শুক্রবার, ১৭ এপ্রিল, ২০২৬

জন্মসূত্রে নাগরিকত্ব নিয়ে শুনানিতে যাবে যুক্তরাষ্ট্রের সুপ্রিম কোর্ট


যুক্তরাষ্ট্রে জন্ম নেওয়া শিশুদের নাগরিকত্ব পাওয়ার সাংবিধানিক অধিকার আছে কি-না—এই প্রশ্নে শুনানিতে যেতে সম্মত হয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের সুপ্রিম কোর্ট। প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের নির্বাহী আদেশকে কেন্দ্র করে একাধিক আদালতে আইনি জটিলতা তৈরি হওয়ায় এই গুরুত্বপূর্ণ সাংবিধানিক ইস্যুটি এখন সুপ্রিম কোর্টের চূড়ান্ত ব্যাখ্যার অপেক্ষায়।

৬ ডিসেম্বর ২০২৫, ১:০৯ অপরাহ্ণ 

জন্মসূত্রে নাগরিকত্ব নিয়ে শুনানিতে যাবে যুক্তরাষ্ট্রের সুপ্রিম কোর্ট
  গুগল নিউজে ফলো করে আজকের প্রসঙ্গ এর সাথে থাকুন

যুক্তরাষ্ট্রে জন্মসূত্রে নাগরিকত্ব পাওয়া একটি সাংবিধানিক অধিকার—এ ধারণা দীর্ঘদিন ধরে প্রতিষ্ঠিত। তবে অবৈধভাবে বসবাস করা অভিবাসীদের সন্তানরা এই অধিকারের আওতায় পড়বে কি-না, তা নিয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের জন্য শুনানিতে সম্মতি দিয়েছে দেশের সুপ্রিম কোর্ট।

প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দায়িত্ব গ্রহণের প্রথম দিনেই একটি নির্বাহী আদেশ দিয়ে দেশে অবৈধভাবে বসবাসকারী বা অস্থায়ী ভিসাধারী পিতা-মাতার সন্তানদের জন্মসূত্রে নাগরিকত্ব সুবিধা বন্ধের নির্দেশ দেন। কিন্তু ওই আদেশটি কয়েকটি নিম্ন আদালতে আটকে যায়। পরে ট্রাম্প প্রশাসন স্থগিতাদেশের বিরুদ্ধে সুপ্রিম কোর্টে গেলে আদালত জানায়, নিম্ন আদালত তাদের ক্ষমতার সীমা ছাড়িয়েছে—যদিও জন্মসূত্রে নাগরিকত্ব বিষয়ে কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত তখন দেয়া হয়নি।

চলতি শুনানির তারিখ এখনো ঠিক হয়নি এবং রায় পেতেও কয়েক মাস সময় লাগতে পারে। তবে আদালত যে সিদ্ধান্তই দিক, তা ট্রাম্প প্রশাসনের কঠোর অভিবাসন নীতি ও যুক্তরাষ্ট্রে নাগরিকত্বের ধারণায় সুদূরপ্রসারী প্রভাব ফেলবে বলে পর্যবেক্ষকদের ধারণা।

প্রায় এক শতাব্দী ধরে প্রচলিত যুক্তরাষ্ট্রের সংবিধানের ১৪তম সংশোধনী অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্রের ভূখণ্ডে জন্ম নেওয়া যে কেউ—কূটনীতিক ও বিদেশি সামরিক সদস্য ব্যতীত—স্বয়ংক্রিয়ভাবে মার্কিন নাগরিক হিসেবে গণ্য হন। সংশোধনীতে বলা আছে, “যুক্তরাষ্ট্রে জন্মগ্রহণকারী বা নাগরিকত্ব পাওয়া সব ব্যক্তি এবং এর এখতিয়ারের আওতায় থাকা ব্যক্তিরা যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিক।”

ট্রাম্প প্রশাসনের যুক্তি হলো—‘সাবজেক্ট টু দ্যা জুরিসডিকশন দেয়ারঅফ’ বলতে আইনসম্মতভাবে দেশে অবস্থানকারীদের বোঝানো হয়েছে। অর্থাৎ অবৈধ অভিবাসীদের সন্তানরা এই সুবিধার আওতায় পড়ে না। এই ব্যাখ্যার বিরোধিতা করে আমেরিকান সিভিল লিবার্টিজ ইউনিয়ন সুপ্রিম কোর্টে মামলা করেছে।

ন্যাশনাল লিগ্যাল ডিরেক্টর সেসিলিয়া ওয়াং বলেছেন, “১৪তম সংশোধনীতে নাগরিকত্ব বিষয়ক মৌলিক অঙ্গীকার কোনো প্রেসিডেন্টের নির্বাহী আদেশে পরিবর্তন করা যাবে না। দেড়শ বছর ধরে যুক্তরাষ্ট্রের মাটিতে জন্ম নেওয়া শিশুই জন্মগতভাবে নাগরিক—এটাই আইন এবং জাতীয় প্রথা।” তিনি আশা প্রকাশ করেন, সুপ্রিম কোর্টের রায়ের মাধ্যমে বিষয়টি স্থায়ীভাবে নিষ্পত্তি হবে।

যুক্তরাষ্ট্র বিশ্বের প্রায় ৩০টি দেশের একটি, যেখানে স্বয়ংক্রিয় জন্মসূত্রে নাগরিকত্ব প্রাপ্তি এখনও বৈধ। এই দেশগুলোর বেশিরভাগই আমেরিকা মহাদেশে অবস্থিত।

ট্রাম্পের আদেশের বিরুদ্ধে আদালতের স্থগিতাদেশ বহাল থাকায় নীতি কার্যকর হয়নি। তবে সুপ্রিম কোর্টের আসন্ন শুনানি যুক্তরাষ্ট্রে নাগরিকত্বের ভবিষ্যৎ কাঠামো নতুন করে নির্ধারণ করতে পারে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।

মাইগ্রেশন পলিসি ইন্সটিটিউট ও পেনসিলভানিয়া স্টেট ইউনিভার্সিটির একটি গবেষণায় দেখা গেছে—যদি জন্মসূত্রে নাগরিকত্ব বন্ধ করা হয়, তাহলে যুক্তরাষ্ট্রে অননুমোদিত জনসংখ্যা ২০৪৫ সালের মধ্যে অতিরিক্ত ২৭ লাখ এবং ২০৭৫ সালের মধ্যে ৫৪ লাখ পর্যন্ত বাড়তে পারে।

যুক্তরাষ্ট্রে ২০১৬ সালে প্রায় আড়াই লাখ শিশু জন্ম নেয় যাদের পিতা-মাতা অননুমোদিত অভিবাসী ছিলেন—যদিও এই সংখ্যা ২০০৭ সালের তুলনায় ৩৬ শতাংশ কম। সাম্প্রতিক তথ্য অনুযায়ী, ২০২২ সাল নাগাদ এমন পরিবারে জন্ম নেওয়া নাগরিক শিশুর সংখ্যা ১২ লাখে পৌঁছেছে।