বুধবার, ২৬ আগস্ট, ২০২৬

বিশ্বজুড়ে মার্কিন ভিসা সাক্ষাৎকার স্থগিত, বাতিল হতে পারে ২ লাখ ভিসা


ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসন বিশ্বজুড়ে মার্কিন ভিসা সাক্ষাৎকারের সময়সূচি স্থগিত ও পরিবর্তনের উদ্যোগ নিয়েছে। একই সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থানরত প্রায় দুই লাখ বিদেশি নাগরিকের ভিসা বাতিলের পরিকল্পনা করছে প্রশাসন। মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের বরাত দিয়ে রয়টার্স এবং এএফপির প্রতিবেদনে এসব তথ্য জানানো হয়েছে।

২৬ আগস্ট ২০২৬, ২:৩৮ অপরাহ্ণ 

বিশ্বজুড়ে মার্কিন ভিসা সাক্ষাৎকার স্থগিত, বাতিল হতে পারে ২ লাখ ভিসা
  গুগল নিউজে ফলো করে আজকের প্রসঙ্গ এর সাথে থাকুন

ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসন বিশ্বজুড়ে মার্কিন দূতাবাস ও কনস্যুলেটগুলোতে ভিসা সাক্ষাৎকারের সময়সূচি পরিবর্তনের উদ্যোগ নিয়েছে। এ জন্য কনস্যুলার কর্মকর্তাদের নিয়ে একটি বৈশ্বিক প্রশিক্ষণ কর্মসূচিও শুরু হয়েছে। এর সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে ইতোমধ্যে নির্ধারিত অনেক ভিসা সাক্ষাৎকারের সময় পরিবর্তন করা হচ্ছে।

রয়টার্সকে মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের এক মুখপাত্র জানিয়েছেন, বিশ্বের সব মার্কিন দূতাবাস ও কনস্যুলেটে এ প্রশিক্ষণ কর্মসূচি চালু করা হয়েছে। এর লক্ষ্য কনস্যুলার কর্মকর্তাদের দক্ষতা বাড়ানো এবং যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশের পর সরকারি সুযোগ-সুবিধার ওপর নির্ভরশীল হতে পারেন-এমন আবেদনকারীদের শনাক্ত করা। তবে প্রশিক্ষণটি কতদিন চলবে বা এর বিস্তারিত কর্মপরিকল্পনা কী, সে বিষয়ে কোনো তথ্য দেয়নি পররাষ্ট্র দপ্তর। দপ্তরটি জানিয়েছে, ভিসা আবেদনকারীদের সামগ্রিক মূল্যায়ন নিশ্চিত করাও এ উদ্যোগের অন্যতম উদ্দেশ্য।

ভিসা সাক্ষাৎকার স্থগিতের খবর প্রথম প্রকাশ করে ফিন্যান্সিয়াল টাইমস। তাদের প্রতিবেদনে বলা হয়, যেসব আবেদনকারী এরই মধ্যে সাক্ষাৎকারের সময় পেয়েছিলেন, তাদের অনেকের কাছে ই-মেইল পাঠিয়ে সময়সূচি পরিবর্তনের কথা জানানো হয়েছে। নতুন সাক্ষাৎকারের তারিখ পরে জানানো হবে বলে ওই ই-মেইলে উল্লেখ করা হয়েছে।

এদিকে, যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থানরত প্রায় দুই লাখ বিদেশি নাগরিকের ভিসা বাতিলের পরিকল্পনার কথাও জানিয়েছে এএফপি। প্রশাসনের দাবি, ভ্রমণ বা ব্যবসার উদ্দেশ্যে যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশের পর যারা দীর্ঘমেয়াদি অবস্থানের উদ্দেশ্যে আশ্রয়ের আবেদন করেন, তাদের মধ্যে কেউ কেউ ভিসা পাওয়ার সময় নিজেদের প্রকৃত উদ্দেশ্য গোপন করে থাকতে পারেন।

মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর জানিয়েছে, এ ধরনের ব্যক্তিদের শনাক্ত করতে তারা ডিপার্টমেন্ট অব হোমল্যান্ড সিকিউরিটির সঙ্গে যৌথভাবে কাজ করছে। যেসব বিদেশি নাগরিক যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশের পর আশ্রয়ের আবেদন করে দীর্ঘদিন থাকার চেষ্টা করছেন এবং সরকারি সুযোগ-সুবিধার ওপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ছেন, তাদের ভিসা বাতিলের বিষয়টি বিবেচনা করা হচ্ছে।

পররাষ্ট্র দপ্তরের মুখপাত্র টমি পিগট বলেন, আশ্রয় চাওয়ার উদ্দেশ্যে ভিসা নেওয়াকে প্রতারণা হিসেবে বিবেচনা করা হতে পারে। এ ধরনের প্রতারণার অভিযোগে ভিসা বাতিল করা সম্ভব।

হোয়াইট হাউসও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে জানিয়েছে, প্রায় দুই লাখ ভিসা এই উদ্যোগের আওতায় পড়তে পারে। তাদের দাবি, এটি যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাসে সবচেয়ে বড় গণহারে ভিসা বাতিলের ঘটনা হতে যাচ্ছে। তবে হোয়াইট হাউসের উল্লেখ করা প্রায় দুই লাখের হিসাবের বিষয়ে পররাষ্ট্র দপ্তর কোনো নির্দিষ্ট সংখ্যা নিশ্চিত করেনি। টমি পিগট বলেন, ভিসা বাতিলের সংখ্যা পরিবর্তনশীল এবং ধারাবাহিকভাবে এ ধরনের বাতিলের প্রক্রিয়া চলবে।

ট্রাম্পের দ্বিতীয় মেয়াদে এরই মধ্যে প্রায় ১ লাখ ৭৫ হাজার ভিসা বাতিল করা হয়েছে বলে জানা গেছে। এসব বাতিলের কারণের মধ্যে অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের অভিযোগ থেকে শুরু করে ডানপন্থী কর্মী চার্লি কার্কের হত্যাকাণ্ডের প্রশংসার মতো বিষয়ও রয়েছে।

ক্ষমতায় ফেরার পর থেকেই অভিবাসন নীতিতে কঠোর অবস্থান নিয়েছেন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। নতুন এসব পদক্ষেপের মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশের আগে ভিসা আবেদনকারীদের আরও কঠোরভাবে যাচাই এবং দেশটিতে প্রবেশের পর তাদের কর্মকাণ্ড ও সরকারি সুবিধা গ্রহণের বিষয়টি নজরদারির আওতায় আনার চেষ্টা করছে তার প্রশাসন।