শুক্রবার, ১৭ এপ্রিল, ২০২৬

কড়াইল বস্তির আগুন তিন দিক থেকে সীমিত, নিয়ন্ত্রণে আসতে আরও এক–দুই ঘণ্টা: ফায়ার সার্ভিস


রাজধানীর কড়াইল বস্তির ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ড তিন দিক থেকে সীমিত করা গেলেও এখনও পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে আসেনি আগুন; ফায়ার সার্ভিস বলছে, পরিস্থিতি স্থিতিশীল থাকলে এক থেকে দুই ঘণ্টার মধ্যেই ভালো খবর মিলতে পারে।

২৫ নভেম্বর ২০২৫, ১১:০৬ অপরাহ্ণ 

কড়াইল বস্তির আগুন তিন দিক থেকে সীমিত, নিয়ন্ত্রণে আসতে আরও এক–দুই ঘণ্টা: ফায়ার সার্ভিস
  গুগল নিউজে ফলো করে আজকের প্রসঙ্গ এর সাথে থাকুন

রাজধানীর কড়াইল বস্তির ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ড তিন দিক থেকে সীমিত করা গেছে বলে জানিয়েছে ফায়ার সার্ভিস। বাকি থাকা একটি দিক নিয়ন্ত্রণে আনার কাজ চলছে। সংস্থাটির পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, সব ঠিক থাকলে আগামী এক থেকে দুই ঘণ্টার মধ্যে আগুন নিয়ন্ত্রণে আসার সম্ভাবনা রয়েছে।

মঙ্গলবার (২৫ নভেম্বর) রাতে আগুনের সর্বশেষ পরিস্থিতি জানাতে আয়োজিত ব্রিফিংয়ে ফায়ার সার্ভিসের পরিচালক (অপারেশন ও মেইনটেন্যান্স) লে. কর্নেল মোহাম্মদ তাজুল ইসলাম চৌধুরী বলেন, শুরুতে ১৬টি ইউনিট আগুন নিয়ন্ত্রণে কাজ শুরু করলেও পরে পরিস্থিতি বিবেচনায় ইউনিট বাড়িয়ে প্রায় ২০টি করা হয়েছে। আগুনের শিখা কমেছে এবং বেশ কয়েকটি অংশে আগুন সীমিত করা সম্ভব হয়েছে বলেও জানান তিনি।

তিনি আরও বলেন, ঘটনাস্থলে পৌঁছাতে দেরিই আগুন ছড়িয়ে পড়ার অন্যতম কারণ। সরু রাস্তা, তীব্র যানজট ও মানুষের ভিড়ে প্রথম ইউনিট পৌঁছাতে ৩০–৩৫ মিনিট সময় লাগে। বড় গাড়িগুলো ভেতরে ঢুকতে সমস্যা হওয়ায় আগুন দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে। এ সময় কিছু উচ্ছৃঙ্খল আচরণও আগুন নেভানোর কাজে বাধা সৃষ্টি করে। পাইপ কেটে দেওয়া, জোড়া খুলে ফেলা এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সঙ্গে ধাক্কাধাক্কির মতো ঘটনাও ঘটে।

তিনি জানান, পানির অভাব না থাকলেও আগুনের কেন্দ্রে পানি পৌঁছাতে সময় লাগছে। এলাকা বড় হওয়ায় অনেক জায়গায় পাইপ জোড়া দিতে হচ্ছে। পূর্ব ও উত্তর দিকের আগুন এখন অনেকটাই কমে এসেছে। তিন দিক থেকে আগুন সীমিত হওয়ায় এখন এক দিককে কেন্দ্র করে কাজ চালানো হচ্ছে।

লে. কর্নেল তাজুল ইসলাম বলেন, “সবকিছু ঠিক থাকলে আমরা এক–দুই ঘণ্টার মধ্যে ভালো খবর দিতে পারব। তবে এখনও কিছু জায়গায় শিখা দেখা যাচ্ছে। সব উৎস শনাক্ত করে নিভলেই আগুন পুরোপুরি নিয়ন্ত্রিত বলা যাবে।”

রাজধানীর অন্যতম বৃহৎ বস্তি কড়াইলে সরু পথ, দাহ্য নির্মাণসামগ্রী, ঘনবসতি এবং অনিয়ন্ত্রিত বিদ্যুৎ–গ্যাস–সংযোগের কারণে আগুন দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে। অতীতে একাধিক বড় অগ্নিকাণ্ডে বস্তিটির বহু পরিবার ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। প্রবেশপথ সংকীর্ণ হওয়া ও মানুষের ভিড়ই প্রতিবারই আগুন নেভানোর সবচেয়ে বড় বাধা বলে জানায় ফায়ার সার্ভিস।

মঙ্গলবার বিকেল ৫টা ২২ মিনিটে আগুনের সূত্রপাত হয়। তীব্র পানি সংকটসহ প্রতিকূল পরিস্থিতির কারণে আগুন এখনো নিয়ন্ত্রণে আনতে হিমশিম খাচ্ছেন কর্মীরা। ইতোমধ্যে বস্তির বহু ঘর পুড়ে ছাই হয়ে গেছে।