বৃহস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
বলিউড অভিনেত্রী

অন্তরঙ্গ দৃশ্য ফাঁসের পর আতঙ্কে রাধিকা।


অন্তরঙ্গ দৃশ্য ফাঁসের পর ভয়াবহ অভিজ্ঞতার কথা জানিয়েছেন রাধিকা আপ্তে। অনুমতি ছাড়া ভিডিও ছড়িয়ে পড়ায় টানা চার দিন ঘর থেকে বের হতে পারেননি তিনি এবং নিরাপত্তা নিয়ে আতঙ্কে ছিলেন। একই সাক্ষাৎকারে রাজনৈতিক পরিস্থিতির কারণে একটি কাজ ছেড়ে দেওয়া ও সন্তান জন্মের পরও অভিনয় চালিয়ে যাওয়ার অভিজ্ঞতাও শেয়ার করেছেন অভিনেত্রী।

২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২:৩২ অপরাহ্ণ 

অন্তরঙ্গ দৃশ্য ফাঁসের পর আতঙ্কে রাধিকা।
  গুগল নিউজে ফলো করে আজকের প্রসঙ্গ এর সাথে থাকুন

পর্দায় অন্তরঙ্গ দৃশ্য এখন আর খুব একটা নতুন বিষয় নয়। গল্পের প্রয়োজনে এমন দৃশ্যে অভিনয় করেন অনেক অভিনেতা অভিনেত্রীই। তবে ক্যামেরার সামনে ধারণ করা কোনো অন্তরঙ্গ মুহূর্ত যদি সংশ্লিষ্ট অভিনেত্রীর অনুমতি ছাড়াই বাইরে ছড়িয়ে পড়ে, তখন তার ব্যক্তিগত জীবনে কী ধরনের প্রভাব পড়তে পারে সেই কঠিন অভিজ্ঞতার মধ্য দিয়ে যেতে হয়েছে বলিউড অভিনেত্রী রাধিকা আপ্তেকে।

সম্প্রতি "লাস্ট স্টোরিজ ৩" এ অভিনয় করেছেন রাধিকা। সিরিজটির অন্তরঙ্গ দৃশ্যের শুটিং ও এ ধরনের দৃশ্যে অভিনেতার সম্মতি এবং নিরাপত্তার প্রসঙ্গ নিয়ে কথা বলতে গিয়ে নিজের জীবনের পুরোনো এক ভয়াবহ অভিজ্ঞতার কথা সামনে আনেন তিনি। রাধিকার ভাষ্য অনুযায়ী, তার অভিনীত একটি ছবির অন্তরঙ্গ দৃশ্য ফাঁস হয়ে যাওয়ার পর পরিস্থিতি এতটাই অস্বস্তিকর ও ভীতিকর হয়ে উঠেছিল যে টানা চার দিন নিজের বাড়ি থেকে বের হতে পারেননি তিনি।

শুধু সামাজিক অস্বস্তি নয়, ওই ঘটনায় নিজের নিরাপত্তা নিয়েও আতঙ্কে ছিলেন অভিনেত্রী। কারণ, ফাঁস হওয়া ভিডিওটি কেবল অনলাইনে ছড়িয়ে পড়েই থেমে থাকেনি, সেটি ধীরে ধীরে পৌঁছে গিয়েছিল তার পরিচিতজন এবং ব্যক্তিগত পরিসরের মানুষের কাছেও। ফলে বিষয়টি তার কাছে আরও ভয়াবহ হয়ে ওঠে।

ঘটনার ভয়াবহতা বোঝাতে গিয়ে রাধিকা জানান, তার রূপটান শিল্পীর গাড়িচালকও ওই ক্লিপটি দেখছিলেন। এমনকি তিনি বারবার জানতে চাইছিলেন, রাধিকার বাড়িতে কেউ যাচ্ছেন কি না। এখানেই শেষ নয়, অভিনেত্রীর বাড়ির নিরাপত্তারক্ষীর কাছেও ভিডিওটি পৌঁছে গিয়েছিল। ফলে একটি ফাঁস হওয়া ভিডিও কীভাবে একজন অভিনয়শিল্পীর ব্যক্তিগত জীবন ও নিরাপত্তার ওপর সরাসরি প্রভাব ফেলতে পারে, সেটিই নিজের অভিজ্ঞতা দিয়ে তুলে ধরেছেন রাধিকা।

সেই সময় একাই একটি ফ্ল্যাটে থাকতেন এই অভিনেত্রী। স্বাভাবিকভাবেই পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ আরও বেড়ে যায়। অচেনা কেউ বাড়ির সামনে চলে আসতে পারেন কিংবা তাকে অনুসরণ করতে পারেন এমন আশঙ্কাও তৈরি হয়েছিল তার মধ্যে। পরিস্থিতি সামাল দিতে শেষ পর্যন্ত নিজের টিমের সদস্যদের সঙ্গেও বিষয়টি নিয়ে খোলাখুলি কথা বলতে হয় তাকে।

রাধিকা জানান, তিনি তার গাড়িচালক ও স্পটবয়কে ডেকে পুরো পরিস্থিতির কথা জানিয়েছিলেন। তাদের কাছে পরিষ্কারভাবে জানতে চেয়েছিলেন, তারা যদি ওই দৃশ্য দেখে স্বচ্ছন্দ থাকেন এবং একই সঙ্গে তাকে নিরাপত্তা দিতে পারেন, তবেই যেন তারা তার সঙ্গে কাজ করেন। সৌভাগ্যক্রমে দুজনই তাকে আশ্বস্ত করেছিলেন এবং পাশে থাকার কথা জানিয়েছিলেন।

নিজের সেই অভিজ্ঞতা স্মরণ করে রাধিকা বলেন, আমি খুব ভয় পেয়েছিলাম। তার মতে, অন্তরঙ্গ দৃশ্যের শুটিংয়ের ক্ষেত্রে অভিনেতার সম্মতি ও নিরাপত্তার বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ক্যামেরার সামনে কোনো দৃশ্যে অভিনয় করার সিদ্ধান্ত নেওয়া এক বিষয়, আর সেই দৃশ্য অনুমতি ছাড়া বাইরে ছড়িয়ে পড়ার পর তার প্রভাব সামলানো সম্পূর্ণ ভিন্ন অভিজ্ঞতা।

রাধিকার কথায়, একজন অভিনয়শিল্পী ক্যামেরার সামনে যে দৃশ্যে সম্মতি দেন, সেটি নির্দিষ্ট কাজ ও নির্দিষ্ট প্রেক্ষাপটের জন্যই। সেই দৃশ্য অনুমতি ছাড়া ছড়িয়ে পড়লে তা শুধু পেশাগত বিষয় থাকে না, বরং ব্যক্তিগত জীবনেও সরাসরি প্রভাব ফেলে। তাই অন্তরঙ্গ দৃশ্যের ক্ষেত্রে শুটিং সেটে নিরাপত্তা, গোপনীয়তা ও পারস্পরিক সম্মতিকে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া প্রয়োজন বলে মনে করেন তিনি।

রাজনৈতিক পরিস্থিতির কারণেও কাজ ছেড়েছিলেন

একই সাক্ষাৎকারে নিজের অভিনয়জীবনের আরও একটি কঠিন সিদ্ধান্তের কথাও জানিয়েছেন রাধিকা আপ্তে। একসময় একটি কাজ করার জন্য তার বেশ আগ্রহ ছিল। কিন্তু তৎকালীন রাজনৈতিক পরিস্থিতি বিবেচনা করে শেষ পর্যন্ত সেই কাজ থেকে সরে দাঁড়ানোর সিদ্ধান্ত নেন তিনি।

অভিনেত্রীর আশঙ্কা ছিল, ওই কাজের কারণে তার পরিবারের ওপর নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে। ব্যক্তিগত নিরাপত্তা ও পরিবারের কথা চিন্তা করেই তখন কাজটি না করার সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন তিনি। তবে পরে নিজের সেই সিদ্ধান্ত নিয়ে তার মধ্যে একধরনের অনুশোচনাও তৈরি হয়েছিল বলে জানান রাধিকা।

এই সিদ্ধান্তের সময় নির্মাতা অনুরাগ কাশ্যপও তাকে ওই কাজ থেকে সরে থাকার পরামর্শ দিয়েছিলেন বলে জানিয়েছেন অভিনেত্রী। অর্থাৎ অভিনয়ের জগতে শুধু ক্যামেরার সামনে পারফরম্যান্স নয়, অনেক সময় ব্যক্তিগত জীবন, পরিবার ও পারিপার্শ্বিক পরিস্থিতিও একজন শিল্পীর সিদ্ধান্তকে প্রভাবিত করে রাধিকার অভিজ্ঞতায় সেটিও উঠে এসেছে।

মা হওয়ার পরও থামেনি অভিনয়

ব্যক্তিজীবন ও অভিনয়জীবনের ভারসাম্য নিয়েও গত কয়েক বছরে নতুনভাবে ভাবতে হয়েছে রাধিকাকে। সন্তান জন্মের পর দীর্ঘ কোনো বিরতিতে যাননি তিনি। বরং মাতৃত্বের নতুন অধ্যায়ের পাশাপাশি নিজের পেশাগত কাজও চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেছেন।

সন্তান জন্মের পর প্রথম কাজের পরিকল্পনার সময় সদ্যোজাতকে স্তন্যপান করানোর একটি ছবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে শেয়ার করেছিলেন রাধিকা। এর মাধ্যমে মাতৃত্ব এবং কাজ—দুই ভূমিকাকেই স্বাভাবিকভাবে দেখার বার্তা দিয়েছিলেন তিনি।

অভিনয়জীবনে নানা ধরনের চরিত্র ও চ্যালেঞ্জিং গল্পে কাজের জন্য পরিচিত রাধিকা আপ্তে। তার সাম্প্রতিক বক্তব্যে উঠে এসেছে অভিনয়ের নেপথ্যে থাকা কিছু বাস্তব অভিজ্ঞতা—যেখানে পর্দার দৃশ্যের বাইরেও একজন শিল্পীকে ব্যক্তিগত নিরাপত্তা, পরিবার, সামাজিক চাপ ও পেশাগত সিদ্ধান্তের নানা দিক সামলাতে হয়।