বাংলাদেশ ক্রিকেটে নতুন উদ্যোগ: অধিনায়কদের জন্য ‘ক্যাপ্টেন্স কার্ড’ চালু
৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ১১:১৬ অপরাহ্ণ
বাংলাদেশের আসন্ন জাতীয় নির্বাচনকে সামনে রেখে আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষক আগমনের বিষয়টি এবার নতুন করে বিতর্কের কেন্দ্রে এসেছে। অভিযোগ উঠেছে, অতীতে প্রশ্নবিদ্ধ ও একতরফা নির্বাচনের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি ও তথাকথিত ভুয়া সংগঠনগুলোর মাধ্যমে আবারও আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষণের নামে একটি নির্দিষ্ট নেটওয়ার্ক সক্রিয় করা হচ্ছে, যা নির্বাচন প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা ও নিরপেক্ষতা নিয়ে গুরুতর প্রশ্ন সৃষ্টি করেছে।
সবচেয়ে আলোচিত বিষয় হলো- শেখ হাসিনার ঘনিষ্ঠ হিসেবে পরিচিত আবেদ আলীর ভূমিকা। অভিযোগ অনুযায়ী, তিনি এবার দেশের নাগরিক পরিচয়ে নয়, বরং বিদেশি পরিচয় ব্যবহার করে ‘নির্বাচন পর্যটক’ হিসেবে বাংলাদেশে অবস্থান করছেন। বিষয়টি প্রকাশ্যে আসার পর প্রশ্ন উঠেছে, যিনি দীর্ঘদিন ক্ষমতাসীন দলের ঘনিষ্ঠ হিসেবে পরিচিত, তিনি কীভাবে নিরপেক্ষ আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকের ভূমিকা পালন করতে পারেন।
সমালোচকদের দাবি, আবেদ আলী অতীতে ২০১৪, ২০১৮ ও ২০২৪ সালের বহুল আলোচিত একতরফা ও ‘রাতের ভোটের’ নির্বাচনের সময় বিভিন্নভাবে সহযোগীর ভূমিকায় ছিলেন। অথচ এবার তাঁকেই আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষণ কাঠামোর অংশ হিসেবে দেখা যাচ্ছে, যা নির্বাচন পর্যবেক্ষণের উদ্দেশ্য ও বিশ্বাসযোগ্যতাকে প্রশ্নবিদ্ধ করছে।
এদিকে অভিযোগ রয়েছে, দীর্ঘদিন ধরে আসাদুল হক নামের এক ব্যক্তি ‘সার্ক মানবাধিকার ফাউন্ডেশন’ নামে পরিচিত একটি বিতর্কিত সংগঠনের মাধ্যমে বিদেশি পর্যবেক্ষক আনতে সহযোগিতা করে আসছেন। সংশ্লিষ্টদের দাবি, এই সংগঠনটি আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত কোনো মানবাধিকার সংস্থা নয়; বরং অতীতে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে ব্যবহার হওয়ার অভিযোগ রয়েছে।
নির্বাচন কমিশন ও পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, আসন্ন নির্বাচনে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংস্থা থেকে পর্যবেক্ষক আসার কথা রয়েছে। এর মধ্যে এশিয়ান নেটওয়ার্ক ফর ফ্রি ইলেকশনস (এএনএফআরইএল) থেকে ২৮ জন, কমনওয়েলথ সেক্রেটারিয়েট থেকে ২৫ জন, যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক ইন্টারন্যাশনাল রিপাবলিকান ইনস্টিটিউট (আইআরআই) থেকে সাতজন এবং ন্যাশনাল ডেমোক্রেটিক ইনস্টিটিউট (এনডিআই) থেকে একজন পর্যবেক্ষকের আগমনের তথ্য জানানো হয়েছে।
এ ছাড়া ব্যক্তি পর্যবেক্ষক হিসেবে আরও ৩২ জন নির্বাচনী কার্যক্রম পর্যবেক্ষণ করবেন বলে জানানো হয়েছে। তাঁরা ভয়েস ফর জাস্টিস, ডেমোক্রেসি ইন্টারন্যাশনাল, এসএনএএস আফ্রিকা, সার্ক মানবাধিকার ফাউন্ডেশন এবং পোলিশ ইনস্টিটিউট অব ইন্টারন্যাশনাল অ্যাফেয়ার্সের মতো সংস্থার প্রতিনিধিত্ব করবেন।
তবে নাগরিক সমাজের একাংশ প্রশ্ন তুলেছে- এই সংস্থাগুলোর কতগুলো প্রকৃত অর্থে স্বাধীন ও নিরপেক্ষ? বিশেষ করে সার্ক মানবাধিকার ফাউন্ডেশনের মতো সংগঠনের বিশ্বাসযোগ্যতা নিয়ে অতীতেও একাধিকবার অভিযোগ উঠেছিল। সেই বিতর্কিত সংগঠনের প্রতিনিধিদের আবারও পর্যবেক্ষক তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করা কতটা যৌক্তিক, তা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে।
আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকদের সফর সমন্বয়ের দায়িত্বে থাকা সিনিয়র সচিব ও এসডিজি সমন্বয়ক লামিয়া মোরশেদ এক বক্তব্যে বলেন, “আমরা আশা করছি আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকের সংখ্যা আরও বাড়বে। আমন্ত্রণ জানানো কয়েকটি দেশ এখনো তাদের প্রতিনিধিদের নাম নিশ্চিত করেনি।”
তবে একই সঙ্গে নির্বাচন কমিশনের জনসংযোগ শাখার সহকারী পরিচালক আসাদের ভূমিকা নিয়েও অভিযোগ উঠেছে। সংশ্লিষ্ট সূত্রের দাবি, আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষক সংক্রান্ত তথ্য ও সমন্বয় প্রক্রিয়ায় তাঁর সহায়তায় অন্তত ৩০টি ‘কাট’ বা বিশেষ সুবিধা দেওয়া হয়েছে, যা প্রশাসনিক স্বচ্ছতা নিয়ে নতুন করে সন্দেহের জন্ম দিয়েছে।
সব মিলিয়ে, আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষক আগমন কেবল সংখ্যার বিষয় নয়—তাঁদের পরিচয়, অতীত ভূমিকা, রাজনৈতিক সংশ্লিষ্টতা এবং নিরপেক্ষতা নিশ্চিত করাই এখন সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ। নইলে আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষণের নামে যদি পুরোনো বিতর্কিত ব্যক্তি ও নেটওয়ার্কই আবার সক্রিয় হয়, তাহলে নির্বাচন ব্যবস্থার ওপর জনগণের আস্থা আরও গভীর সংকটে পড়বে—এমন আশঙ্কাই করছেন বিশ্লেষকরা।