করেন ২৬টি সাহিত্য সম্মাননা। তার কয়েকটি রচনা ইংরেজিতে অনুবাদ করেছিলেন তার জীবনসঙ্গী নুরুল ইসলাম, যিনি নিজেও ইংরেজি সাহিত্যের কৃতী শিক্ষার্থী ছিলেন।

সোমবার তারাবিহ নামাজের পর মানিকগঞ্জের হরিরামপুর উপজেলার খলিলপুর গ্রামে স্বামীর কবরের পাশে তার দাফন সম্পন্ন হবে। বাংলা সাহিত্য অঙ্গনে তার এই প্রস্থান এক অপূরণীয় শূন্যতা হয়ে থাকবে।