বুধবার, ২৯ জুলাই, ২০২৬

পাক-নিয়ন্ত্রিত কাশ্মীরে নির্বাচন বর্জন ঘিরে সংঘর্ষ, ২৪ ঘণ্টায় নিহতের দাবি ২০


পাকিস্তান-নিয়ন্ত্রিত কাশ্মীরের রাওয়ালাকোটে নির্বাচন বর্জন আন্দোলনকে কেন্দ্র করে নিরাপত্তা বাহিনীর সঙ্গে সংঘর্ষের ঘটনায় অন্তত ২০ জন নিহত হওয়ার দাবি উঠেছে। আহত হয়েছেন আরও অর্ধশতাধিক মানুষ। তবে এ হতাহতের সংখ্যা স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি এবং পাকিস্তানি কর্তৃপক্ষও এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।

২৯ জুলাই ২০২৬, ৭:৫২ পূর্বাহ্ণ 

পাক-নিয়ন্ত্রিত কাশ্মীরে নির্বাচন বর্জন ঘিরে সংঘর্ষ, ২৪ ঘণ্টায় নিহতের দাবি ২০
  গুগল নিউজে ফলো করে আজকের প্রসঙ্গ এর সাথে থাকুন

পাকিস্তান-নিয়ন্ত্রিত কাশ্মীরের রাওয়ালাকোটে আইনসভা নির্বাচন বর্জনের আন্দোলনকে কেন্দ্র করে উত্তেজনা চরমে পৌঁছেছে। স্থানীয় বিভিন্ন সূত্র ও ভারতীয় সংবাদমাধ্যমের বরাতে দাবি করা হয়েছে, গত ২৪ ঘণ্টায় নিরাপত্তা বাহিনীর গুলিতে অন্তত ২০ জন আন্দোলনকারী নিহত এবং ৫০ জনের বেশি আহত হয়েছেন। তবে এসব হতাহতের তথ্য স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি।

ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভি জানিয়েছে, রাওয়ালাকোটের দ্রিক এইথ এলাকায় সমবেত বিক্ষোভকারীদের ছত্রভঙ্গ করতে নিরাপত্তা বাহিনী গুলি চালায়। প্রত্যক্ষদর্শীদের বরাতে প্রতিবেদনে বলা হয়, ঘটনাস্থলে কোনো পূর্ব সতর্কতা ছাড়াই গুলিবর্ষণ করা হয় বলে অভিযোগ রয়েছে।

স্থানীয় সূত্রগুলোর দাবি, সোমবার (২৭ জুলাই) থেকে শুরু হওয়া অভিযানে নির্বাচন বর্জনের পক্ষে সক্রিয় অন্তত ২০ জন নিহত হয়েছেন। নিহতদের মধ্যে জয়েন্ট আওয়ামি অ্যাকশন কমিটির (জেএএসি) মুখপাত্র উমর নাজির কাশ্মিরির ভাই উসমান নাজিরও রয়েছেন বলে দাবি করা হয়েছে।

এদিকে, গত ৫ জুন থেকে শুরু হওয়া নির্বাচনবিরোধী আন্দোলনের পর থেকে নিরাপত্তা বাহিনীর অভিযানে মোট ৮০ জন নিহত হয়েছেন বলেও বিভিন্ন সূত্র দাবি করেছে। তবে এ সংখ্যাও স্বাধীনভাবে নিশ্চিত করা যায়নি। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া বিভিন্ন ভিডিওতে নিরাপত্তা বাহিনীর গুলিবর্ষণ এবং রাস্তায় হতাহত ব্যক্তিদের পড়ে থাকতে দেখা গেছে বলে দাবি করা হচ্ছে। তবে ভিডিওগুলোর সত্যতা স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি।

অধিকৃত কাশ্মিরের পরিচিত সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যক্তিত্ব আকিল ভাই এক ভিডিও বার্তায় পরিস্থিতিকে ‘ভয়াবহ’ বলে উল্লেখ করেন। তিনি আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় ও গণমাধ্যমের প্রতি দৃষ্টি আকর্ষণের আহ্বান জানিয়ে বলেন, রাওয়ালাকোটে বহু মানুষ হতাহত হয়েছেন এবং স্থানীয়রা চরম সংকটের মধ্যে রয়েছেন।

নির্বাচন বর্জন আন্দোলনে নেতৃত্ব দেওয়া আওয়ামি অ্যাকশন কমিটি অভিযোগ করেছে, তাদের নেতাকর্মীদের লক্ষ্য করে অভিযান চালানো হচ্ছে। তাদের দাবি, নির্বাচনকে কেন্দ্র করে ভিন্নমত দমনে নিরাপত্তা বাহিনী অতিরিক্ত বলপ্রয়োগ করছে।

ভারতীয় সংবাদ সংস্থা আইএএনএস জানিয়েছে, নির্বাচন উপলক্ষে ইসলামাবাদ থেকে ১৪ হাজারের বেশি নিরাপত্তা সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে। বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থানে স্নাইপার অবস্থান নিয়েছে বলেও প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। পাশাপাশি বিক্ষোভকারীদের ছত্রভঙ্গ করতে তাজা গুলি ও টিয়ার গ্যাস ব্যবহারের অভিযোগ উঠেছে। এ ছাড়া, অঞ্চলটিতে ইন্টারনেট ও মোবাইল যোগাযোগ সীমিত বা বন্ধ রাখা হয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে। কিছু এলাকায় বিদ্যুৎ ও পানি সরবরাহও ব্যাহত হয়েছে বলে স্থানীয় সূত্রের দাবি।

পাকিস্তান-নিয়ন্ত্রিত কাশ্মীরের আইনসভার ৫৩টি আসনের মধ্যে ৪৫টি আসনে সরাসরি নির্বাচন অনুষ্ঠিত হচ্ছে। তিন ধাপে ভোটগ্রহণের সূচি অনুযায়ী, ১০ আগস্ট পর্যন্ত নির্বাচন চলবে। সোমবার মিরপুর বিভাগের ১৩টি আসনে ভোটগ্রহণ হয়েছে। পরবর্তী ধাপে ২ আগস্ট মোজাফফরাবাদ বিভাগ ও শরণার্থী আসনগুলোতে এবং ১০ আগস্ট পুঞ্চ বিভাগের আসনগুলোতে ভোট অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে।

উল্লেখ্য, এ প্রতিবেদনে উল্লেখিত হতাহতের সংখ্যা ও ঘটনাবিবরণ মূলত স্থানীয় সূত্র, ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এবং আন্দোলনকারীদের দাবির ভিত্তিতে প্রকাশিত। এসব তথ্য স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি এবং পাকিস্তানের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া জানায়নি।