মঙ্গলবার, ১৮ আগস্ট, ২০২৬

‘কতটা খারাপ’ দেখতে ভিড়, চীনে অপ্রত্যাশিত বক্স অফিস সাফল্য ‘নিউ লাই’-এর


নিম্নমানের গ্রাফিকস, প্রযুক্তিগত ত্রুটি আর অদ্ভুত নির্মাণশৈলী- সব মিলিয়ে ব্যর্থ হওয়ার কথা ছিল অ্যানিমেশন সিনেমা ‘নিউ লাই’-এর। কিন্তু সিনেমাটির দুর্বলতাই শেষ পর্যন্ত হয়ে উঠেছে সবচেয়ে বড় প্রচারণা। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নেতিবাচক আলোচনা ও কৌতূহলকে কেন্দ্র করে চীনের প্রেক্ষাগৃহে দর্শকের ভিড় বাড়তে থাকে। ফলে মাত্র ১০ দিনে ৭ হাজার ৭০৫ ইউয়ান আয় করা সিনেমাটি পরে ১ কোটি ১৪ লাখ ইউয়ানের বেশি আয় করে চমকে দিয়েছে বক্স অফিসকে।

১৮ আগস্ট ২০২৬, ৮:৪৮ অপরাহ্ণ 

‘কতটা খারাপ’ দেখতে ভিড়, চীনে অপ্রত্যাশিত বক্স অফিস সাফল্য ‘নিউ লাই’-এর
  গুগল নিউজে ফলো করে আজকের প্রসঙ্গ এর সাথে থাকুন

চীনের বক্স অফিসে এবার আলোচনার জন্ম দিয়েছে এমন এক অ্যানিমেশন সিনেমা, যার সাফল্যের মূল কারণ সিনেমাটির ভালো মান নয়; বরং এটি কতটা খারাপ, তা নিজের চোখে দেখার দর্শকদের কৌতূহল।

স্বল্পবাজেটের অ্যানিমেশন সিনেমা ‘নিউ লাই’ একটি গরুর স্বপ্নকে কেন্দ্র করে নির্মিত। মুক্তির পর প্রথম ১০ দিনে সিনেমাটির আয় ছিল মাত্র ৭ হাজার ৭০৫ ইউয়ান। দর্শকদের মধ্যে সিনেমাটি নিয়ে আগ্রহও ছিল খুবই কম। তবে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সিনেমাটির নিম্নমানের গ্রাফিকস, প্রযুক্তিগত ত্রুটি এবং অদ্ভুত সব দৃশ্য নিয়ে রসিকতা শুরু হলে পরিস্থিতি দ্রুত বদলে যায়। নেতিবাচক আলোচনা ক্রমেই সিনেমাটির জন্য বিনা খরচের প্রচারণায় পরিণত হয়।

দর্শকদের মধ্যে তৈরি হয় অদ্ভুত এক কৌতূহল- সিনেমাটি আসলে কতটা খারাপ? সেই কৌতূহল থেকেই প্রেক্ষাগৃহে দর্শক বাড়তে শুরু করে। আর রাতারাতি বদলে যায় সিনেমাটির বক্স অফিসের চিত্র। ফলে স্বল্পবাজেটের ‘নিউ লাই’-এর আয় লাফিয়ে ছাড়িয়ে যায় ১ কোটি ১৪ লাখ ইউয়ান। কোনো বড় ধরনের প্রচারণা ছাড়াই সিনেমাটি বড় বাজেটের চলচ্চিত্রগুলোর সঙ্গে বক্স অফিসে পাল্লা দিতে শুরু করে।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একটি মন্তব্য সিনেমাটির প্রতি দর্শকদের আগ্রহ আরও বাড়িয়ে দেয়। এক দর্শক মন্তব্য করেন, সিনেমাটি দেখলে হয়তো ৮০ মিনিট আফসোস হবে, কিন্তু না দেখলে সারা জীবন আফসোস করতে হবে।

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ও উন্নত অ্যানিমেশন প্রযুক্তির যুগে ‘নিউ লাই’-এর এমন সাফল্যকে ব্যতিক্রমী ঘটনা হিসেবে দেখছেন অনেকে। সিনেমাটির প্রযুক্তিগত দুর্বলতা নিয়েই বরং দর্শকদের মধ্যে তৈরি হয়েছে এক ধরনের রসিকতা। কেউ কেউ এটিকে ‘খাঁটি হাতে তৈরি কারুশিল্প’ বলেও অভিহিত করেছেন।

সিনেমাটির জনপ্রিয়তা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে বদলে যায় প্রচারণার চিত্রও। শুরুতে সিনেমাটির পোস্টার ও প্রচারসামগ্রীর মান ছিল বেশ নিম্নমানের। কিন্তু হঠাৎ করে দর্শকের চাহিদা বেড়ে যাওয়ায় বিভিন্ন প্রেক্ষাগৃহে অতিরিক্ত শোর ব্যবস্থা করতে হয়। কোথাও কোথাও হলের কর্মীরা কাগজ ও রং ব্যবহার করে নিজেরাই হাতে পোস্টার এঁকে তা প্রেক্ষাগৃহের সামনে টাঙিয়ে দেন। বড় বাজেটের সিনেমার ঝকঝকে পোস্টারের পাশে এসব হাতে আঁকা পোস্টারও দর্শকদের কাছে বাড়তি আকর্ষণের বিষয় হয়ে ওঠে।

‘নিউ লাই’-এর সাফল্যের সঙ্গে চীনের শেয়ারবাজারের একটি প্রতীকী যোগসূত্রও খুঁজে দেখছেন কিছু বিশ্লেষক। চীনা ভাষায় ‘নিউ’ শব্দটির সঙ্গে ‘ষাঁড়’ এবং চাঙা শেয়ারবাজারের প্রতীকের একটি সম্পর্ক রয়েছে। দেশটির অর্থনীতিতে নানা চাপের মধ্যে শেয়ারবাজার ঘুরে দাঁড়ানোর প্রত্যাশাও সিনেমাটির প্রতি মানুষের আগ্রহ বাড়াতে ভূমিকা রেখে থাকতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে। তবে সিনেমাটির অপ্রত্যাশিত সাফল্য নিয়ে সমালোচনাও রয়েছে। রাষ্ট্রায়ত্ত সংবাদমাধ্যম বেইজিং নিউজ-এর এক কলামে আশঙ্কা প্রকাশ করা হয়েছে, শুধু ব্যবসায়িক লাভের আশায় অতিরিক্ত নিম্নমানের সিনেমা প্রদর্শন করা হলে দীর্ঘমেয়াদে দর্শকদের মধ্যে প্রেক্ষাগৃহের প্রতি আস্থা কমে যেতে পারে। তাই সিনেমা হল কর্তৃপক্ষকে এ ধরনের ক্ষেত্রে দায়িত্বশীল ভূমিকা রাখার আহ্বান জানানো হয়েছে।

সব মিলিয়ে প্রায় দর্শকহীনভাবে যাত্রা শুরু করা ‘নিউ লাই’ এখন চীনের বক্স অফিসে পরিণত হয়েছে এক অপ্রত্যাশিত সাফল্যের গল্পে। সিনেমাটি ভালো না খারাপ- এই বিতর্কের চেয়েও বড় হয়ে উঠেছে দর্শকদের কৌতূহল। সিনেমাটি আসলে কতটা জঘন্য - সেই উত্তর জানতেই এখন প্রেক্ষাগৃহে ছুটছেন দর্শকরা।