এসএসসি পরীক্ষা ২০২৬: কঠোর নীতিমালায় নতুন নিয়ম ও শাস্তির বিধান
১২ ডিসেম্বর ২০২৫, ১০:৪৯ পূর্বাহ্ণ
বুলগেরিয়াজুড়ে চলমান দুর্নীতিবিরোধী বিক্ষোভের চাপের মুখে শেষ পর্যন্ত পদত্যাগের ঘোষণা দিয়েছে দেশটির সরকার। বৃহস্পতিবার (১১ ডিসেম্বর) প্রধানমন্ত্রী রোসেন ঝেলিয়াজকভ সাংবাদিকদের সামনে আনুষ্ঠানিকভাবে জানান, তার নেতৃত্বাধীন সরকার সরে দাঁড়াচ্ছে। ফরাসি বার্তা সংস্থা এএফপির খবরে বলা হয়েছে, টানা কয়েক দিনের দুর্নীতিবিরোধী বিক্ষোভ ও সরকারবিরোধী আন্দোলনের জেরে এই পদক্ষেপ নিতে বাধ্য হলো ক্ষমতাসীন জোট।
দুর্নীতি দমনে সরকারের ব্যর্থতার অভিযোগ তুলে হাজার হাজার মানুষ রাজধানী সোফিয়াসহ কৃষ্ণসাগর তীরবর্তী বিভিন্ন শহর ও নগরে বিক্ষোভ করে আসছিলেন। ইউরোপীয় ইউনিয়নের সবচেয়ে দরিদ্র দেশগুলোর একটি বুলগেরিয়ায় সাম্প্রতিকদিনে বিক্ষোভের ব্যাপ্তি ও তীব্রতা উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়ে যায়।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সরকারের প্রস্তাবিত ২০২৬ সালের ইউরোভিত্তিক বাজেট পরিকল্পনা প্রকাশের পর বিক্ষোভ আরও তীব্র হয়। বাজেটে সামাজিক সুরক্ষা খাতের অবদান ও লভ্যাংশের ওপর কর বাড়ানোর প্রস্তাব থাকায় জনরোষ ছড়িয়ে পড়ে। দেশটির বিরোধী দল ও বিভিন্ন সংগঠন অভিযোগ তোলে যে, বাজেট পরিকল্পনা সাধারণ মানুষের ওপর বাড়তি চাপ সৃষ্টি করবে। বিক্ষোভের মুখে সরকার বাজেট পরিকল্পনা প্রত্যাহার করলেও আন্দোলন থামেনি।
বৃহস্পতিবার ক্ষমতাসীন জোটের নেতাদের সঙ্গে বৈঠকের পর প্রধানমন্ত্রী ঝেলিয়াজকভ ঘোষণা দেন, “সরকার আজ পদত্যাগ করছে।” মাত্র এক বছরের কম সময় ক্ষমতায় থাকা রক্ষণশীল সরকারের পতন রাজনৈতিক অস্থিরতায় ভুগতে থাকা বুলগেরিয়ার স্থিতিশীলতায় নতুন প্রশ্ন তৈরি করেছে।দেশটিতে গত চার বছরে সাতটি জাতীয় নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছে, যা ক্রমাগত রাজনৈতিক অস্থিরতার প্রমাণ বহন করে। সর্বশেষ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয় ২০২৪ সালের অক্টোবরে। চলমান সংকট আরও গভীর হওয়ার আশঙ্কা প্রকাশ করছে বিশ্লেষকরা।
বিক্ষোভকারীরা বলছেন, বুলগেরিয়াকে দুর্নীতি, অলিগার্কি ও মাফিয়ানিয়ন্ত্রিত প্রভাব থেকে মুক্ত করতে এখনই দেশের রাজনীতিতে মৌলিক পরিবর্তন প্রয়োজন। রাজধানীর এক বিক্ষোভস্থলে আইটি পেশাজীবী অ্যাঞ্জেলিন বাহচেভানোভ বলেন, “বুলগেরিয়াকে স্বাভাবিক অবস্থায় ফেরানোর এখনই সময়। আমরা যেন অলিগার্কি, মাফিয়া ও তাদের প্রতিনিধিত্বকারী শক্তির হাত থেকে মুক্ত হতে পারি।”