মঙ্গলবার, ১৪ এপ্রিল, ২০২৬

কর্মবিরতি সাময়িক স্থগিত, আজ থেকে সরকারি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে নিয়মমতো বার্ষিক পরীক্ষা


শিক্ষার্থীদের ক্ষতি এড়াতে কর্মবিরতি সাময়িকভাবে স্থগিত ঘোষণা করেছে সরকারি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের আন্দোলনরত শিক্ষকরা। ফলে আজ বুধবার (৩ ডিসেম্বর) থেকে দেশের সব সরকারি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে নিয়মমতো বার্ষিক পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে।

৩ ডিসেম্বর ২০২৫, ১০:৩৯ পূর্বাহ্ণ 

কর্মবিরতি সাময়িক স্থগিত, আজ থেকে সরকারি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে নিয়মমতো বার্ষিক পরীক্ষা
  গুগল নিউজে ফলো করে আজকের প্রসঙ্গ এর সাথে থাকুন

চার দফা দাবিতে কর্মবিরতিতে থাকা সরকারি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকরা তাদের আন্দোলন সাময়িকভাবে স্থগিত করেছেন। এর ফলে আজ বুধবার (৩ ডিসেম্বর) থেকে সব সরকারি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে বার্ষিক পরীক্ষা যথারীতি অনুষ্ঠিত হবে। মঙ্গলবার রাতে বাংলাদেশ সরকারি মাধ্যমিক শিক্ষক সমিতির পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ ঘোষণা দেওয়া হয়।

সমিতি জানিয়েছে, শিক্ষার্থীরা যাতে কোনোভাবে ক্ষতিগ্রস্ত না হয়—এ বিষয়টি বিবেচনায় এনে দায়িত্ববোধের জায়গা থেকে কর্মবিরতি স্থগিতের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। তারা বলেছে, পরীক্ষার অনিশ্চয়তায় শিক্ষার্থী ও অভিভাবকরা যে মানসিক চাপের মধ্যে ছিলেন, সেটি বিবেচনা করেই শিক্ষা কার্যক্রমে ফিরে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

আজ বুধবার শুরু হওয়া বার্ষিক পরীক্ষা সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করতে সংশ্লিষ্ট সবাইকে সহযোগিতার আহ্বান জানিয়েছে শিক্ষক সমিতি।

গত সোমবার (১ ডিসেম্বর) থেকে আর্থিক সুবিধা ও পদোন্নতিসহ চার দফা দাবিতে সরকারি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকরা কর্মবিরতি পালন করছিলেন। এতে ঢাকাসহ দেশের অধিকাংশ সরকারি বিদ্যালয়ে টানা দুই দিন বার্ষিক পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়নি, যা অভিভাবকদের মধ্যে ক্ষোভ সৃষ্টি করে।

শিক্ষকদের চার দফা দাবি:

১. সহকারী শিক্ষক পদকে বিসিএস (সাধারণ শিক্ষা) ক্যাডারভুক্ত করা, নবম গ্রেড প্রদানসহ পদসোপান ও মাধ্যমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের গেজেট প্রকাশ।
২. বিদ্যালয় ও পরিদর্শন শাখায় বিভিন্ন শূন্য পদে শিক্ষক নিয়োগ, পদোন্নতি ও পদায়ন দ্রুত বাস্তবায়ন।
৩. সুপ্রিম কোর্টের রায়ের আলোকে বকেয়া টাইম স্কেল ও সিলেকশন গ্রেড অনুমোদন।
৪. ২০১৫ সালের মতো সহকারী শিক্ষকদের ২–৩টি ইনক্রিমেন্টসহ অগ্রিম বেতন-সুবিধা বহাল রেখে গেজেট প্রকাশ।

দেশে বর্তমানে প্রায় ৭০০ সরকারি মাধ্যমিক বিদ্যালয় রয়েছে। কর্মবিরতির কারণে বিশেষ করে পুরোনো সরকারি বিদ্যালয়গুলোর পরীক্ষায় বেশি বিঘ্ন ঘটে, যা শিক্ষা ব্যবস্থার ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলেছিল।