সোমবার, ১২ অক্টোবর, ২০২৬
নক্ষত্রের বিদায় •

দীর্ঘ অভিনয় জীবনের ইতি, চলে গেলেন নাসিমা খান


বাংলাদেশের চলচ্চিত্রের শুরুর দিকের অন্যতম অভিনেত্রী নাসিমা খান ৮১ বছর বয়সে মারা গেছেন। রোববার (১১ অক্টোবর) সন্ধ্যায় উত্তরার লুবানা হাসপাতালের আইসিইউতে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়। ১৯৫৯ সালে "জাগো হুয়া সাভেরা" চলচ্চিত্রের মাধ্যমে বড় পর্দায় যাত্রা শুরু করেন তিনি। ঢাকার পাশাপাশি লাহোরের চলচ্চিত্রেও অভিনয় করেছেন এই শিল্পী। ২০১১ সালে "কুসুম কুসুম প্রেম" ছিল তার অভিনীত সর্বশেষ চলচ্চিত্র।

১২ অক্টোবর ২০২৬, ১০:৪৬ পূর্বাহ্ণ 

দীর্ঘ অভিনয় জীবনের ইতি, চলে গেলেন নাসিমা খান
  গুগল নিউজে ফলো করে আজকের প্রসঙ্গ এর সাথে থাকুন

ঢাকাই চলচ্চিত্রের শুরুর সময়ের পরিচিত মুখ নাসিমা খান আর নেই। দীর্ঘদিন অসুস্থ থাকার পর রোববার (১১ অক্টোবর) সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে রাজধানীর উত্তরার লুবানা হাসপাতালের নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে (আইসিইউ) চিকিৎসাধীন অবস্থায় শেষ নিশ্বাস ত্যাগ করেন তিনি। মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিল ৮১ বছর।

চলচ্চিত্র শিল্পী সমিতির সাংগঠনিক সম্পাদক সনি রহমান গণমাধ্যমকে অভিনেত্রীর মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করেন। তিনি জানান, বেশ কিছুদিন ধরে অসুস্থ ছিলেন নাসিমা খান। সপ্তাহখানেক আগে শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে তাকে উত্তরার লুবানা হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানেই চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।

বাংলাদেশের চলচ্চিত্রের প্রাথমিক যুগে যেসব অভিনেত্রী নিজেদের অভিনয় দিয়ে দর্শকের নজর কেড়েছিলেন, নাসিমা খান ছিলেন তাদের অন্যতম। দীর্ঘ অভিনয় জীবনে তিনি আনোয়ার হোসেন, হাসান ইমাম, রহমান, গোলাম মুস্তাফা ও আজিমের মতো খ্যাতিমান অভিনেতাদের সঙ্গে পর্দা ভাগ করেছেন। ঢাকার চলচ্চিত্রের পাশাপাশি তৎকালীন পশ্চিম পাকিস্তানের লাহোরের সিনেমাতেও নিজের অবস্থান তৈরি করেছিলেন তিনি।

অভিনেত্রীর মৃত্যুতে শোক প্রকাশ করেছেন চিত্রনায়ক ওমর সানি। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে দেওয়া এক পোস্টে তিনি নাসিমা খানকে শ্রদ্ধাভরে স্মরণ করেন। ওমর সানি লেখেন, প্রবীণ এই শিল্পী ছিলেন ব্যক্তিত্বসম্পন্ন ও গভীর জ্ঞানসম্পন্ন একজন মানুষ। তার সঙ্গে অভিনয়ের সুযোগ পাওয়াকে নিজের সৌভাগ্য বলেও উল্লেখ করেন তিনি। একই সঙ্গে প্রয়াত অভিনেত্রীর আত্মার মাগফিরাত কামনা করেন।

১৯৪৪ সালের ৬ আগস্ট পুরান ঢাকার লালবাগে জন্মগ্রহণ করেন নাসিমা খান। তার পৈতৃক বাড়ি মুন্সিগঞ্জের শ্রীনগর উপজেলার রাঢ়িখাল গ্রামে। বাবা মোহাম্মদ মাসুদ খান পেশায় ব্যবসায়ী ছিলেন। পারিবারিক পরিবেশ থেকেই ছোটবেলায় সংস্কৃতি ও শিল্পচর্চার সঙ্গে পরিচিত হন তিনি।

১৯৫৯ সালে "জাগো হুয়া সাভেরা" চলচ্চিত্রে অভিনয়ের মধ্য দিয়ে বড় পর্দায় যাত্রা শুরু হয় তার। এরপর ১৯৬১ সালে "যে নদী মরু পথে" ছবিতে নায়িকা হিসেবে আত্মপ্রকাশ করে দর্শকমহলে পরিচিতি লাভ করেন। ধীরে ধীরে সমসাময়িক চলচ্চিত্রে নিজের জায়গা শক্ত করেন এই অভিনেত্রী।

তার অভিনীত উল্লেখযোগ্য বাংলা চলচ্চিত্রের মধ্যে রয়েছে "ধারাপাত","কার বউ","উজালা","আপন দুলাল","দুই ভাই","গৌরী","আমার বৌ" ও "ঢেউয়ের পরে ঢেউ"। এ ছাড়া "বেগানা","উলঝন" এবং "ম্যায় ভি ইনসান হু" এর মতো ছবিতেও অভিনয় করেছেন তিনি।

লাহোরের চলচ্চিত্রেও নাসিমা খানের উপস্থিতি ছিল উল্লেখযোগ্য। সেখানে নির্মিত "নয়ি লায়লা নয়া মজনু" ও "গীত কাহিঁ সংগীত কাহিঁ" দুটি ছবিই মুক্তি পায় ১৯৬৯ সালে। পরবর্তী সময়ে "আঁসু বন গয়ে মোতি" (১৯৭০) এবং "রোড টু সোয়াত" (১৯৭১) চলচ্চিত্রেও অভিনয় করেন তিনি। "গীত কাহিঁ সংগীত কাহিঁ" ছবিটির প্রযোজনার সঙ্গেও যুক্ত ছিলেন এই শিল্পী।

বাংলাদেশের স্বাধীনতার পর একপর্যায়ে চলচ্চিত্রে অভিনয় থেকে দূরে সরে যান নাসিমা খান। পরে টেলিভিশনে উপস্থাপনার মাধ্যমে আবারও দর্শকদের সামনে উপস্থিত হন। এরপর নাটক ও চলচ্চিত্রে কাজ করলেও অভিনয়ে তার উপস্থিতি ছিল তুলনামূলকভাবে সীমিত। দীর্ঘ বিরতির পর ২০১১ সালে ইমপ্রেস টেলিফিল্মের "কুসুম কুসুম প্রেম" ছবিতে অভিনয় করেন তিনি। এটিই ছিল তার অভিনীত সর্বশেষ চলচ্চিত্র।

নাসিমা খানের প্রয়াণের মধ্য দিয়ে বাংলাদেশের চলচ্চিত্রের শুরুর দিকের এক পরিচিত অধ্যায়ের অবসান হলো। তার অভিনয় জীবন ও শিল্পাঙ্গনে অবদান স্মরণে থাকবে চলচ্চিত্র প্রেমীদের কাছে।