‘সরকারকে অপসারণের সময় এসেছে’-শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগের পর রাহুল গান্ধী
২৫ জুন ২০২৬, ১:৫১ অপরাহ্ণ
ভেনেজুয়েলায় মাত্র ৩৯ সেকেন্ডের ব্যবধানে দুটি শক্তিশালী ও বিধ্বংসী ভূমিকম্প আঘাত হেনেছে। আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম বিবিসির তথ্য অনুযায়ী, প্রথম ভূমিকম্পটির মাত্রা ছিল ৭.২ এবং এর উৎপত্তিস্থল ছিল কারাবোবো অঙ্গরাজ্যে, যা রাজধানী কারাকাস থেকে প্রায় ২০ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত।
প্রথম কম্পনের ধাক্কা সামলে ওঠার আগেই মাত্র ৩৯ সেকেন্ড পর আঘাত হানে আরও শক্তিশালী দ্বিতীয় ভূমিকম্পটি। ইউএসজিএস-এর পরিমাপ অনুযায়ী, দ্বিতীয় প্রধান ভূমিকম্পটির মাত্রা ছিল ৭.৫। দেশটিতে এক শতাব্দীরও বেশি সময়ের মধ্যে এটি অন্যতম শক্তিশালী ভূমিকম্পের ঘটনা।
হঠাৎ এই জোড়া ভূমিকম্পে কেঁপে ওঠে গোটা রাজধানী কারাকাস। শহরের বিভিন্ন স্থানে বহু বহুতল ভবন ধসে পড়ার খবর পাওয়া গেছে। ইউএসজিএস-এর প্রজেক্টিভ মডেলিং বা পূর্বাভাস অনুযায়ী, এই দুর্যোগের ফলে ব্যাপক প্রাণহানি ঘটতে পারে। তাদের পরিসংখ্যান বলছে, ভূমিকম্পের জেরে ১০ হাজারেরও বেশি মানুষের মৃত্যুর আশঙ্কা ৪৪ শতাংশ এবং নিহতের সংখ্যা ১ লাখ ছাড়িয়ে যাওয়ার শঙ্কা প্রায় ৩০ শতাংশ।
ভূমিকম্পের পর পরই ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাগুলোতে বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সরবরাহ সম্পূর্ণ ব্যাহত হয়েছে। ভেঙে পড়েছে টেলিযোগাযোগ ব্যবস্থা। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন, ধসে পড়া বিভিন্ন ভবনের ধ্বংসস্তূপের নিচে অসংখ্য মানুষ আটকে আছেন এবং তারা বাঁচার জন্য আকুতি জানাচ্ছেন।
পরিস্থিতি মোকাবিলায় ভেনেজুয়েলার স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী দেশের বাসিন্দাদের জরুরি ভিত্তিতে ক্ষতিগ্রস্ত ভবন ও ঝুঁকিপূর্ণ ঘরবাড়ি ছেড়ে খোলা বা নিরাপদ স্থানে সরে যাওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন। পরবর্তী সম্ভাব্য আফটারশকের (অনুকম্পন) আশঙ্কায় জনগণকে সর্বোচ্চ সতর্ক থাকতে বলা হয়েছে।
ইতিমধ্যেই উদ্ধারকর্মী, ফায়ার সার্ভিস ও আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা উপদ্রুত এলাকাগুলোতে পৌঁছেছেন। ধ্বংসস্তূপের নিচে আটকে পড়াদের উদ্ধারে জরুরি ভিত্তিতে তল্লাশি ও উদ্ধার অভিযান চালানো হচ্ছে। তবে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন থাকায় এখনও পর্যন্ত হতাহতের সঠিক সংখ্যা বা ক্ষয়ক্ষতির পূর্ণাঙ্গ চিত্র জানা সম্ভব হয়নি।