চুয়াডাঙ্গায় অভিযানে আটক বিএনপি নেতার মৃত্যু: অভিযানে অংশ নেওয়া সব সেনা সদস্য প্রত্যাহার, তদন্ত কমিটি গঠন
৯ ডিসেম্বর ২০২৫, ৯:৫৭ পূর্বাহ্ণ
রংপুরের মিঠাপুকুর উপজেলার পায়রাবন্দ গ্রামে বেগম রোকেয়ার বাস্তুভিটার প্রধান ফটক পার হয়েই চোখে পড়ে কয়েকটি অব্যবহৃত ভবন। সামনে এগোলে দেখা যায় সেই ‘আঁতুড়ঘর’, যেখানে জন্ম নিয়েছিলেন নারী জাগরণের অগ্রদূত, প্রাবন্ধিক ও সমাজ সংস্কারক বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন (১৮৮০–১৯৩২)। আজ ৯ ডিসেম্বর তাঁর জন্ম ও মৃত্যু দিবস। দিবসটি ঘিরে দেশজুড়ে নানা আয়োজন হলেও তাঁর জন্মভূমির উন্নয়ন এখনো অধরা রয়ে গেছে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, বছরের পর বছর দাবি জানানো হলেও পায়রাবন্দের উন্নয়ন বা স্মৃতিকেন্দ্রের কার্যক্রম শুরু-কোনোটিই বাস্তবায়ন হয়নি। বেগম রোকেয়া স্মৃতিকেন্দ্রের কয়েকটি ভবন থাকলেও সেগুলো দীর্ঘদিন ধরে পরিত্যক্ত অবস্থায় পড়ে আছে। ফলে ঐতিহাসিক স্থাপনাটিতে নেই গবেষণা, পর্যটন বা সাংস্কৃতিক কার্যক্রম।
এদিকে আজ রাজধানীর ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে মহিলা ও শিশুবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের আয়োজনে সরকারিভাবে পালিত হচ্ছে বেগম রোকেয়া দিবস-২০২৫। ‘আমিই রোকেয়া’ স্লোগানে আয়োজিত এই অনুষ্ঠানে বেগম রোকেয়া পদক-২০২৫ প্রদান করা হবে। নারী শিক্ষা, শ্রম অধিকার, মানবাধিকার ও ক্রীড়া ক্ষেত্রে অবদানের জন্য এ বছর পুরস্কার পাচ্ছেন চার গুণী নারী—ড. রুভানা রাকিব, কল্পনা আক্তার, ড. নাবিলা ইদ্রিস ও রিতু পর্ণা চাকমা। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে থাকবেন অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস এবং সভাপতিত্ব করবেন মহিলা ও শিশুবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা শারমীন এস মুরশিদ।
বেগম রোকেয়ার জন্মভূমিতে যদিও একটি ডিগ্রি কলেজ জাতীয়করণ হয়েছে এবং ১০ শয্যার হাসপাতাল নির্মিত হয়েছে, তবুও ২০০১ সালে প্রতিষ্ঠিত বেগম রোকেয়া স্মৃতিকেন্দ্রটি ২৪ বছরেও চালু হয়নি। স্থানীয়দের দাবি, দ্রুত স্মৃতিকেন্দ্রটির কার্যক্রম শুরু না হলে রোকেয়ার স্মৃতি সংরক্ষণ চরমভাবে বাধাগ্রস্ত হবে।
পায়রাবন্দ স্মৃতি সংসদের সাধারণ সম্পাদক রফিকুল ইসলাম দুলাল বলেন, “শুধু ভবন দিয়ে কী হবে? কার্যক্রম না থাকায় স্মৃতিকেন্দ্রটি ভুতুড়ে বাড়িতে পরিণত হয়েছে।” স্মৃতিকেন্দ্রের উপপরিচালক আবিদ করীম মুন্না জানান, কার্যক্রম শুরুর বিষয়ে কোনো নির্দেশনা তাঁদের কাছে নেই। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. পারভেজ বলেন, দিবস উপলক্ষে তিন দিনব্যাপী আয়োজন থাকলেও স্মৃতিকেন্দ্র চালুর বিষয়ে এখনও কোনো সিদ্ধান্ত নেই।
অন্যদিকে, পারিবারিক সম্পত্তি বেদখলের অভিযোগও তুলেছেন রোকেয়ার বৈমাত্রেয় ভাইয়ের মেয়ে রনজিনা সাবের। তাঁর দাবি, বেগম রোকেয়ার পরিবারের ৫১ একর ৪৬ শতক সম্পত্তি বিভিন্নভাবে বেহাত হয়ে গেছে। আঁতুড়ঘরের জমির ৩০ শতাংশ তাঁদের পৈতৃক সম্পত্তি হলেও প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তরের সাইনবোর্ড টানিয়ে দেওয়া হয়েছে—যা তিনি অন্যায় বলে মনে করেন। সম্পত্তি অধিগ্রহণ বা পরিবারের কাছে ফিরিয়ে দেওয়ার দাবি জানিয়ে আসছেন তিনি।
আক্ষেপ নিয়ে রনজিনা বলেন, “রোকেয়ার নামে বিশ্ববিদ্যালয়, অথচ তাঁর স্বজনরাই সেখানে চাকরি পায় না। যদি রোকেয়ার পরিবারের সদস্যরাই উপেক্ষিত হন, তাহলে বিশ্ববিদ্যালয়ের নামে রোকেয়ার নাম থাকার অর্থ কী?”
বেগম রোকেয়া তাঁর লেখনী, শিক্ষা ও সমাজ সংস্কারের মাধ্যমে নারী সমাজকে অন্ধকার থেকে আলোর পথে নিয়ে এসেছিলেন। আজ তাঁর জন্ম ও মৃত্যু দিবসে জাতি যখন তাঁকে শ্রদ্ধাভরে স্মরণ করছে, তখন নিজের জন্মভূমির অনাদর ও অবহেলা সমাজের কাছে নতুন করে প্রশ্ন রেখে যাচ্ছে- কবে চালু হবে রোকেয়া স্মৃতিকেন্দ্র?