রবিবার, ৩১ মে, ২০২৬

আদ্-দ্বীন হাসপাতালে ময়লা ও রুটির কারখানা, পরিবেশগত কারণেও শিশু মৃত্যু হতে পারে: স্বাস্থ্যমন্ত্রী


রাজধানীর আদ্-দ্বীন মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ছয় শিশুর মৃত্যুর ঘটনায় পরিবেশগত কারণ দায়ী থাকতে পারে বলে জানিয়েছেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন। হাসপাতাল পরিদর্শনে গিয়ে সেখানে ময়লা এবং একটি অবৈধ রুটির কারখানার সন্ধান পাওয়ার কথা জানান তিনি। একই সাথে, ঘটনার সুষ্ঠু তদন্তের স্বার্থে আগামী ৩ জুন পর্যন্ত তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেওয়ার সময় বাড়ানো হয়েছে বলেও উল্লেখ করেন মন্ত্রী।
আদ্-দ্বীন হাসপাতালে ময়লা ও রুটির কারখানা, পরিবেশগত কারণেও শিশু মৃত্যু হতে পারে: স্বাস্থ্যমন্ত্রী
  গুগল নিউজে ফলো করে আজকের প্রসঙ্গ এর সাথে থাকুন

আদ্-দ্বীন মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পরিবেশগত কারণেই শিশুদের মৃত্যু হয়ে থাকতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন। শনিবার (৩০ মে) বিকালে হাসপাতালটি পরিদর্শনের পর সাংবাদিকদের সাথে আলাপকালে তিনি এ কথা বলেন। পরিদর্শনকালে হাসপাতালটিতে নানাবিধ অব্যবস্থাপনা ও ময়লার পাশাপাশি একটি রুটির কারখানার সন্ধান পাওয়া গেছে বলে জানান তিনি।

স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, "ঘটনার বিষয়ে প্রথমে ৭২ ঘণ্টার মধ্যে প্রতিবেদন দেওয়ার কথা থাকলেও অধিকতর তদন্তের স্বার্থে সময় বাড়ানো হয়েছে। নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী আগামী ৩ জুন চূড়ান্ত তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেওয়া হবে।" তিনি আরও জানান, তদন্ত কমিটি মৃত শিশুদের মায়েদের সাথে এখনো পূর্ণাঙ্গভাবে কথা বলতে পারেনি। সঠিক ও ত্রুটিমুক্ত প্রতিবেদনের জন্য মায়েদের বক্তব্য অত্যন্ত জরুরি হওয়ায় এবং কিছু মা ঢাকার বাইরে থাকায় কমিটির আবেদনের প্রেক্ষিতে এই সময় বাড়ানো হয়েছে।

মৃত শিশুদের ময়নাতদন্ত না হওয়া প্রসঙ্গে মন্ত্রী বলেন, এত ছোট বাচ্চাদের বাবা-মায়েরা ময়নাতদন্ত করতে রাজি হননি। তবে ময়নাতদন্ত ছাড়াও সব দিক থেকে সর্বোচ্চ চেষ্টা চালিয়ে মৃত্যুর আসল কারণ উদ্ঘাটন করা হবে।

হাসপাতাল ভবনের ওপরের একটি তলায় ‘রুটির কারখানার’ সন্ধান মেলার বিষয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে সাখাওয়াত হোসেন বলেন, "সেখানে ইলেকট্রিক ওভেনের মাধ্যমে রুটি তৈরি হতো, অথচ কোনো ইলেকট্রিক ইঞ্জিনিয়ার ছিল না। একটি মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে হাজার হাজার ছাত্র-ছাত্রী, রোগী ও স্বজন থাকেন। সেখানে এমন কারখানা থাকা একেবারেই অনুচিত। আমাদের পরিদর্শন বা নজরদারির অভাবের কারণেই এমনটি হয়েছে। ভবিষ্যতে এসব বিষয়ে কঠোর নজরদারি করা হবে।" ওই কারখানা থেকে এমন কোনো ক্ষতিকর গ্যাস তৈরি হয়েছিল কিনা যা শিশুদের সহ্যক্ষমতার বাইরে, তা পরীক্ষা করতে আগামীকাল (রবিবার) হাসপাতালে আবার বিশেষজ্ঞ দল আসবে বলে জানান তিনি। এছাড়া হাসপাতালের আরেকটি জায়গায় প্রচুর পানি জমা ছিল উল্লেখ করে মন্ত্রী বলেন, পানি ও রুটির কারখানা থেকে কোনো বিষাক্ত পদার্থ বা গ্যাস বের হয়ে এই দুর্ঘটনা ঘটেছে কিনা তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

এ সময় তদন্ত কমিটির বিষয়ে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. প্রভাত চন্দ্র বিশ্বাস জানান, বর্তমানে কমিটিতে ছয়জন সদস্য কাজ করছেন। হাসপাতালের পরিবেশ ও কারিগরি অবস্থাসহ সব বিষয় খতিয়ে দেখতে প্রয়োজনে আরও বিশেষজ্ঞ যুক্ত করার সুযোগ রাখা হয়েছে।

উল্লেখ্য, গত বুধবার কুরবানির ঈদের আগের দিন ভোরের দিকে আদ্-দ্বীন হাসপাতালের ‘পোস্ট অপারেটিভ’ ওয়ার্ডে থাকা ছয়টি শিশু হঠাৎ একসাথে অসুস্থ হয়ে পড়ে এবং একে একে সব শিশুর মৃত্যু হয়। মর্মান্তিক এই ঘটনায় দেশব্যাপী গভীর উদ্বেগ, শোক ও তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।