২০ আগস্ট রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের ভোট, সংসদে ব্যালটেই হবে ভোটগ্রহণ
১৪ আগস্ট ২০২৬, ১০:৪০ পূর্বাহ্ণ
বর্তমান যুগে প্রতিযোগিতামূলক পরিবেশ, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের প্রভাব এবং জীবনযাত্রার পরিবর্তনের কারণে শিশু ও কিশোর-কিশোরীদের মানসিক স্বাস্থ্য চরম ঝুঁকির মুখে। অভিভাবকরা অনেক সময়ই সন্তানের মেজাজ বা আচরণের পরিবর্তনকে বয়সের দোষ বলে এড়িয়ে যান। কিন্তু এই অবহেলা বা অসচেতনতার কারণে সন্তান ধীরে ধীরে বিষণ্নতা বা ডিপ্রেশনের গভীরে তলিয়ে যেতে পারে।
শিশু বা কিশোরের আচরণে কয়েক সপ্তাহ ধরে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন দেখা গেলে বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে দেখা প্রয়োজন। বিশেষ করে আগের পছন্দের কাজেও আগ্রহ হারিয়ে ফেলা, সবসময় মন খারাপ থাকা, অল্পতেই রেগে যাওয়া বা কান্নাকাটি করা, নিজেকে গুটিয়ে নেওয়া এবং স্কুলের পড়াশোনা বা দৈনন্দিন কাজে আগ্রহ কমে যাওয়ার মতো লক্ষণ দেখা যেতে পারে।
এ ছাড়া ঘুমের ধরনে পরিবর্তন, অতিরিক্ত ঘুম বা ঘুমের সমস্যা, খাওয়ার অভ্যাসে পরিবর্তন, অস্বাভাবিক ক্লান্তি, মনোযোগ ধরে রাখতে না পারা, নিজেকে মূল্যহীন বা ব্যর্থ মনে করা এবং ভবিষ্যৎ নিয়ে নেতিবাচক কথা বলাও সতর্ক হওয়ার মতো বিষয়।
তবে একটি-দুটি লক্ষণ দেখেই সন্তান ডিপ্রেশনে আক্রান্ত-এমন সিদ্ধান্তে যাওয়া ঠিক নয়। বয়স, পরিস্থিতি এবং আচরণের স্থায়িত্বসহ পুরো বিষয়টি বিবেচনা করতে হয়।
পড়াশোনা ও পরীক্ষার অতিরিক্ত চাপ: বিদ্যালয় ও অভিভাবকদের পক্ষ থেকে ভালো ফলাফলের অতিরিক্ত প্রত্যাশা সন্তানের ওপর মানসিক চাপ সৃষ্টি করে।
পারিবারিক কলহ ও অশান্তি: বাবা-মার নিয়মিত ঝগড়া, বিচ্ছেদ বা পরিবারে ভালোবাসাময় পরিবেশের অভাব সন্তানের মনে অনিশ্চয়তা তৈরি করে।
বুলিং ও সামাজিক অবহেলা: শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে বা বন্ধুদের মাঝে শারীরিক, মানসিক কিংবা অনলাইনে (সাইবার বুলিং) অবহেলার শিকার হলে শিশুরা নিজেদের অসহায় মনে করে। স্কুলে সহপাঠীদের দ্বারা অপমান, শারীরিক বা মানসিক নির্যাতন, সামাজিকভাবে বিচ্ছিন্ন করে রাখা কিংবা অনলাইনে সাইবারবুলিংয়ের অভিজ্ঞতা দীর্ঘমেয়াদি মানসিক চাপ তৈরি করতে পারে।
ডিজিটাল আসক্তি ও স্ক্রিন টাইম: অতিরিক্ত মোবাইল ও সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহারে বাস্তব জীবনের যোগাযোগ কমে যায়, যা থেকে দীর্ঘমেয়াদে বিষণ্নতা তৈরি হয়।
শারীরিক পরিবর্তন ও হরমোনের প্রভাব: বয়ঃসন্ধিকালে শরীরে হরমোনজনিত পরিবর্তনের ফলে মেজাজ ও মানসিক স্বাস্থ্য অস্থির হয়ে পড়তে পারে।
খোলামেলা কথা বলুন ও মনোযোগ দিয়ে শুনুন: প্রতিদিন কিছু সময় শুধু সন্তানের সঙ্গে কথা বলার জন্য রাখুন। পড়াশোনা বা ফলাফল নিয়ে প্রশ্ন না করে তার বন্ধু, পছন্দ, ভয়, আনন্দ ও দৈনন্দিন অভিজ্ঞতা নিয়ে কথা বলুন। এতে সন্তান নিজের অনুভূতি প্রকাশ করতে বেশি স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করবে।
পড়াশোনার চাপ কমাক ও তুলনা বন্ধ করুন: অন্য কোনো শিশুর সঙ্গে নিজের সন্তানের তুলনা করবেন না। ফলাফলের চেয়ে তার চেষ্টা ও মেধার প্রশংসা করুন। সন্তানের সক্ষমতার সঙ্গে সামঞ্জস্য না রেখে অতিরিক্ত পড়াশোনা, পরীক্ষার ফলাফল বা ক্যারিয়ার নিয়ে চাপ দেওয়া থেকে বিরত থাকতে হবে। ভুল বা খারাপ ফলাফলকে ব্যর্থতা হিসেবে না দেখে শেখার অংশ হিসেবে দেখানো জরুরি।
শারীরিক কর্মকাণ্ড ও খেলাধুলায় উৎসাহ দিন: শারীরিক পরিশ্রম ও বাইরের খেলাধুলা মস্তিষ্কে হ্যাপি হরমোন (যেমন- এন্ডোরফিন) ক্ষরণে সহায়তা করে। স্ক্রিন টাইম কমিয়ে সন্তানকে ঘরের বাইরের কার্যক্রমে যুক্ত করুন।
পারিবারিক সুন্দর পরিবেশ বজায় রাখুন: সন্তানের সামনে পারিবারিক ঝগড়া বা নেতিবাচক আলোচনা এড়িয়ে চলুন। পরিবারে আনন্দময় ও নিরাপদ পরিবেশ নিশ্চিত করুন।
পেশাদার মানসিক বিশেষজ্ঞদের সহায়তা নিন: লক্ষণগুলো যদি দুই সপ্তাহের বেশি স্থায়ী হয় এবং সন্তানের দৈনন্দিন জীবন ব্যাহত করে, তবে দেরি না করে দ্রুত কোনো চাইল্ড সাইকোলজিস্ট বা সাইকিয়াট্রিস্টের পরামর্শ নিন।
সন্তানের শারীরিক স্বাস্থ্যের মতোই মানসিক স্বাস্থ্যের যত্ন নেওয়া অত্যন্ত জরুরি। সময়ে সঠিক সচেতনতা ও একটু পরিবারের ভালোবাসাই পারে একটি সন্তানকে ডিপ্রেশনের আঁধার থেকে ফিরিয়ে আনতে।