রবিবার, ২১ জুন, ২০২৬

অবসরকালীন আর্থিক নিরাপত্তা জোরদারে পেনশন ব্যবস্থায় বড় সংস্কার


সরকারি চাকরিজীবীদের অবসরকালীন আর্থিক নিরাপত্তা আরও শক্তিশালী ও স্বস্তিদায়ক করতে পেনশন ব্যবস্থায় ব্যাপক সংস্কার এনেছে সরকার। ন্যূনতম চাকরিকাল কমানো, সর্বোচ্চ পেনশনের হার বৃদ্ধি, গ্র্যাচুইটির নতুন কাঠামো গঠন এবং ছুটি নগদায়নের সুবিধা বাড়ানোর পাশাপাশি সম্প্রতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটে আনুষ্ঠানিকভাবে নবম পে স্কেল বাস্তবায়নের ঘোষণা দেওয়া হয়েছে।

২০ জুন ২০২৬, ২:২৭ অপরাহ্ণ 

অবসরকালীন আর্থিক নিরাপত্তা জোরদারে পেনশন ব্যবস্থায় বড় সংস্কার
  গুগল নিউজে ফলো করে আজকের প্রসঙ্গ এর সাথে থাকুন

সরকারি চাকরিজীবীদের অবসরোত্তর জীবন নিরাপদ ও স্বস্তিদায়ক করার লক্ষ্যে পেনশন ব্যবস্থায় এক যুগান্তকারী সংস্কার আনা হয়েছে। পেনশন পাওয়ার ন্যূনতম চাকরিকাল কমানো, সর্বোচ্চ পেনশনের হার বৃদ্ধি, গ্র্যাচুইটির নতুন কাঠামো, পারিবারিক পেনশনে শর্ত শিথিল এবং ছুটি নগদায়নের সুবিধা বাড়ানোর ফলে অবসরপ্রাপ্ত ও কর্মরত চাকরিজীবীদের মধ্যে বাড়তি স্বস্তি তৈরি হয়েছে।

নতুন প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, পেনশন পাওয়ার জন্য ন্যূনতম চাকরিকাল ১০ বছর থেকে কমিয়ে ৫ বছর করা হয়েছে। একই সঙ্গে সর্বোচ্চ পেনশনের হার শেষ অর্জিত মূল বেতনের ৮০ শতাংশ থেকে বাড়িয়ে ৯০ শতাংশ নির্ধারণ করা হয়। এর ফলে দীর্ঘদিন চাকরি করা কর্মচারীরা অবসরের পর তুলনামূলকভাবে বেশি আর্থিক সুবিধা পাওয়ার সুযোগ পাচ্ছেন।

প্রজ্ঞাপনে ৫ থেকে ২৫ বছর বা তার বেশি চাকরিকালের জন্য ধাপে ধাপে নতুন পেনশন হার নির্ধারণ করা হয়েছে। এতে ৫ বছর চাকরিকালে ২১ শতাংশ থেকে শুরু করে ২৫ বছর বা তদূর্ধ্ব চাকরিতে ৯০ শতাংশ পর্যন্ত পেনশন পাওয়ার বিধান রাখা হয়। তবে ৫ থেকে ২৪ বছর চাকরিকালের এই সুবিধা সাধারণত নির্দিষ্ট কিছু বিশেষ ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হবে। যেমন- চাকরিরত অবস্থায় মৃত্যু, মেডিকেল বোর্ড কর্তৃক স্থায়ী অক্ষমতা অথবা পদ বিলুপ্তির কারণে চাকরি হারানোর ঘটনা।

প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, ২০১৫-১৬ অর্থবছর থেকে অবসরপ্রাপ্তদের পেনশনও বাড়ানো হয়েছে। ৬৫ বছরের কম বয়সীদের ক্ষেত্রে ৪০ শতাংশ এবং ৬৫ বছর বা তদূর্ধ্ব বয়সীদের ক্ষেত্রে ৫০ শতাংশ পেনশন বৃদ্ধি করা হয়। একই সঙ্গে মাসিক ন্যূনতম পেনশন ৩ হাজার টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।

চাকরিকাল কমিয়ে আনার ফলে আনুতোষিক বা গ্র্যাচুইটির ক্ষেত্রেও নতুন কাঠামো নির্ধারণ করা হয়েছে। ৫ থেকে ৯ বছর চাকরিকালের ক্ষেত্রে প্রতি ১ টাকা পেনশনের বিপরীতে ২৬৫ টাকা আনুতোষিক নির্ধারণ করা হয়। এ ছাড়া চাকরির মেয়াদ ৫ বছর পূর্ণ হওয়ার আগেই কোনো কর্মচারী মৃত্যুবরণ করলে বা স্থায়ীভাবে অক্ষম হয়ে পড়লে তার পরিবারের জন্য বিশেষ আর্থিক সহায়তার বিধান রাখা হয়েছে। এক্ষেত্রে প্রতিটি পূর্ণ বছরের জন্য শেষ তিন মাসের মূল বেতনের সমপরিমাণ অর্থ এককালীন সহায়তা হিসেবে দেওয়া হবে।

পারিবারিক পেনশন ব্যবস্থাতেও আনা হয়েছে গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন। বিধবা স্ত্রীদের ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট বা্ধক্যজনিত বয়সের পর পুনর্বিবাহ না করার অঙ্গীকারনামার শর্ত শিথিল করা হয়েছে। পাশাপাশি প্রয়োজন হলে মৃত নারী কর্মচারীর স্বামীও পারিবারিক পেনশন পাওয়ার যোগ্যতা অর্জন করবেন বলে প্রজ্ঞাপনে উল্লেখ করা হয়।

অবসর সুবিধার মধ্যে সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তনের একটি হলো ছুটি নগদায়নের সুযোগ বৃদ্ধি। আগে যেখানে সর্বোচ্চ ১২ মাসের ছুটি নগদায়ন করা যেত, সেখানে তা বাড়িয়ে ১৮ মাস করা হয়েছে। ফলে অবসরের সময় কর্মচারীরা আরও বেশি আর্থিক সুবিধা পাওয়ার সুযোগ পাচ্ছেন। এই প্রজ্ঞাপনটি ২০১৫ সালের ১ জুলাই থেকে কার্যকর ধরা হয়েছে এবং ওই সময় পিআরএলে (PRL) থাকা কর্মচারীরাও এই নতুন সুবিধার আওতায় এসেছেন।

এদিকে সরকারি কর্মচারীদের জন্য আরও একটি খুশির খবর এসেছে। গত ১১ জুন ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেট উপস্থাপনের সময় আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী আনুষ্ঠানিকভাবে নবম পে স্কেল বাস্তবায়নের ঘোষণা দেন, যা সরকারি চাকরিজীবীদের জীবনযাত্রার মানোন্নয়নে আরও বড় ভূমিকা রাখবে বলে আশা করা হচ্ছে।