সোমবার, ৪ মে, ২০২৬

গাজায় ধ্বংসস্তূপে আটকা হাজারো মরদেহ


দুই বছরের সামরিক অভিযানে বিধ্বস্ত গাজা উপত্যকায় এখনও অন্তত ৮ হাজার ফিলিস্তিনির মরদেহ ধ্বংসস্তূপের নিচে চাপা পড়ে আছে। অবকাঠামোর ৯০ শতাংশ ধ্বংস হওয়ায় উদ্ধার ও পরিষ্কার কার্যক্রম চলছে অত্যন্ত ধীরগতিতে।

৪ মে ২০২৬, ৯:০৭ পূর্বাহ্ণ 

গাজায় ধ্বংসস্তূপে আটকা হাজারো মরদেহ
  গুগল নিউজে ফলো করে আজকের প্রসঙ্গ এর সাথে থাকুন

দুই বছরের টানা সামরিক অভিযানে ধ্বংসস্তূপে পরিণত হওয়া গাজা উপত্যকায় মানবিক সংকট ক্রমেই গভীর হচ্ছে। জাতিসংঘ উন্নয়ন কর্মসূচি-এর এক কর্মকর্তার বরাতে ইসরায়েলি দৈনিক হারেৎজ জানিয়েছে, এখনও অন্তত ৮ হাজার ফিলিস্তিনির মরদেহ বিধ্বস্ত ভবনের কংক্রিটের নিচে চাপা পড়ে রয়েছে। এখন পর্যন্ত গাজার মোট ধ্বংসাবশেষের মাত্র ১ শতাংশেরও কম সরানো সম্ভব হয়েছে।

বর্তমান গতিতে উদ্ধার ও পরিষ্কার কার্যক্রম চলতে থাকলে পুরো গাজা পরিষ্কার করতে প্রায় সাত বছর সময় লাগতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। ধ্বংসস্তূপের নিচে স্বজনদের মরদেহ আটকা পড়ে থাকায় অনেক পরিবার এখনও প্রিয়জনদের দাফন করতে পারছেন না। গাজার সিভিল ডিফেন্স কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, ভারী যন্ত্রপাতি ও পর্যাপ্ত জনবলের অভাবে উদ্ধার কাজ মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। ফলে মানবিক পরিস্থিতি দিন দিন আরও জটিল হয়ে উঠছে।

গত অক্টোবরের যুদ্ধবিরতি চুক্তির পরও ইসরায়েলের অভিযান পুরোপুরি থামেনি। গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, যুদ্ধবিরতির পর নতুন করে হামলায় অন্তত ৮২৮ ফিলিস্তিনি নিহত এবং ২,৩৪২ জন আহত হয়েছেন। দুই বছরের সংঘাতে মোট নিহতের সংখ্যা ৭২ হাজার ছাড়িয়েছে, আর আহত হয়েছেন প্রায় ১ লাখ ৭২ হাজার মানুষ।

জাতিসংঘ জানিয়েছে, ইসরায়েলি হামলায় গাজার প্রায় ৯০ শতাংশ বেসামরিক অবকাঠামো ধ্বংস হয়ে গেছে। পুরো উপত্যকা পুনর্গঠনে প্রায় ৭০ বিলিয়ন ডলার ব্যয় হতে পারে।

অন্যদিকে, গাজামুখী মানবিক ত্রাণবাহী ‘সুমুদ ফ্লোটিলা’ থেকে আটক দুই বিদেশি অ্যাক্টিভিস্টকে ইসরায়েলের আশকেলন আদালতে হাজির করা হয়েছে। স্পেনের সাইফ আবু কেশেক ও ব্রাজিলের থিয়াগো আভিলাকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আটক করা হয়। তাদের আইনগত সহায়তা প্রদানকারী সংগঠন আদালাহ জানিয়েছে, ইসরায়েল তাদের আটকাদেশ আরও চার দিনের জন্য বাড়ানোর আবেদন করেছে।

ভূমধ্যসাগরে গাজাগামী ৫০টির বেশি নৌযানের এই বহরটি ফ্রান্স, স্পেন ও ইতালি থেকে যাত্রা করেছিল। আন্তর্জাতিক জলসীমায় গ্রিস উপকূলের কাছে ইসরায়েলি বাহিনী বহরটি থামিয়ে দেয়। আটক অ্যাক্টিভিস্টরা অভিযোগ করেছেন, জিজ্ঞাসাবাদের আগে তাদের মারধর, চোখ বেঁধে রাখা এবং নির্যাতন করা হয়েছে। তবে ইসরায়েলের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় দাবি করেছে, তারা হামাস-সংশ্লিষ্ট একটি সংগঠনের সঙ্গে যুক্ত।

এদিকে পশ্চিম তীরেও সহিংসতা বেড়েই চলেছে। স্কুল ও শিক্ষার্থীদের ওপর হামলার ঘটনা উদ্বেগজনকভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। গত ২১ এপ্রিল রামাল্লাহর কাছে মুগাইয়ির গ্রামে সশস্ত্র ইসরায়েলি রিজার্ভ সেনারা পাহাড়ের ওপর থেকে গুলি চালালে ১৪ বছর বয়সী ছাত্র আওস আল-নাসান নিহত হয়। একই ঘটনায় আরও একজন ফিলিস্তিনি প্রাণ হারান।

ইউনিসেফ জানিয়েছে, চলমান সংঘাতে গাজায় এখন পর্যন্ত অন্তত ১৮,৬৩৯ শিক্ষার্থী এবং ৭৯২ শিক্ষক নিহত হয়েছেন। প্রায় ৯০ শতাংশ স্কুল ভবন ধ্বংস বা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। সংস্থাটি সতর্ক করেছে, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোর ওপর ধারাবাহিক হামলা শিশুদের মানসিক স্বাস্থ্য ও স্বাভাবিক জীবনকে গভীর সংকটে ফেলছে।