শনিবার, ১৮ এপ্রিল, ২০২৬

বিক্ষোভকারীদের জন্য ‘রেড লাইন’ ঘোষণা আইআরজিসির, ইরানে উত্তেজনা চরমে


সরকারবিরোধী বিক্ষোভ দমনে কঠোর অবস্থানের ইঙ্গিত দিয়ে ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি) বিক্ষোভকারীদের উদ্দেশ্যে ‘রেড লাইন’ ঘোষণা করেছে। দেশের নিরাপত্তা রক্ষায় এই সীমা কোনোভাবেই অতিক্রম করা যাবে না বলে হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়েছে।

১০ জানুয়ারী ২০২৬, ১০:৩৭ অপরাহ্ণ 

বিক্ষোভকারীদের জন্য ‘রেড লাইন’ ঘোষণা আইআরজিসির, ইরানে উত্তেজনা চরমে
  গুগল নিউজে ফলো করে আজকের প্রসঙ্গ এর সাথে থাকুন

ইরানে চলমান সরকারবিরোধী বিক্ষোভের প্রেক্ষাপটে বিক্ষোভকারীদের উদ্দেশ্যে ‘রেড লাইন’ ঘোষণা করেছে দেশটির শক্তিশালী নিরাপত্তা বাহিনী ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি)। শনিবার (১০ জানুয়ারি) এক বিবৃতিতে আইআরজিসি জানায়, দেশের নিরাপত্তা ও ইসলামী বিপ্লবের অর্জন রক্ষায় এই লাল রেখা কোনোভাবেই পেরোনো যাবে না।

রিয়ালের ব্যাপক দরপতন, নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধি এবং ক্রমবর্ধমান জীবনযাত্রার ব্যয়ের প্রতিবাদে গত ২৮ ডিসেম্বর থেকে ইরানজুড়ে শুরু হওয়া বিক্ষোভ দিন দিন আরও বিস্তৃত ও সহিংস রূপ নিচ্ছে। এই পরিস্থিতিতেই আইআরজিসির পক্ষ থেকে কড়া সতর্কবার্তা দেওয়া হলো। তবে ‘রেড লাইন’ বলতে ঠিক কোন পর্যায়ের কর্মকাণ্ড বোঝানো হয়েছে, সে বিষয়ে স্পষ্ট করে কিছু জানানো হয়নি।

একই সঙ্গে ইরানের সামরিক বাহিনী জানিয়েছে, জনসম্পদ ও গুরুত্বপূর্ণ কৌশলগত স্থাপনা রক্ষায় সর্বোচ্চ নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়া হবে। রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে প্রচারিত এক বিবৃতিতে আইআরজিসি দাবি করে, গত দুই রাতে ‘সন্ত্রাসী গোষ্ঠী’ সামরিক ও আইনশৃঙ্ঙ্খলা বাহিনীর বিভিন্ন স্থাপনায় হামলা চালিয়েছে। এসব হামলায় কয়েকজন সাধারণ নাগরিক ও নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্য নিহত হয়েছেন বলে দাবি করা হয়।

আইআরজিসির বিবৃতিতে বলা হয়, ১৯৭৯ সালের ইসলামী বিপ্লবের অর্জন ও দেশের সার্বভৌমত্ব রক্ষা একটি ‘লাল রেখা’। বর্তমান অস্থিতিশীল পরিস্থিতি আর চলতে দেওয়া হবে না এবং এজন্য তারা সর্বোচ্চ শক্তি প্রয়োগে প্রস্তুত রয়েছে।

এদিকে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে দেশটির কর্তৃপক্ষ এখনও ইন্টারনেট সংযোগ বন্ধ রেখেছে। পশ্চিম ইরানের এক প্রত্যক্ষদর্শী রয়টার্সকে জানান, তার এলাকায় আইআরজিসি সদস্যদের ব্যাপক উপস্থিতি রয়েছে এবং তারা গুলি চালাচ্ছে। নিরাপত্তাজনিত কারণে তিনি নিজের পরিচয় প্রকাশ করতে রাজি হননি। এই উত্তপ্ত পরিস্থিতির মধ্যেই আন্তর্জাতিক অঙ্গনে প্রতিক্রিয়া বাড়ছে। শুক্রবার যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের নেতৃত্বকে নতুন করে সতর্কবার্তা দেন। পরদিন শনিবার মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও বলেন, “যুক্তরাষ্ট্র ইরানের সাহসী জনগণের পাশে রয়েছে।”

ইরান সরকার অবশ্য এই বিক্ষোভের জন্য যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলকে দায়ী করছে এবং দাবি করছে, বিদেশি শক্তির উসকানিতেই অস্থিরতা তৈরি হয়েছে। অন্যদিকে মানবাধিকার সংগঠনগুলো জানিয়েছে, চলমান বিক্ষোভে এখন পর্যন্ত ডজনের বেশি বিক্ষোভকারী নিহত হয়েছেন।

বিবিসির সর্বশেষ প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, দেশজুড়ে চলমান বিক্ষোভে নিহতের সংখ্যা বেড়ে অন্তত ৬২ জনে দাঁড়িয়েছে। মানবাধিকার সংস্থাগুলোর তথ্য অনুযায়ী, নিহতদের মধ্যে অন্তত ৪৮ জন বিক্ষোভকারী এবং ১৪ জন নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্য রয়েছেন।