এসএসসি-এইচএসসিসহ পাবলিক পরীক্ষার খাতা পুনর্মূল্যায়নে আসছে নতুন নীতিমালা
১৯ আগস্ট ২০২৬, ১০:৪৩ পূর্বাহ্ণ
কলকাতার নিউ মার্কেটের পার্শ্ববর্তী মির্জা গালিব স্ট্রিটের একটি হোটেলে বুধবার (১৯ আগস্ট) ভোররাতে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। এতে অন্তত ৯ জনের মৃত্যু হয়েছে। নিহতদের মধ্যে ছয়জন পুরুষ, দুজন নারী ও একটি শিশু রয়েছে বলে জানা গেছে।
পুলিশ ও দমকল বাহিনী সূত্রে জানা যায়, বুধবার ভোর ৩টার দিকে হোটেলটির চারতলায় আগুন লাগার খবর পাওয়া যায়। খবর পেয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে উদ্ধার ও আগুন নিয়ন্ত্রণের কাজ শুরু করে দমকল বাহিনী।
মির্জা গালিব স্ট্রিট কলকাতার নিউ মার্কেটের একেবারে পাশেই অবস্থিত। নিউ মার্কেটের পেছনের অংশ এবং আশপাশের বেশ কয়েকটি প্রধান গলি এই সড়কের সঙ্গে যুক্ত।
আগুন লাগার সময় হোটেলের বিভিন্ন কক্ষে অনেক অতিথি ঘুমিয়ে ছিলেন। স্থানীয়দের দাবি, বাইরে থেকে আগুনের শিখা তেমন দেখা যায়নি; তবে হোটেল থেকে প্রচুর কালো ধোঁয়া বের হতে দেখা যায়। আগুনের খবর ছড়িয়ে পড়ার পর ভেতরে থাকা লোকজন দ্রুত বাইরে বের হওয়ার চেষ্টা করেন।
প্রাথমিকভাবে জানা গেছে, হোটেলের প্রবেশ ও বের হওয়ার পথ ছিল অত্যন্ত সংকীর্ণ। ফলে আগুনের আতঙ্কে সেখানে হুড়োহুড়ির সৃষ্টি হয়। এখন পর্যন্ত প্রায় ৬০ জনকে উদ্ধার করা হয়েছে বলে জানা গেছে। উদ্ধার হওয়া অনেকেই ধোঁয়ায় অসুস্থ ও অচেতন হয়ে পড়েন। তাদের বিভিন্ন হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।
হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, হোটেলে আটকা পড়া অবস্থায় অন্তত ৯ জনের মৃত্যু হয়েছে। নিহতদের শরীরে পোড়ার চিহ্ন পাওয়া গেলেও চিকিৎসকদের প্রাথমিক ধারণা, ধোঁয়ায় শ্বাসরোধ হয়ে তাদের মৃত্যু হয়ে থাকতে পারে। তবে ময়নাতদন্তের পর মৃত্যুর সঠিক কারণ নিশ্চিত হওয়া যাবে।
আহতদের মধ্যে কয়েকজনকে কলকাতা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। তাদের মধ্যে কয়েকজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক বলে জানা গেছে। প্রাথমিকভাবে হোটেলের একটি এসি থেকে আগুনের সূত্রপাত হয়ে থাকতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তবে আগুন লাগার প্রকৃত কারণ এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি। বিষয়টি খতিয়ে দেখতে তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ ও দমকল বিভাগ।
ঘটনাস্থল ঘিরে রেখেছে পুলিশ। সেখানে উপস্থিত রয়েছেন পশ্চিমবঙ্গের দমকলমন্ত্রী ও কলকাতা পুলিশের কমিশনার। অগ্নিনিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। স্থানীয় সূত্রের দাবি, ঘটনাস্থল থেকে মাত্র একটি ভবন পরেই রয়েছে দমকলের অফিস। এত কাছেই দমকলের কার্যালয় থাকা সত্ত্বেও হোটেলটির অগ্নিনিরাপত্তা ব্যবস্থা কতটা কার্যকর ছিল, তা নিয়ে তদন্ত শুরু হয়েছে।
এদিকে নিহতদের পরিচয় এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ করা হয়নি। তাদের পরিচয় শনাক্ত ও স্বজনদের সঙ্গে যোগাযোগের প্রক্রিয়া চলছে।