ইউক্রেনে রুশ হামলায় নিহত ২৮, চেরনিহিভে প্রাণ গেল পাঁচ শিশুর
১০ অক্টোবর ২০২৬, ৭:০৭ অপরাহ্ণ
ভারতের তরুণদের নেতৃত্বে গড়ে ওঠা ‘ককরোচ জনতা পার্টি’র (সিজেপি) আন্দোলন ঘিরে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। শিক্ষা খাতের অনিয়ম, শিক্ষার্থীদের দাবি, ভোটাধিকার ও ভোটার তালিকা সংশোধনের মতো ইস্যুতে প্রতিবাদের এই উদ্যোগে সংহতি জানাচ্ছেন চলচ্চিত্র ও বিনোদনজগতের পরিচিত ব্যক্তিরা। শাবানা আজমি, নাসিরউদ্দিন শাহ, প্রকাশ রাজ ও ইউটিউবার ধ্রুব রাঠির অংশগ্রহণ আন্দোলনটিকে আলোচনার কেন্দ্রে নিয়ে এসেছে। শনিবার (১০ অক্টোবর) দিল্লির যন্তর মন্তরে বিক্ষোভের ডাক দিয়েছেন আন্দোলনকারীরা।
ভারতে শিক্ষার্থীদের অধিকার, গণতন্ত্র ও ভোটাধিকার নিয়ে প্রতিবাদের পরিসর ক্রমেই বিস্তৃত হচ্ছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যঙ্গাত্মক উদ্যোগ হিসেবে পরিচিতি পাওয়া ককরোচ জনতা পার্টি বা সিজেপির বিভিন্ন কর্মসূচিতে কেউ সরাসরি অংশ নিচ্ছেন, আবার কেউ অনলাইনে সমর্থন জানাচ্ছেন। এতে আন্দোলনটির প্রতি সাধারণ মানুষের আগ্রহও বাড়ছে।
ভারতীয় সংবাদমাধ্যম টাইমস অব ইন্ডিয়ার প্রতিবেদন অনুযায়ী, সিজেপির কর্মসূচি এখন শুধু শিক্ষার্থীদের দাবি কিংবা শিক্ষা খাতের অনিয়মের অভিযোগে সীমাবদ্ধ নেই। ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন (এসআইআর), ভোটাধিকার এবং নির্বাচন কমিশনের ভূমিকা নিয়েও সরব হয়েছেন আন্দোলনকারীরা।
গত ২ অক্টোবর মুম্বাইয়ের শিবাজি পার্কে সিজেপির আয়োজিত একটি সমাবেশে অংশ নেন বর্ষীয়ান অভিনেত্রী শাবানা আজমি ও অভিনেতা নাসিরউদ্দিন শাহ। ওই কর্মসূচিতে ভোটাধিকার ও গণতন্ত্রের প্রশ্নে নাগরিকদের সচেতন থাকার বিষয়টি গুরুত্ব পায়। সমাবেশে সিজেপির প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দীপকের সঙ্গে নাসিরউদ্দিন শাহের আলিঙ্গনের একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে তা নিয়ে আলোচনা শুরু হয়।
দীর্ঘ অভিনয়জীবনের পাশাপাশি সামাজিক ও রাজনৈতিক বিভিন্ন বিষয়ে নিজেদের অবস্থান প্রকাশ করে আসছেন শাবানা আজমি ও নাসিরউদ্দিন শাহ। তাদের অংশগ্রহণকে আন্দোলনকারীদের প্রতি সাংস্কৃতিক অঙ্গনের সংহতি হিসেবে দেখছেন সংশ্লিষ্টরা। মুম্বাইয়ের ওই সমাবেশে আরও উপস্থিত ছিলেন নির্মাতা বিশাল ভরদ্বাজ, সংগীতশিল্পী বিশাল দাদলানি ও অভিনেতা অতুল কুলকার্নি।
এর আগে ৮ অক্টোবর বেঙ্গালুরুর ফ্রিডম পার্কে সিজেপির আরেকটি কর্মসূচিতে অংশ নেন অভিনেতা প্রকাশ রাজ ও ইউটিউবার ধ্রুব রাঠি। তারা আন্দোলনটির প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দীপকের সঙ্গে বিক্ষোভে যোগ দেন।
ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেসের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ওই কর্মসূচির অন্যতম প্রধান দাবি ছিল ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন বা এসআইআর বাতিল এবং ভারতের প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগ। প্রকাশ রাজের বক্তব্য, এসআইআর কেবল ভোটার তালিকা থেকে নাম বাদ দেওয়ার বিষয় নয়; এর সঙ্গে নাগরিকের মর্যাদা ও ভোটাধিকার জড়িত। তার মতে, শুধু প্রধান নির্বাচন কমিশনারের পদত্যাগ নয়, পুরো এসআইআর প্রক্রিয়াটিই বাতিল করা প্রয়োজন।
অন্যদিকে, নির্বাচন কমিশনের স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন ধ্রুব রাঠি। তার বক্তব্য অনুযায়ী, আন্দোলনে অংশ নেওয়ার উদ্দেশ্য সরকার পরিবর্তন নয়। বরং ভোটার তালিকা সংশোধনের প্রক্রিয়া এবং এর প্রভাব নিয়ে প্রশ্ন তোলা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করাই আন্দোলনকারীদের লক্ষ্য।
তবে ভোটার তালিকা থেকে নাম বাদ দেওয়া কিংবা এর পেছনে রাজনৈতিক উদ্দেশ্য থাকার অভিযোগগুলো আন্দোলনকারীদের দাবি হিসেবেই বিবেচনা করা প্রয়োজন। এসব অভিযোগের সত্যতা নির্ধারণে নির্বাচন কমিশনের বক্তব্য, সংশ্লিষ্ট নথি ও স্বাধীনভাবে যাচাই করা তথ্য গুরুত্বপূর্ণ।
আন্দোলনের প্রতি সংহতি জানাতে সব তারকাকে সরাসরি রাস্তায় নামতে দেখা যায়নি। কেউ কেউ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রতিবাদের ভিডিও শেয়ার করেছেন, আবার কেউ মন্তব্যের মাধ্যমে সমর্থন জানিয়েছেন। শাবানা আজমির শেয়ার করা প্রতিবাদের ভিডিও পুনরায় পোস্ট করেন অভিনেত্রী দিয়া মির্জা ও কঙ্কনা সেনশর্মা। রিচা চাড্ডা, টুইঙ্কল খান্না, জোয়া আখতার, শিবানী আখতার, তারা শর্মা সালুজা ও সাবা পাতৌদিও ওই ভিডিওর মন্তব্য বিভাগে প্রতিক্রিয়া জানান।
তারকাদের এমন অংশগ্রহণের ফলে আন্দোলনসংক্রান্ত বক্তব্য ও কর্মসূচি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আরও বেশি মানুষের কাছে পৌঁছানোর সুযোগ তৈরি হয়েছে। বিশেষ করে তরুণদের নেতৃত্বে শুরু হওয়া উদ্যোগটির সঙ্গে পরিচিত সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্বদের যুক্ত হওয়া আন্দোলনটির দৃশ্যমানতা বাড়িয়েছে।
শনিবার দিল্লির যন্তর মন্তরে ঘোষিত বিক্ষোভ কর্মসূচি আন্দোলনটির পরবর্তী গতিপথ নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে। তরুণদের এই প্রতিবাদ কতটা বিস্তৃত হয় এবং তাদের দাবির বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ কী অবস্থান নেয়, এখন সেদিকেই নজর রয়েছে।