শুক্রবার, ১৭ এপ্রিল, ২০২৬

নিউইয়র্কের সংকট কাটাতে যৌথ কাজের প্রতিশ্রুতি ট্রাম্প–মামদানির


হোয়াইট হাউসে প্রথমবারের মতো বৈঠক করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এবং নিউইয়র্ক সিটির নবনির্বাচিত মেয়র জোহরান মামদানি। অতীতের কঠোর সমালোচনা সত্ত্বেও দুপক্ষই বৈঠককে ‘ফলপ্রসূ’ আখ্যা দিয়ে নিউইয়র্কের স্বার্থে যৌথভাবে কাজ করার আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন।

২২ নভেম্বর ২০২৫, ১০:৫৫ পূর্বাহ্ণ 

নিউইয়র্কের সংকট কাটাতে যৌথ কাজের প্রতিশ্রুতি ট্রাম্প–মামদানির
  গুগল নিউজে ফলো করে আজকের প্রসঙ্গ এর সাথে থাকুন

হোয়াইট হাউসে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এবং নিউইয়র্ক সিটির নবনির্বাচিত মেয়র জোহরান মামদানির মধ্যে প্রথম আনুষ্ঠানিক বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে। স্থানীয় সময় শুক্রবার অনুষ্ঠিত এ বৈঠককে দুপক্ষই ‘খুবই ফলপ্রসূ’ বলে বর্ণনা করেছে। শনিবার এক প্রতিবেদনে বিষয়টি নিশ্চিত করেছে আল জাজিরা।

অতীতে ট্রাম্প ও মামদানির মধ্যে তীব্র রাজনৈতিক উত্তেজনা থাকলেও বৈঠকের পর দুই নেতাই ভবিষ্যতে গঠনমূলক ও সৌহার্দ্যপূর্ণ কর্মসম্পর্কের আশা প্রকাশ করেন। এমনকি একসময় মুসলিম পরিচয়ের কারণে মামদানিকে ‘জিহাদিস্ট’ বলে আখ্যা দেওয়া এবং তার মার্কিন নাগরিকত্ব বাতিলের হুমকিও দিয়েছিলেন ট্রাম্প। তবুও এবার তিনি মেয়র হিসেবে মামদানির বিজয় এবং জীবনযাত্রার ব্যয় কমানোর অগ্রাধিকারের প্রশংসা করেন।

বৈঠক শেষে ট্রাম্প বলেন, “আমাদের দারুণ একটি বৈঠক হয়েছে। অন্তত একটি বিষয়ে আমরা একমত—আমরা দু’জনই চাই আমাদের প্রিয় শহর নিউইয়র্ক ভালো থাকুক।” নিউইয়র্কে বেড়ে ওঠার অভিজ্ঞতার কথা স্মরণ করে তিনি আরও বলেন, মামদানি সহজেই প্রতিদ্বন্দ্বীদের হারিয়ে নির্বাচিত হয়েছেন।

মামদানি তার প্রতিক্রিয়ায় জানান, “বৈঠকটি খুবই ফলপ্রসূ ছিল এবং আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু ছিল নিউইয়র্কের ভবিষ্যৎ।” তিনি আরও জানান, বৈঠকে ভাড়া, জ্বালানি বিল, পণ্যের বাজারমূল্যসহ জীবনযাত্রার ব্যয়সংক্রান্ত বিষয় নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে।

আল জাজিরা জানায়, ডেমোক্র্যাটিক সোশ্যালিস্ট মতাদর্শে বিশ্বাসী এবং ফিলিস্তিনপন্থী অবস্থানের কারণে ট্রাম্পের রাজনৈতিক অবস্থানের সঙ্গে মামদানির বড় ধরনের মতপার্থক্য রয়েছে। ট্রাম্প বরাবরই কঠোর অভিবাসননীতির পক্ষে এবং অভিবাসীদের নিরাপত্তা হুমকি হিসেবে বর্ণনা করে আসছেন।

তবে এসব মতবিরোধের পরও মামদানি বলেন, “মতভিন্নতা থাকা সত্ত্বেও যৌথ লক্ষ্য অর্জনে আমরা একসঙ্গে কাজ করতে চাই।” তিনি উল্লেখ করেন, ২০২৪ সালের নভেম্বরে তিনি প্রকাশিত একটি ভিডিওতে ট্রাম্প সমর্থকদের সঙ্গে জীবনযাত্রার ব্যয় ও মার্কিন সামরিক সম্পৃক্ততা নিয়ে খোলামেলা আলোচনা করেছিলেন। তার আশা, জীবনযাত্রার ব্যয় কমানো এবং ‘চিরস্থায়ী যুদ্ধ’ বন্ধের মতো বিষয়ে দুই পক্ষই একক অবস্থানে যেতে পারবে।

মামদানির ভাষায়, “আজকের বৈঠক আমাদের মতপার্থক্যের জায়গা থেকে নয়, বরং নিউইয়র্কবাসীর সেবায় যৌথ লক্ষ্যকে কেন্দ্র করে হয়েছে।” তিনি জানান, নিউইয়র্কের ৮৫ লাখ মানুষের জীবনমান উন্নয়নই তার সবচেয়ে বড় অঙ্গীকার।

যুক্তরাষ্ট্রে সাম্প্রতিক অর্থনৈতিক উদ্বেগের প্রেক্ষাপটে ট্রাম্পও জীবনযাত্রার ব্যয় ইস্যুতে মামদানির মনোযোগকে ইতিবাচক বলেছেন। এমনকি তিনি জানান, তার অনেক ভোটারই এবার মামদানিকে ভোট দিয়েছেন—এ নিয়ে তার কোনও আপত্তি নেই।