সোমবার, ২০ জুলাই, ২০২৬

বিশ্বকাপ থেকে ফিফার রেকর্ড ১৫ বিলিয়ন ডলার আয়


২০২৬ ফুটবল বিশ্বকাপ থেকে রেকর্ড ১৫ বিলিয়ন মার্কিন ডলার আয় করেছে ফিফা, যা সংস্থাটির নির্ধারিত লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে ৪ বিলিয়ন ডলার বেশি। টিকিট, হসপিটালিটি প্যাকেজ ও সেকেন্ডারি মার্কেট থেকে বিপুল রাজস্ব আসায় এই নজির গড়েছে বিশ্ব ফুটবলের নিয়ন্ত্রক সংস্থা।

১৯ জুলাই ২০২৬, ৭:২৩ অপরাহ্ণ 

বিশ্বকাপ থেকে ফিফার রেকর্ড ১৫ বিলিয়ন ডলার আয়
  গুগল নিউজে ফলো করে আজকের প্রসঙ্গ এর সাথে থাকুন

চলতি ২০২৬ ফুটবল বিশ্বকাপ থেকে রেকর্ড ১৫ বিলিয়ন (১ হাজার ৫০০ কোটি) মার্কিন ডলার আয় করেছে ফিফা। বাংলাদেশি মুদ্রায় যার পরিমাণ প্রায় ১ লাখ ৮৪ হাজার ৫০০ কোটি টাকা। টুর্নামেন্ট শুরুর আগে নির্ধারিত আয়ের লক্ষ্যমাত্রার তুলনায় এই আয় ৪ বিলিয়ন ডলার বেশি।

রোববার (১৯ জুলাই) ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম দ্য গার্ডিয়ান-এর এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, শনিবার (১৮ জুলাই) ফিফার সদস্য দেশগুলোর প্রতিনিধিদের কাছে সংস্থাটির সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনো আনুষ্ঠানিকভাবে এই রেকর্ড আয়ের তথ্য তুলে ধরেন। বিশ্বকাপ শুরুর আগে ফিফার আয়ের লক্ষ্য ছিল ১১ বিলিয়ন ডলার। তবে টুর্নামেন্ট শেষে সেই হিসাব ছাড়িয়ে আয় পৌঁছায় ১৫ বিলিয়ন ডলারে।

ফিফার এই বিপুল আয়ের পেছনে সবচেয়ে বড় অবদান রেখেছে হসপিটালিটি প্যাকেজ এবং টিকিটের সেকেন্ডারি মার্কেট। এই বাজারে টিকিট পুনর্বিক্রির ক্ষেত্রে ক্রেতা ও বিক্রেতা- উভয় পক্ষের কাছ থেকেই ১৫ শতাংশ করে, মোট ৩০ শতাংশ কমিশন পায় ফিফা।

ফাইনালের আগের দিনও নিউ জার্সিতে অনুষ্ঠিত স্পেন-আর্জেন্টিনা ম্যাচের ভিআইপি ও হসপিটালিটি টিকিট ফিফার অফিসিয়াল পোর্টালে বিক্রি হতে দেখা যায়। সেখানে ‘ট্রফি লাউঞ্জ’-এর একটি টিকিটের মূল্য ছিল প্রায় ৩৪ হাজার ৫০০ মার্কিন ডলার, যা বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ৪১ লাখ টাকার সমান। রেকর্ড পরিমাণ এই আয় ফিফা সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনোর জন্যও স্বস্তির খবর হিসেবে দেখা হচ্ছে। কারণ যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা ও মেক্সিকোর যৌথ আয়োজনে অনুষ্ঠিত এবারের বিশ্বকাপজুড়ে বেশ কয়েকটি বিতর্কের মুখে পড়তে হয়েছে সংস্থাটিকে।

বিশেষ করে, শেষ ষোলোর ম্যাচে প্যারাগুয়ের বিপক্ষে যুক্তরাষ্ট্রের স্ট্রাইকার ফোলারিন বালোগুনের লাল কার্ড বাতিলের সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক সমালোচনা হয়। ফুটবল সংশ্লিষ্টদের একাংশের অভিযোগ, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের চাপের মুখেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল। যদিও ফিফার দাবি, বিষয়টি তাদের স্বাধীন শৃঙ্খলা কমিটি বিবেচনা করে সিদ্ধান্ত দিয়েছে।

বিশ্বকাপ থেকে বাড়তি আয়ের ফলে সদস্য দেশগুলোর জন্য আর্থিক অনুদানও বাড়বে। ফলে সংস্থার অভ্যন্তরে থাকা অসন্তোষ অনেকটাই প্রশমিত হতে পারে। ২০২৭ সালের মার্চে অনুষ্ঠিতব্য ফিফা সভাপতির নির্বাচনে পুনর্নির্বাচনের লক্ষ্যে ইতোমধ্যেই ২০০টির বেশি সদস্য দেশের সমর্থন পেয়েছেন ইনফান্তিনো।

এদিকে বিশ্বকাপের এই আর্থিক সাফল্যের পর যুক্তরাষ্ট্রে আবারও দ্রুত বিশ্বকাপ আয়োজনের সম্ভাবনা জোরালো হয়েছে। শুক্রবার (১৭ জুলাই) এক অনুষ্ঠানে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেন, ভবিষ্যতে যুক্তরাষ্ট্র এককভাবেই বিশ্বকাপ আয়োজন করতে আগ্রহী। বর্তমানে ২০৩৮ সালের বিশ্বকাপ আয়োজনের সম্ভাব্য বিড নিয়ে যুক্তরাষ্ট্র আগ্রহ দেখাচ্ছে। পাশাপাশি ২০২৯ সালের ক্লাব বিশ্বকাপ এককভাবে আয়োজনের বিষয়েও ফিফার সঙ্গে আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছে দেশটি।