ভরিতে ৪ হাজার ৪৭৪ টাকা কমল সোনার দাম
২ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১:৩১ অপরাহ্ণ
নেপাল-তিব্বত সীমান্তে হিমবাহ ধস ও বরফ-পাথরের স্রোত থেকে সৃষ্ট ভয়াবহ আকস্মিক বন্যায় মৃতের সংখ্যা বেড়ে ১ হাজার ১৪৩ জনে দাঁড়িয়েছে। এর মধ্যে নেপাল ও ভারত থেকে ১ হাজার ১২৭ জনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। বাকি ১৬ জনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে চীনের তিব্বত অংশ থেকে।
এদিকে এখন পর্যন্ত নেপাল ও চীন মিলিয়ে ৫ হাজার ৪০০ জনের বেশি মানুষ নিখোঁজ রয়েছেন। এর মধ্যে শুধু নেপালেই নিখোঁজ ৪ হাজার ৮৫৮ জন এবং চীনের তিব্বত অংশে নিখোঁজ রয়েছেন আরও ৫৪৬ জন।
নেপাল পুলিশের বরাত দিয়ে বিবিসি জানিয়েছে, বুধবার ভোর ৫টা পর্যন্ত বন্যার উৎপত্তিস্থল রাসুয়া জেলা থেকে ৪৫টি মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। এ ছাড়া নুওয়াকোট থেকে ১৫৫টি, ধাদিং থেকে ৫৯টি, চিতওয়ান থেকে ৩৪৮টি, গোরখা থেকে ৬৬টি, তানাহুন থেকে ৩৮টি, নওয়ালপরাসি ইস্ট থেকে ২১৭টি এবং নওয়ালপরাসি ওয়েস্ট থেকে ১৯০টি মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। ভারতে পাওয়া গেছে আরও ৯টি মরদেহ।
পুলিশ জানিয়েছে, এ পর্যন্ত ১ হাজার ১১৩টি মরদেহের ময়নাতদন্ত ও আইনগতভাবে পরিচয় শনাক্তের প্রক্রিয়া শেষ হয়েছে। এর মধ্যে ৯৫টি মরদেহ স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। নিখোঁজ স্বজনদের শনাক্তে সহায়তার জন্য ৯১১টি অজ্ঞাত মরদেহের তথ্য পুলিশের ওয়েবসাইটে প্রকাশ করা হয়েছে। স্বজনদের এসব তথ্য দেখে মরদেহ শনাক্তের জন্য এগিয়ে আসার আহ্বান জানানো হয়েছে।
ভয়াবহ এ দুর্যোগে উদ্ধার, ত্রাণ বিতরণ ও মরদেহ ব্যবস্থাপনার কাজে ব্যাপক সংখ্যক নিরাপত্তাকর্মী মোতায়েন করা হয়েছে। বন্যাকবলিত এলাকায় ৭ হাজার ৯১২ জন পুলিশ সদস্য কাজ করছেন। পুলিশ জানিয়েছে, দুর্গত এলাকা থেকে এ পর্যন্ত ৬ হাজার ৫৪১ জনকে উদ্ধার করা হয়েছে।
উচ্চঝুঁকিপূর্ণ এলাকার বাসিন্দাদের নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়া হচ্ছে। পাশাপাশি ধ্বংসাবশেষে আটকে থাকা সড়কগুলো পরিষ্কার করা, নিখোঁজদের সন্ধানে তল্লাশি চালানো এবং স্থানীয় প্রশাসনের সঙ্গে সমন্বয় করে ত্রাণ কার্যক্রম পরিচালনা করা হচ্ছে। বরফ ও পাথরের বিশাল ধস থেকে সৃষ্ট এ বন্যায় ভোতেকোশি নদীর তীরবর্তী বিস্তীর্ণ এলাকায় ব্যাপক ধ্বংসযজ্ঞ হয়েছে। কয়েকটি জেলার জনবসতি, সড়ক, সীমান্ত বাণিজ্য অবকাঠামো এবং একাধিক জলবিদ্যুৎ স্থাপনা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, মঙ্গলবার পর্যন্ত কয়েকটি বিধ্বস্ত জলবিদ্যুৎ প্রকল্পে অন্তত ৬৩৯ জন আটকে ছিলেন। ফলে এসব প্রকল্প এখন উদ্ধার অভিযানের অন্যতম প্রধান কেন্দ্র হয়ে উঠেছে। নেপালের প্রধানমন্ত্রী বালেন্দ্র শাহ জানিয়েছেন, জলবিদ্যুৎ প্রকল্পগুলো থেকে এখন পর্যন্ত ২৭৯ শ্রমিককে উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে। আটকে পড়াদের উদ্ধারে নেপাল, ভারত ও চীনের উদ্ধারকারী দল যৌথভাবে অনুসন্ধান ও উদ্ধারকাজ চালিয়ে যাচ্ছে।
সেনাবাহিনী জানিয়েছে, বিভিন্ন টানেলের প্রবেশমুখ থেকে পানি সরানোর কাজ চলছে। রক ব্রেকার ব্যবহার করে ধ্বংসস্তূপ সরিয়ে উদ্ধারকারীদের ভেতরে প্রবেশের পথ তৈরির চেষ্টা করা হচ্ছে। তবে কয়েকটি টানেলে এখনো সরাসরি প্রবেশ করা সম্ভব হয়নি।
রাসুয়া জেলার হাকু গ্রামে উদ্ধারকাজে সহায়তাকারী পর্বত গাইড আশিষ গুরুং জানিয়েছেন, ত্রিশূলী জলবিদ্যুৎ কেন্দ্রের একটি টানেলে মানুষের পক্ষে প্রবেশ করা সম্ভব হচ্ছে না। সেখানে বুলডোজার ও খননযন্ত্রের মতো ভারী সরঞ্জাম প্রয়োজন। তবে সেখানে থাকা দুটি যন্ত্রের একটি অচল এবং অন্যটি মেরামত করা হচ্ছে। তার আশঙ্কা, ওই টানেলের ভেতরে প্রায় ৫০০ মানুষ আটকে থাকতে পারেন।
সব মিলিয়ে উদ্ধার অভিযানে ৯ হাজার ২০০-এর বেশি সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে। তারা আহতদের উদ্ধার, নিখোঁজদের সন্ধান, মরদেহ ব্যবস্থাপনা, বন্ধ সড়ক খুলে দেওয়া এবং জরুরি চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করার কাজে যুক্ত রয়েছেন।
প্রধানমন্ত্রী জানিয়েছেন, সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত জেলাগুলোর একটি নুওয়াকোটে সড়ক যোগাযোগ পুনরুদ্ধার করা হয়েছে। এতে উদ্ধার অভিযান পরিচালনা এবং দুর্গত এলাকায় ত্রাণসামগ্রী পৌঁছে দেওয়া সহজ হবে বলে আশা করা হচ্ছে। এ ছাড়া কিছু এলাকায় বিদ্যুৎ ও যোগাযোগ ব্যবস্থা পুনঃস্থাপন করা হয়েছে। তবে দুর্গম পাহাড়ি এলাকা, ধ্বংসপ্রাপ্ত সড়ক এবং টানেলে আটকে পড়া মানুষের কারণে উদ্ধার অভিযান এখনো বড় চ্যালেঞ্জের মুখে রয়েছে।