শুক্রবার, ১০ এপ্রিল, ২০২৬

পরিবেশ রক্ষায় নির্বাচনি ইশতেহারে সুস্পষ্ট রোডম্যাপ চাইলেন রিজওয়ানা হাসান


পরিবেশ সংরক্ষণ ও দূষণ রোধে রাজনৈতিক দলগুলোর নির্বাচনি ইশতেহারে সুস্পষ্ট রোডম্যাপ এবং বাস্তবায়নযোগ্য পরিকল্পনা অন্তর্ভুক্ত করার দাবি জানিয়েছেন পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন, তথ্য ও সম্প্রচার এবং পানিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান। তিনি বলেন, পরিবেশ রক্ষায় নির্বাচিত সরকারকে জবাবদিহিতার মধ্যে রাখতেও রাজনৈতিক সদিচ্ছা প্রয়োজন।

২৫ জানুয়ারী ২০২৬, ৯:৩৩ পূর্বাহ্ণ 

পরিবেশ রক্ষায় নির্বাচনি ইশতেহারে সুস্পষ্ট রোডম্যাপ চাইলেন রিজওয়ানা হাসান
  গুগল নিউজে ফলো করে আজকের প্রসঙ্গ এর সাথে থাকুন

পরিবেশ রক্ষা ও দূষণ নিয়ন্ত্রণে রাজনৈতিক দলগুলোর নির্বাচনি ইশতেহারে সুস্পষ্ট রোডম্যাপ এবং তা বাস্তবায়নে কার্যকর পরিকল্পনা থাকা জরুরি বলে মন্তব্য করেছেন পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন, তথ্য ও সম্প্রচার এবং পানিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান।

শনিবার (২৪ জানুয়ারি) ঢাকার আগারগাঁওয়ে পরিবেশ অধিদপ্তরে আয়োজিত ‘রোড টু গ্রিন ম্যানিফেস্টো ডায়ালগ উইথ পলিটিক্যাল পার্টিস’ শীর্ষক অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।

উপদেষ্টা বলেন, “যে প্রজন্ম জুলাই আন্দোলন করতে পারে, সেই প্রজন্ম বায়ুদূষণসহ সব ধরনের পরিবেশ দূষণ রোধেও ভূমিকা রাখতে পারে। এই প্রজন্ম অনেক বেশি সমাজসচেতন। আমরা তাদের কাছ থেকে পরিবেশ রক্ষায় সুনির্দিষ্ট লক্ষ্য ও অঙ্গীকার প্রত্যাশা করি।” তিনি আরও বলেন, পরিবেশ রক্ষায় রাজনৈতিক দলগুলোর নির্বাচনি ইশতেহারে স্পষ্ট রোডম্যাপ থাকতে হবে এবং নির্বাচিত সরকারকে জবাবদিহিতার মধ্যে রাখতে হবে।

দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে আগত অংশগ্রহণকারীদের উদ্দেশ্যে রিজওয়ানা হাসান বলেন, যেকোনো প্রকল্প গ্রহণের আগে তার একটি সুস্পষ্ট রোডম্যাপ থাকা আবশ্যক। তিনি বলেন, “একটি দেশের সংস্কার দেড় বছরের মধ্যে সম্পূর্ণ করা সম্ভব নয়। তবে এই সময়ের মধ্যেও কিছু বড় কাজ হয়েছে এবং কিছু প্রকল্পের কাজ শুরু হয়েছে। জনগণকে দৃশ্যমান উন্নয়ন দেখতে হবে।”

বায়ুদূষণ প্রসঙ্গে উপদেষ্টা বলেন, বর্তমানে দেশের মোট বায়ুদূষণের উল্লেখযোগ্য অংশের জন্য দায়ী ইটভাটা, নির্মাণসামগ্রী উন্মুক্ত রাখা, রাস্তার ধুলা ও বর্জ্য পোড়ানো। তিনি জানান, গত বছরে ১০৬টি ইটভাটা চালু ছিল এবং প্রায় ১৩ শতাংশ বায়ুদূষণের জন্য এসব উৎস দায়ী। এছাড়া পুরোনো বাস থেকে ৬ শতাংশ দূষণ হচ্ছে। যানবাহন থেকে নির্গত কালো ধোঁয়া বন্ধে একটি ‘স্ক্র্যাপ পলিসি’ প্রণয়ন করা হয়েছে, যা বাস্তবায়নের ওপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি।

ঢাকা শহরের ফিটনেসবিহীন যানবাহন নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে রিজওয়ানা হাসান বলেন, রাজধানীতে চলাচলকারী বহু যানবাহন থেকে কালো ধোঁয়া নির্গত হচ্ছে। সরকার এখনো ২৮ হাজার ফিটনেসবিহীন বাস সড়ক থেকে সরাতে পারেনি। এ বিষয়ে বিআরটিএর কাছে ব্যাখ্যা চাওয়া হয়েছে। বায়ুদূষণ কমাতে প্রায় ১০০টি ইলেকট্রিক বাস আনার একটি প্রকল্প একনেক সভায় অনুমোদন পেয়েছে বলেও জানান তিনি।

জনস্বাস্থ্য রক্ষায় বায়ুদূষণ নিয়ন্ত্রণে জেলা ও উপজেলা পর্যায়ের ইটভাটার মালিকদের সঙ্গে বৈঠকের কথা উল্লেখ করে উপদেষ্টা বলেন, “১০৬টি ইটভাটা ঢাকার ১ কোটি ৮০ লাখ মানুষের জীবনের চেয়ে বড় হতে পারে না।” এ কারণে সাভার এলাকাকে ‘ডিগ্রেডেড এয়ার শেড’ ঘোষণা করা হয়েছে, যা বাংলাদেশে প্রথম। তিনি আরও বলেন, বায়ুদূষণ, পানিদূষণ, শব্দদূষণ ও সামগ্রিক পরিবেশ দূষণ রোধে নির্বাচনের পর গঠিত নতুন সরকারকে কার্যকর উদ্যোগ নিতে হবে। চীনের বেইজিং শহরের উদাহরণ টেনে তিনি বলেন, সরকার ও জনগণের সম্মিলিত সচেতনতা ছাড়া পরিবেশ রক্ষা সম্ভব নয়।

ফারাক্কা ও তিস্তা প্রকল্প প্রসঙ্গে রিজওয়ানা হাসান জানান, তিস্তা প্রকল্প বাস্তবায়নে চীনকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। তিনি বলেন, গত ৫৪ বছরে দেশে ওয়েস্ট ম্যানেজমেন্টে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি হয়নি। বর্জ্য ব্যবস্থাপনাকে সুষম ও কার্যকরভাবে কাজে লাগাতে পারলে বায়ুদূষণ কমানো সম্ভব। এ জন্য পরবর্তী সরকারের প্রতি বর্জ্য রিসাইক্লিং করে সার উৎপাদনের উদ্যোগ নেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।

অনুষ্ঠানে ব্রাইটারনের চেয়ার ফারিহা আমিরের সঞ্চালনায় বক্তব্য দেন ম্যানিফেস্টো টকের আহ্বায়ক হাবিবুর রহমান, সিপিআরডির প্রতিনিধি মো. শামসুদ্দোহা, সিইজিআইএসের নির্বাহী পরিচালক মালিক ফিদা এ খান, ডিএনসিসির প্রশাসক মো. আজাদ, এনসিপির আরিফুল ইসলামসহ আরও অনেকে।