মঙ্গলবার, ১৪ এপ্রিল, ২০২৬

বিদেশে উচ্চশিক্ষায় শিক্ষার্থীদের জন্য ১০ লাখ টাকা পর্যন্ত ঋণ সুবিধা দিতে প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশ


বিদেশে উচ্চশিক্ষার উদ্দেশ্যে যাওয়া শিক্ষার্থীদের সহায়তায় সর্বোচ্চ ১০ লাখ টাকা পর্যন্ত ব্যাংক গ্যারান্টি বা ঋণ সুবিধা দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। এ ঋণ সরাসরি নগদ দেওয়া হবে না; বরং টিউশন ফি বা প্রয়োজনীয় খরচ পরিশোধে সহায়তা হিসেবে ব্যবহৃত হবে।

২৪ মার্চ ২০২৬, ৮:৩১ অপরাহ্ণ 

বিদেশে উচ্চশিক্ষায় শিক্ষার্থীদের জন্য ১০ লাখ টাকা পর্যন্ত ঋণ সুবিধা দিতে প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশ
  গুগল নিউজে ফলো করে আজকের প্রসঙ্গ এর সাথে থাকুন

উচ্চশিক্ষার জন্য বিদেশগামী শিক্ষার্থীদের আর্থিক সহায়তা দিতে নতুন উদ্যোগ নিচ্ছে সরকার। এ লক্ষ্যে সর্বোচ্চ ১০ লাখ টাকা পর্যন্ত ব্যাংক গ্যারান্টি বা ঋণ সুবিধা দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। মঙ্গলবার প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠক শেষে এ তথ্য জানান প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান প্রতিমন্ত্রী মো. নুরুল হক নুর

প্রতিমন্ত্রী বলেন, কোরিয়া, জাপান, চীন ও জার্মানিসহ বিভিন্ন দেশে উচ্চশিক্ষার জন্য যাওয়া শিক্ষার্থীরা এই সুবিধা পাবেন। প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা অনুযায়ী, প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে প্রবাসী কল্যাণ ব্যাংক থেকে এ ঋণ দেওয়া হবে।

তিনি জানান, এই ঋণ নগদ অর্থ হিসেবে শিক্ষার্থীদের হাতে দেওয়া হবে না। বরং বিদেশে পড়াশোনার জন্য প্রয়োজনীয় টিউশন ফি বা সংশ্লিষ্ট খরচ পরিশোধে সরাসরি সহায়তা হিসেবে ব্যবহার করা যাবে। এতে শিক্ষার্থীরা বিদেশে যেতে পারবে, কিন্তু অন্য কোনো কাজে অর্থ ব্যয় করার সুযোগ থাকবে না।

প্রতিমন্ত্রী আরও বলেন, সাধারণ ব্যাংকগুলো থেকে ঋণ নিতে গেলে গ্যারান্টরসহ নানা জটিলতা থাকে। অথচ অনেক শিক্ষার্থী উচ্চশিক্ষার জন্য বিদেশে গিয়ে পরবর্তীতে সেখানেই কর্মসংস্থানের সঙ্গে যুক্ত হয়। এতে একদিকে দেশের শিক্ষিত জনশক্তি আন্তর্জাতিক শ্রমবাজারে যুক্ত হয়, অন্যদিকে দেশে রেমিট্যান্সও আসে। এই বিষয়টি বিবেচনায় রেখেই গ্যারান্টর ছাড়াই ঋণ দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।  জনশক্তি রপ্তানি বৃদ্ধি এবং নির্বাচনী ইশতেহার বাস্তবায়নের লক্ষ্যে প্রধানমন্ত্রী একটি সুনির্দিষ্ট কর্মপরিকল্পনা দিয়েছিলেন। সেই পরিকল্পনার অংশ হিসেবেই বিদেশে উচ্চশিক্ষায় আগ্রহী শিক্ষার্থীদের জন্য এই ঋণ সুবিধা চালুর বিষয়টি আলোচনায় এসেছে।

মধ্যপ্রাচ্যের চলমান যুদ্ধ পরিস্থিতি প্রসঙ্গে এক প্রশ্নের জবাবে প্রতিমন্ত্রী বলেন, যুদ্ধের কারণে সাময়িক কিছু সমস্যা হলেও বাংলাদেশের শ্রমবাজার বা রেমিট্যান্সে দীর্ঘমেয়াদি নেতিবাচক প্রভাব পড়বে না। বরং যুদ্ধ শেষে পুনর্গঠন কার্যক্রমে বিপুলসংখ্যক জনশক্তির চাহিদা তৈরি হবে, যেখানে বাংলাদেশের কর্মীদের বড় সুযোগ রয়েছে।

শ্রমবাজারে সিন্ডিকেট ও উচ্চ অভিবাসন ব্যয় কমানোর বিষয়ে তিনি বলেন, সরকারের ১৮০ দিনের কর্মপরিকল্পনার অংশ হিসেবে অভিবাসন ব্যয় নির্দিষ্ট করে দেওয়ার কাজ চলছে। এটি চূড়ান্ত হলে অতিরিক্ত অর্থ আদায় বন্ধ হবে বলে আশা করা হচ্ছে। পাশাপাশি মালয়েশিয়া ও ভিয়েতনামের শ্রমবাজার দ্রুত চালুর বিষয়ে সরকারি পর্যায়ে আলোচনা চলছে এবং শিগগিরই ইতিবাচক অগ্রগতি আসবে বলে জানান তিনি।

‘জাপান সেল’ গঠন
জাপান ও ইউরোপের শ্রমবাজার সম্প্রসারণে নতুন উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলেও জানান প্রতিমন্ত্রী। জাপানে এক লাখ কর্মী পাঠানোর লক্ষ্যে স্বাক্ষরিত সমঝোতা স্মারক দ্রুত বাস্তবায়নের জন্য ‘জাপান সেল’ গঠন করা হয়েছে। এছাড়া ইউরোপের যেসব দেশের ভিসার জন্য আগে ভারতে যেতে হতো, সেসব দেশের কনস্যুলার সেবা যাতে ঢাকাতেই পাওয়া যায় সে বিষয়ে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়কে ব্যবস্থা নিতে নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী। ইতোমধ্যে কয়েকটি দেশ বাংলাদেশে কনস্যুলার সেবা দেওয়া শুরু করেছে।

দক্ষিণ কোরিয়াপ্রবাসী বাংলাদেশিদের সমস্যা নিয়েও সরকার কাজ করছে বলে জানান প্রতিমন্ত্রী। সম্প্রতি কারিগরি কারণে দক্ষিণ কোরিয়া থেকে বাংলাদেশগামী ফ্লাইট সংক্রান্ত যে জটিলতা তৈরি হয়েছিল, তা প্রধানমন্ত্রীর নজরে আনা হয়েছে এবং প্রবাসীদের যাতায়াত নির্বিঘ্ন করতে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি সরকারের উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ড সাধারণ মানুষের কাছে তুলে ধরতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও মূলধারার গণমাধ্যমে মন্ত্রণালয়গুলোর সক্রিয়তা বাড়ানোর ওপরও গুরুত্বারোপ করা হয়েছে।